sweet craving
২২শে এপ্রিল, ২০২৬
মিষ্টি দেখলেই মন নরম হয়ে যায়—এ অভিজ্ঞতা প্রায় সকলেরই । কিন্তু এই টান কি শুধুই রসনার খেলা, নাকি এর পিছনে রয়েছে শরীরের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনও জৈবিক সংকেত ? সমীক্ষা বলছে, মিষ্টির প্রতি মানুষের আকর্ষণ নিছক অভ্যাস নয়, বরং তা আমাদের শরীরের ‘বায়োলজিকাল প্রোগ্রামিং’-এরই অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের পূর্বপুরুষরা বেঁচে থাকার জন্য উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর করতেন। সেই সময়ে মিষ্টি বা চিনি-সমৃদ্ধ খাবার ছিল শক্তির দ্রুত উৎস। ফলে বিবর্তনের ধারায় মানুষের মস্তিষ্কে তৈরি হয়েছে এমন এক প্রবণতা, যা মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করে।
তবে শুধু বিবর্তনই নয়, আধুনিক জীবনের চাপও এই আকর্ষণকে বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাকে আরও তীব্র করে তোলে। কর্মব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা কিংবা ক্লান্তির মুহূর্তে তাই অনেকেই অজান্তেই হাত বাড়ান চকোলেট বা মিষ্টির দিকে।
এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকদের দাবি, চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে মিষ্টি খাওয়া এক ধরনের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-এ পরিণত হয়, যেখানে সুখের অনুভূতি পেতে মানুষ বারবার একই অভ্যাসে ফিরে যায়।

অন্যদিকে, শরীরে সেরোটোনিনের ঘাটতি থাকলেও মিষ্টির প্রতি চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। কারণ, এই হরমোন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মন খারাপ বা ক্লান্তির সময় অনেকেই মিষ্টি খেয়ে স্বস্তি খোঁজেন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই ‘জৈবিক প্রোগ্রামিং’কে অজুহাত করে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া কিন্তু বিপজ্জনক। ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে অনিয়ন্ত্রিত মিষ্টি গ্রহণে। তাই সমাধান একটাই—সংযম। মিষ্টির প্রতি টান স্বাভাবিক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।