৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

দিল্লির ভরসায় শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কেন পিছিয়ে পড়লেন বাকিরা?

দিল্লির ভরসায় শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কেন পিছিয়ে পড়লেন বাকিরা?

subhendu-wins-bjp-news

দিল্লির ভরসায় শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কেন পিছিয়ে পড়লেন বাকিরা?

কলকাতা: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কলকাতায় দলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করার পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়— দিল্লির আস্থার নিরিখে তিনিই ছিলেন ‘নম্বর ওয়ান’ পছন্দ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দৌড়ে থাকা অন্য নেতারা কোথায় পিছিয়ে পড়লেন? আর কোন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গেলেন শুভেন্দু?

বিজেপির অন্দরমহলের মতে, সবচেয়ে বড় কারণ ‘গ্রাউন্ড কন্ট্রোল’। গত কয়েক বছরে বাংলায় তৃণমূল বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দুই। নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্য রাজনীতি— ধারাবাহিকভাবে তিনি শুধু আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন না, সংগঠনের ভিতও মজবুত করেছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান, বিধানসভায় সরব ভূমিকা এবং জেলা স্তরে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ— সব মিলিয়ে তিনি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন।

যে কারণে এ দিনের বৈঠকে অমিত শাহকে বলতে শোনা যায়, "মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নাম প্রথম থেকেই ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু দ্বিতীয় কোনও নাম আর আসেনি।"

আরও পড়ুন

আরজি কর মামলায় সাসপেন্ড তিন আইপিএস!
হটস্পট ভবানীপুর: ভোটের আগের রাতে মমতার বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ শুভেন্দুর

দলের একাংশের মতে, শুভেন্দুর লড়াকু মনোভাব তো বটেই, সেই সঙ্গে বাড়তি সুবিধা ছিল তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিন মন্ত্রী ও সংগঠক হিসেবে কাজ করায় বাংলার আমলাতন্ত্র, গ্রামীণ সংগঠন এবং ভোট রাজনীতির বাস্তব সমীকরণ সম্পর্কে তাঁর ধারণা অন্যদের তুলনায় অনেক গভীর। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মনে করেছে, বাংলার মতো জটিল রাজনৈতিক রাজ্যে শুধু ‘হিন্দুত্বের মুখ’ নয়, প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতারই প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে থাকা বাকি নেতাদের ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও ঘাটতি থেকেই গিয়েছে। কেউ দিল্লির ঘনিষ্ঠ হলেও রাজ্য সংগঠনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। কেউ আবার টেলিভিশনের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও রাস্তায় আন্দোলনের রাজনীতিতে ধারাবাহিক ছিলেন না। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, কঠিন সময়ে যখন কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে, তখন মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুভেন্দুর মতো ধারাবাহিকতা অন্যদের মধ্যে দেখা যায়নি।

আরও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘উইনেবিলিটি ফ্যাক্টর’। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে শুভেন্দুই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক এবং কার্যকর মুখ। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য। সেই কারণেই দিল্লির শীর্ষনেতারা মনে করেছেন, সরকার গঠনের পর প্রশাসন চালানো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক লড়াই— দু’দিক সামলানোর ক্ষমতা শুভেন্দুর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিজেপির মতো দলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সেই পরীক্ষায় শুভেন্দু যে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন, তা অমিত শাহের ঘোষণাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

লেখকের বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই যোগ করা হবে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য