২০শে জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

ডিহাইড্রেশন: ডেকে আনতে পারে চরম ক্ষতি

ডিহাইড্রেশন: ডেকে আনতে পারে চরম ক্ষতি

ডিহাইড্রেশন হলে সতর্ক হওয়া দরকার। ছবি - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।

ডিহাইড্রেশন: ডেকে আনতে পারে চরম ক্ষতি

গরমের দিনে হোক বা অসুস্থতার সময়ে, শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হওয়া একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডিহাইড্রেশন’। শরীর থেকে যত পরিমাণ জল ও তরল বেরিয়ে যায়, তার তুলনায় কম জল গ্রহণ করা হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ডিহাইড্রেশন প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।

কেন হয় ডিহাইড্রেশন?

ডিহাইড্রেশনের অন্যতম প্রধান কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করা। এছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর এবং ডায়াবেটিস বা কিছু ওষুধের কারণে অতিরিক্ত প্রস্রাব হলেও শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
হালকা থেকে মাঝারি ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে

  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া
  • মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব
  • মাথা ঘোরা
  • দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • মাথাব্যথা

গুরুতর ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে

  • খুব কম বা একেবারেই প্রস্রাব না হওয়া
  • চোখ বসে যাওয়া
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা
  • অত্যধিক দুর্বলতা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

কী করবেন?

  • বারবার অল্প অল্প করে জল পান করুন।
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে ওআরএস (ORS) পান করুন।
  • ডাবের জল, লেবুর শরবত, স্যুপের মতো তরল খাবার গ্রহণ করুন।
  • গরমে বাইরে থাকলে বা ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত জল পান করুন।
  • ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
  • শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বমি বা ডায়রিয়া চলতে থাকলে
  • প্রস্রাব অত্যন্ত কম হলে
  • প্রচণ্ড মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হলে
  • বিভ্রান্তি, অস্থিরতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে
  • সতর্কবার্তা, গুরুতর ডিহাইড্রেশন অবহেলা করলে তা জীবন-হানিকর হতে পারে

ঘরোয়া ORS তৈরির সহজ উপায়

বাড়িতেই সহজে ওআরএস তৈরি করা যায়। ১ লিটার ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জলে ৬ চা-চামচ চিনি এবং আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। এই দ্রবণ ধীরে ধীরে পান করলে শরীরের জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সামান্য তৃষ্ণা বা ক্লান্তিকে অবহেলা না করে শরীরের সংকেত বুঝুন। কারণ সময়মতো সচেতনতা ডিহাইড্রেশনের মতো নীরব বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য