৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
মহাকাশের জানালায় হঠাৎ ধরা দিল অন্য পৃথিবী

মহাকাশে ধরা পড়ল পৃথিবীর শিল্প। ছবি - Google

মহাকাশের জানালায় হঠাৎ ধরা দিল অন্য পৃথিবী

calender icon 2 ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

প্যাটাগোনিয়ার বরফে মুগ্ধ নাসার নভশ্চর

ISS-এর কিউপোলা থেকে প্যাটাগোনিয়ার ছবি, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকেই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন জেসিকা মেয়ার। ‘Earth Art’ নাম মেয়ারই দিয়েছেন, বরফে ঢাকা ভূপ্রকৃতির অদ্ভুত আকৃতি তাঁকে মুগ্ধ করে। Nikon Z9 + 400mm লেন্স, টেলিফোটো লেন্সে বরফক্ষেত্রের সূক্ষ্ম ভূপ্রকৃতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। নর্দার্ন প্যাটাগোনিয়া আইসফিল্ডস, চিলি ও আর্জেন্টিনার আন্দিজ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরফাঞ্চল; প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই উত্তর বরফক্ষেত্র। শুধু সৌন্দর্য নয়, বিজ্ঞানও! মহাকাশ থেকে এমন ছবি হিমবাহের পরিবর্তন ও বরফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

মূল বিষয়

পৃথিবী থেকে যে দৃশ্য সাধারণ চোখে নিছক বরফ আর পাহাড়ের বিস্তার, মহাকাশ থেকে তাকালে সেটিই যেন হয়ে উঠল বিশাল কোনও শিল্পীর ক্যানভাস। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কিউপোলা থেকে প্যাটাগোনিয়ার বরফঢাকা ভূপ্রকৃতির দিকে তাকিয়ে এমনই দৃশ্যে মুগ্ধ হলেন নাসার নভশ্চর জেসিকা মেয়ার। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়ল দক্ষিণ আমেরিকার নর্দার্ন প্যাটাগোনিয়া আইসফিল্ডসের অসাধারণ ভূপ্রকৃতি। সেই ছবিকেই মেয়ার বলেছেন ‘Earth Art’, পৃথিবীর শিল্পকর্ম।

বরফের উপর প্রকৃতির নিজস্ব আঁকিবুঁকি

ছবিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নর্দার্ন প্যাটাগোনিয়া আইসফিল্ডসের বিচিত্র টপোগ্রাফি। সাদা বরফের বিস্তীর্ণ চাদরের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা আকৃতি ও রেখা। কোথাও বরফের স্তর, কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা হিমবাহ, কোথাও আবার আলো-ছায়ার খেলা। মহাকাশের উচ্চতা থেকে সেই ভূপ্রকৃতিই এমন এক নকশা তৈরি করেছে, যা দেখে মনে হতে পারে কোনও শিল্পী নিখুঁত হাতে এঁকেছেন বিশাল একটি বিমূর্ত ছবি।

25 সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করে মেয়ার জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কিউপোলায় থাকাকালীন প্যাটাগোনিয়ার এই ভূপ্রকৃতি তাঁর নজর কেড়ে নেয়। পৃথিবীর পাশাপাশি পৃথিবীর বাইরেও অনুসন্ধানের মতো অসংখ্য আশ্চর্য জায়গা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Nikon Z9, 400mm লেন্সে বন্দি বিরল দৃশ্য

এই অসাধারণ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে মেয়ার ব্যবহার করেছেন Nikon Z9 ক্যামেরা এবং 400mm লেন্স। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর নির্দিষ্ট ভূপ্রকৃতিকে তুলতে টেলিফোটো লেন্সের ব্যবহার ছবিটির সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলিকে সামনে এনেছে। ফলে প্যাটাগোনিয়ার বরফক্ষেত্রের আকৃতি ও প্রাকৃতিক বিন্যাস আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্যাটাগোনিয়ার বরফক্ষেত্র কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

আরও পড়ুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির হাত ধরে পর্যটনের নতুন দিগন্ত
মার্কিন বিচারবিভাগের ‘হল অফ ফেম’-এ ১৯ বছরের বঙ্গসন্তান!
যুবরাজকে বিয়ের জন্য স্টেরিলাইজেশন করতে বাধ্য হয়েছিলেন রত্না!
প্রথম দু’জন জানতেনই না যে তাঁরা ‘দলাই লামা’!

দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে আর্জেন্টিনা ও চিলি জুড়ে বিস্তৃত প্যাটাগোনিয়া তার পাহাড়, হিমবাহ, হ্রদ ও বরফাঞ্চলের জন্য পরিচিত। নর্দার্ন প্যাটাগোনিয়া আইসফিল্ডস সেই অঞ্চলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বরফাঞ্চল। মাটির কাছ থেকে এই ভূপ্রকৃতির বিশালতা বোঝা কঠিন। মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে বরফ, পাহাড় ও হিমবাহের পারস্পরিক বিন্যাস একসঙ্গে ধরা পড়ায় অঞ্চলটির ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু সৌন্দর্য নয়, বিজ্ঞানেরও জানালা

মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি শুধু চোখের আনন্দের জন্য নয়। বরফক্ষেত্র ও হিমবাহের মতো ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণেও এই ধরনের ছবি গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের ব্যবধানে তোলা ছবি তুলনা করে বিজ্ঞানীরা বরফের বিস্তার, ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ফলে নভশ্চরের ক্যামেরায় ধরা একটি সুন্দর ছবি অনেক সময় পৃথিবীর পরিবর্তন বোঝার তথ্যও বহন করে।

মহাকাশ থেকে পৃথিবী

মহাকাশ থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তের ছবি তুলে আগেও নজর কেড়েছেন জেসিকা মেয়ার। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা তাঁর ছবিগুলিতে কখনও পৃথিবীর রাতের আলো, কখনও মেঘের বিস্তার, আবার কখনও প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য ধরা পড়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল প্যাটাগোনিয়ার বরফক্ষেত্র।

ছবিটি প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমেও তা নিয়ে প্রশংসা শুরু হয়। কেউ প্যাটাগোনিয়ার বরফক্ষেত্রকে মহাকাশ থেকে দেখে ‘ফ্রিজারে রাখা টপোগ্রাফিক মানচিত্র’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, কেউ আবার শুধু লিখেছেন, ‘What a view!’

পৃথিবী যখন নিজেই শিল্পী

মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে মানুষের তৈরি সীমানা, শহর কিংবা রাস্তার চেনা হিসাব অনেকটাই হারিয়ে যায়। সামনে থাকে শুধু প্রকৃতির বিশাল ক্যানভাস। প্যাটাগোনিয়ার এই ছবি যেন তারই আরেকটি প্রমাণ। বরফ আর পাহাড়ের অসংখ্য রেখা মিলে তৈরি করেছে এমন এক ছবি, যার কোনও শিল্পী নেই, তবু শিল্পের ছাপ স্পষ্ট।

জেসিকা মেয়ার তাই যে নামটি দিয়েছেন, সেটিই হয়তো এই ছবির সবচেয়ে সহজ পরিচয়, ‘Earth Art’। মহাকাশের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী, যেখানে পৃথিবী নিজেই যেন তার শিল্পী।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
সৌমালী চক্রবর্তী
সৌমালী চক্রবর্তী

2016 সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক। 2020 থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে The Fourth Axis বাংলায় কর্মরত। শখ বলতে সময় পেলে সমুদ্রের কাছে যাওয়া।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য