

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে সাঁতারে দেশের ভরসা বেদান্ত মাধবন। ছবি - Google
১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার ফারহান কুরেশিকে মনে আছে? যিনি সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সেই আর মাধবন পর্দায় ছিলেন একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ছাত্র। যাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে তাঁর কথামতো ইঞ্জিনিয়ারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নিন। কিন্তু ফারহান চেয়েছিলেন ওয়ার্ল্ড-লাইফ ফটোগ্রাফার হতে। সেই নিয়ে পরিবারে বাবা ও ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
তারপর আমির খান ওরফে রাঞ্চোর পরামর্শে ফারহান বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন তিনি নিজের পছন্দের মতো পেশা বেছে নিলে তিনি নিজে যেমন খুশী হবেন, তেমনি সকলের জন্য সেটা ভাল হবে। কারণ জোর করে কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না।
সেই মাধবন তাঁর ছেলে বেদান্তকেও বাস্তবে সেইভাবে তৈরি করেছেন। বাবা বিখ্যাত চিত্রতারকা, তিনি চাইলে ছেলেকেও সমানভাবে এই রুপালি জগতে নামাতে পারতেন। কিন্তু ছেলের পছন্দের সাঁতারে দিয়েছিলেন বলেই বেদান্ত আজ দেশের গর্ব। তিনি এবার এশিয়ান গেমসে ভারতীয় সাঁতার দলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান সদস্য। ২১ বছরের বেদান্ত এশিয়ান গেমসে ভারতীয় সুইমিং টিমের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফ্রিস্টাইল সাঁতারু বেদান্ত জাপানের আইচি-নাগোয়া গেমসের সুইমিং পুলে আলোড়ন তুলবেন, এই অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা আর মাধবন ও মা সরিতা বিরজে। অন্যদের মতো তাঁরা কখনও বেদান্তকে জোর করেননি সিনেমায় নামার জন্য। বরং ছেলের মধ্যে খেলাধুলো, বলা ভাল সাঁতারের প্রতি আকর্ষণ দেখে সবসময় উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন ওই ইভেন্টে সাফল্য পেতে। আর তার ফলে বেদান্ত ফ্রিস্টাইল সাঁতারে নিজের জাত চেনাতে পেরেছেন। ইতিমধ্যেই নানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে পদক জিতে নজর কেড়েছেন। ১২ সদস্যের ভারতীয় সুইমিং দলে অভিজ্ঞ অলিম্পিয়ান শ্রীহরি নটরাজ, সজন প্রকাশের পাশে বেদান্তকেও পদকের লক্ষ্যে নামতে দেখা যাবে।
বেদান্ত সাধারণত লং ডিসটান্স সুইমার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু আইচি-নাগোয়াতে সেটা সম্ভব হচ্ছে না দেশের সুইমিং টিমের স্বার্থে। আর সেই কারণে বেদান্তকে নিজের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে যেমন ভারতীয় দলের ডায়াটেশিয়ানের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষ প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। বেদান্ত অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘গত কয়েকমাস ধরে ভিন্ন ধরনের অনুশীলন করছি। কারণ আমি মূলত বেশি দুরত্বের সাঁতারু, কিন্তু গেমসে আমি নামব ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্টে, তাই পায়ের সক্ষমতা বাড়াতে, ওয়েট ট্রেনিংও করতে হচ্ছে। বিদেশী কোচ এই বিষয়ে আমাদের সহায়তা করছেন।’’
এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে নামার চাপ নিতে পারবেন? যেখানে আপনার বাবা একজন নামী অভিনেতা? সেই নিয়ে সপ্রতিভ বেদান্ত জানিয়েছেন, বাবা আমাকে তাঁর ছায়ার বাইরে গিয়ে মানুষ করেছেন, সেই মতো আমি তৈরিও হয়েছি। তিনি আমার ওপর কোনওদিন চাপ দেননি। তিনি বলেছেন, ভালবেসে আমি যা করতে চাই, সেটাই করব। আর বাবা ও মায়ের প্রভাব আমার জীবনে রয়েছে, কিন্তু তাঁদের কথা ভেবে আমি জলে নামি না। তখন আমি দেশের সন্তান। আর আমার লক্ষ্য থাকে দেশের হয়ে পদক অর্জন করা। আর এটাও মনে করি, তারার দেশে না পৌঁছালে আমি কোনওদিনই চাঁদে পা রাখতে পারব না। তাই এশিয়ান গেমসে ভাল ফলের বিষয়ে আমি আশাবাদী।’’
মাধবন যাঁর বাবা, তাঁর ছেলে তো এমনই হবে। আর যাই হোক পর্দার ফারহান বাস্তব জীবনেও একই আদর্শের মানুষ, এটাই মাধবনকে বাকিদের থেকে ব্যতিক্রম করেছে সন্দেহ নেই।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
