bus-election 2026
২১শে এপ্রিল, ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে কার্যত ‘অদৃশ্য’ হতে বসেছে যাত্রীবাহী বাস। নির্বাচন দফতরের অধিগ্রহণের জেরে মঙ্গলবার থেকেই পরিষেবায় টান পড়েছে, আর ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল ভোট ঘিরে সেই সঙ্কট চরমে উঠবে বলেই আশঙ্কা। বাস মালিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই সময় গণপরিবহণের ওপর নির্ভর না করাই ভালো।
নির্বাচনের কাজে পোলিং পার্টি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ কর্মীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে হাজার হাজার বাস ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ করেছে প্রশাসন। ফলে একদিকে যেমন শহর, তেমনই জেলায় জেলায় বাসের সংখ্যা হু হু করে কমে গেছে। বিশেষ করে প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে ২১, ২২ ও ২৩ এপ্রিল কার্যত হাতে গোনা কয়েকটি বাস ছাড়া রাস্তায় কিছুই দেখা যাবে না।
শুধু প্রথম দফাই নয়, দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতিতেও একই ছবি। ২৯ এপ্রিল ভোট রয়েছে একাধিক জেলায়, যার জন্য ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিলও বাস পরিষেবা প্রায় স্তব্ধ থাকার আশঙ্কা। নির্বাচন দফতরের নির্দেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বাস পাঠানো হচ্ছে, ফলে স্থানীয় রুটগুলিও ফাঁকা হয়ে পড়ছে।
বাস মালিক সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যাত্রী পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না রাখতে প্রতিটি রুটে দু’-একটি বাস রাখার চেষ্টা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলির সময়সূচি অনিশ্চিত। কখন বাস পাওয়া যাবে, আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এই কারণে যে, শুধু বাস নয়—বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক চারচাকা গাড়িও নির্বাচনের কাজে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়ছে। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সবাইকেই পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন এলেই এই সমস্যা নতুন নয়, তবে এবারের মতো এত বড় আকারে বাস সঙ্কট সচরাচর দেখা যায় না। কারণ একাধিক দফায় ভোট ও বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেক বেশি।
তবে আশার কথা, ভোটপর্ব মিটলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। বাস মালিকদের দাবি, ৩০ এপ্রিলের পর ধীরে ধীরে রাস্তায় নামবে সব বাস, ফিরবে আগের ছন্দ। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে পরিকল্পনা করে বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জরুরি কাজ না থাকলে বাড়িতে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ, এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের ৷
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।