mukesh
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬
শচীনদের দেখানো পথে মুকেশ
বিশ্বকাপের মঞ্চে একবার শচীন তেন্ডুলকার বাবাকে হারিয়ে কেনিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছিলেন। রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে একবার বিরাট কোহলি তাঁর বাবাকে হারিয়েও দিল্লির হয়ে খেলে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। এরকম বহু নজির আছে যেখানে বাবা কিংবা মাকে শেষ বিদায় জানিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তারকা পুত্ররা। এই তো কিছুদিন আগেও রিঙ্কু সিং বাবাকে বিদায় জানিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে এসে গিয়েছিলেন। তিনি হয়তো সেই ম্যাচ খেলেননি, কিন্তু প্রিয় জনকে বিদায় জানিয়ে দলের জন্য আত্মত্যাগের এই নিদর্শনগুলোই প্রমাণ করে সবার ওপর নিজের কাজটাই বড়।
সতীর্থের মাকে দেখতে ধোনি
এবার তেমনি দেখা গেল আইপিএলের মাঠে। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন বোলার মুকেশ চৌধুরী। যিনি মুম্বইয়ের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে মাকে হারিয়েও দলের জন্য থেকে অপরূপ এক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। মুকেশ মহারাষ্ট্রের ক্রিকেটার, আর আইপিএল ম্যাচে তিনি এই নজির দেখিয়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেই। ম্যাচটি চেন্নাই জিতেছে। মুকেশ ৩১ রান দিয়ে এক উইকেট পেয়েছেন। তার চেয়েও বড় বিষয় হল, তিনি মায়ের শেষ কৃত্য সেরেই চেন্নাই শিবিরে চলে এসেছেন। তাঁকে দেখে দলের সতীর্থরাও বিস্মিত। এমনকী মাহিন্দ্র সিং ধোনি পর্যন্ত মুকেশের এই দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখে মুগ্ধ। তিনি সারাক্ষণ ছোট ভাইয়ের মতো মুকেশকে আগলে রেখেছেন। দলের অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড জানিয়েছেন, মুকেশ বুঝতে পেরেছে দলে তাঁর প্রয়োজন রয়েছে। তাই মায়ের শেষ কাজ করেই ও আমাদের শিবিরে যোগ দিয়েছে।
মা ছিলেন মুকেশের প্রেরণা
এমন ঘটনায় সাধারণত যে কোনও খেলোয়াড় মুষড়ে পড়েন। সেটি মুকেশের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। তিনি মা বলতে অজ্ঞান ছিলেন। মা প্রেম দেবী ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রেরণা ছিলেন। মাকে হারিয়ে যে কোনও সন্তান দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়। কিন্তু নিজের ফোকাস নড়তে দেননি এই পেসার।
চেন্নাই থেকেই শুরু মুকেশের
চেন্নাই সুপার কিংস থেকেই আইপিএলে শুরু করেন। এই দলের হয়ে চার মরশুম কাটিয়ে দিলেন মুকেশ। ২০২২ সালে যোগ দিলেও ২০২৪ সালে এসে দলের হয়ে নিয়মিত হন। ২০২৫ সালে যদিও খানিক ছন্দপতন ঘটে। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি আবারও সহজাত ছন্দে ফিরেছেন। কিন্তু এমন একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা মুকেশকে চেন্নাই শিবিরে কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিল সন্দেহ নেই।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।