২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

বজ্র বিভীষিকা! নেপথ্য নায়ক কে?

বজ্র বিভীষিকা! নেপথ্য নায়ক কে?

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঘন ঘন বজ্রপাতও। প্রতীকী ছবি।

বজ্র বিভীষিকা! নেপথ্য নায়ক কে?

দুপুর গড়াতেই আকাশ কালো। মুহূর্তের মধ্যে দমকা হাওয়া, ঝোড়ো বৃষ্টি আর তার সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বছর যেন বারবার ফিরে আসছে একই দৃশ্য। শুধু ঝড়-বৃষ্টিই নয়, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঘন ঘন বজ্রপাতও। গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমজনতার মনে প্রশ্ন, বাংলার আকাশে এত বাজ পড়ছে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে রয়েছে একাধিক আবহাওয়াগত কারণ। প্রথমত, বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রবেশ করছে দক্ষিণবঙ্গে। অন্যদিকে স্থলভাগে দিনের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গরম বাতাস উপরে উঠে ঠান্ডা আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে মিশে বিশালাকার বজ্রমেঘ বা কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) তৈরি করছে। এই মেঘের মধ্যেই সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল বৈদ্যুতিক চার্জ, যা শেষ পর্যন্ত বজ্রপাতের আকারে মাটিতে নেমে আসছে।

বাংলার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাক্-মৌসুমি কালবৈশাখী এবং মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির সময় বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় এই ধরনের ঝড়ে মেঘের ভিতরে এবং মেঘ থেকে মাটিতে বিপুল সংখ্যক বিদ্যুৎ স্রাব ঘটে।

আবহাওয়াবিদদের একাংশ আবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁদের মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা ও শক্তির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রমেঘ আরও দ্রুত এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধির পিছনে এই কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি বছরেও তার প্রমাণ মিলেছে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বজ্রঝড়ে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল। আবহাওয়া দফতর তখন লাল সতর্কতাও জারি করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চরম আবহাওয়া এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নিয়মিত হয়ে উঠছে।

তবে বজ্রপাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ মানুষের অসচেতনতা। খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবী কিংবা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বজ্রবিদ্যুৎ দেখা বা মেঘ গর্জন শোনা মাত্রই নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহবিদদের মতে, বর্ষা পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের আনাগোনা চলতেই পারে। অর্থাৎ আগামী কয়েক সপ্তাহেও কলকাতা ও জেলার মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বৃষ্টি যতটা স্বস্তি দিচ্ছে, তার সঙ্গেই লুকিয়ে থাকছে প্রকৃতির এক ভয়ঙ্কর রূপ, বজ্রপাত।

আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি অনেকের কাছে সৌন্দর্যের প্রতীক হতে পারে। কিন্তু বাংলার গ্রাম-শহরে সেই ঝলকানি এখন ক্রমশ আতঙ্কের অন্য নাম হয়ে উঠছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য