

বাংলায় বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। ছবি - Google
নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাবে ৩১টি সংস্থার নির্মাণকাজ ও ডেটা সেন্টার চালুর মাধ্যমে বাংলায় হাজার হাজার নতুন আইটি কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হচ্ছে, যা রাজ্যের ‘মেধা পাচার’ আটকাতে সাহায্য করবে; একই সঙ্গে খনি খননকে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে আইআইটি খড়্গপুরে এআই-নির্ভর বিশেষ উৎকর্ষ কেন্দ্রের সূচনা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। একদিকে কলকাতার উপকণ্ঠে নিউ টাউনের 'বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাব'-এ জোরকদমে এগোচ্ছে আইটি ও ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী খনি শিল্পকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ছোঁয়ায় আধুনিক করতে মাঠে নেমেছে আইআইটি খড়্গপুর। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভারী শিল্প—সব মিলিয়ে রাজ্যের বিজ্ঞান ও কারিগরি ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।
সরকারি লিজ নেওয়া জমিতে মূল প্রকল্প আটকে থাকলে, এবার শর্তসাপেক্ষে অন্য প্রকল্পের অনুমতি দিতে চলেছে প্রশাসন। তবে একটাই স্পষ্ট শর্ত— তৈরি করতে হবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। সিলিকন ভ্যালি হাবে প্রস্তাবিত আদানি হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই নীতির কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রশাসনের নতুন সূত্র অনুযায়ী, লিজ নেওয়া জমিতে কাজ থমকে থাকলে জমি সরাসরি ফেরত না নিয়ে সংস্থাকে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রাধান্য পাবে সেই প্রকল্পগুলিই, যেখানে প্রতি একরে অন্তত ১০০ জনের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। যেমন, সিলিকন ভ্যালিতে বরাদ্দ জমিতে প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার আদানি হাসপাতাল থেকেই আগামী ৪-৫ বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
নিউ টাউনের সিলিকন ভ্যালিতে ২৫০ একর জমির মধ্যে বড় অংশই এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে ছবিটা দ্রুত বদলাচ্ছে:
ডেটা সেন্টার ও টেক জায়ান্ট: এসটি টেলিমিডিয়া, এনটিটি এবং সিটিআরএলএস-এর মতো সংস্থা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। পাইপলাইনে রয়েছে রিলায়েন্স, আদানি ও এয়ারটেল নেক্সট্রা।
বিশাল কর্মসংস্থান: এলটিআই মাইন্ডট্রি-র নতুন ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে; প্রথম পর্ব শেষেই প্রায় ৭ হাজার এবং পুরো প্রকল্প চালু হলে ২৫ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি টিসিএসের নতুন ক্যাম্পাসেও প্রথম দফায় প্রায় ৫ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বিএফএসআই (ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস) ক্ষেত্রের চাহিদায় ভর করে রাজারহাট-নিউ টাউনে অফিসের চাহিদা এখন তুঙ্গে। খালি পড়ে থাকা অফিসের হার ২১.৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৯.৪ শতাংশে।
ফিনটেক হাব: ৭০ একর জুড়ে গড়ে ওঠা এই হাবে এইচডিএফসি ও বন্ধন ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই সক্রিয়।
উন্নত যোগাযোগ: অরেঞ্জ লাইন মেট্রো এবং ইএম বাইপাসের সঙ্গে সংযোগকারী উড়ালপুল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ করে তুলছে।
ঘরের মাঠেই যদি বড় কাজের সুযোগ মেলে, তবে ভিনরাজ্যে মেধা পাচার অনেকটাই কমবে— এমনটাই আশা বিশেষজ্ঞ মহলের। রাজারহাটের আধুনিক আবাসন, মল ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নিউ টাউন এখন পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে।
তথ্যপ্রযুক্তির এই জোয়ারের মাঝেই খনি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে আইআইটি খড়্গপুর। খনন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও নিখুঁত করতে প্রতিষ্ঠান চত্বরে শুরু হয়েছে ‘বিক্রম সোধি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর এআই-এনাবেল্ড জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং সিস্টেমস’।
আইআইটির প্রাক্তনী কর্নেল মনজিৎ সোধির স্মৃতিতে এই অত্যাধুনিক উৎকর্ষ কেন্দ্রটি গড়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন তাঁর ছেলে বিক্রম সোধি। ভূ-তাত্ত্বিক বিদ্যা, ধাতুবিদ্যা এবং খনি প্রযুক্তির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঙ্গে এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সের মেলবন্ধন ঘটানো হবে।
গবেষকদের মূল লক্ষ্য হল এই প্রযুক্তিকে কেবল গবেষণাগারে বন্দি না রেখে সরাসরি ভারতের খনিগুলিতে কাজে লাগানো। বাস্তব তথ্য বিশ্লেষণ করে খননের নিখুঁত পরিকল্পনা, যন্ত্রপাতির আগাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং সর্বোপরি খনি শ্রমিকদের জীবন বাঁচানোর সুরক্ষা কবচ তৈরি করবে এই এআই ব্যবস্থা।
প্রতিষ্ঠানের ৭৬তম বর্ষ’র মুখে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের জটিল শিল্প সমস্যার সমাধানে এই ধরনের আন্তঃবিভাগীয় দেশীয় প্রযুক্তি ভারতের খনি ক্ষেত্রকে বিশ্বমানের করে তুলতে এক বড়ভূমিকা নেবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
