political-news-west-bengal-
৭ই মে, ২০২৬
কলকাতা: পালাবদল হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার অঙ্ক বদলেছে। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অন্ধকার অধ্যায় কি এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে? ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে খুন, হামলা, মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগ। আর সেই আবহেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে— সরকার বদলালেও কি বদলাবে না রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি?
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। পুলিশ সূত্রে খবর, বাইকে করে আসা কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা নামে আর এক যুবক। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে ভোটের ফল প্রকাশের পর নিউটাউন এলাকায় বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, মধু মণ্ডল নামে এক কর্মীকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। অন্য দিকে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকাতেও বিজেপি সমর্থক মাতেন যাদব বরের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির জয়ের উৎসবে যোগ দিয়ে ফেরার পথে তাঁর উপর হামলা হয়। ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অন্য দিকে, ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন তাঁকে মারধর করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ।
শুধু খুন নয়, জেলায় জেলায় রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, পতাকা খুলে ফেলা, বাড়িতে হামলার অভিযোগও জমা পড়তে শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। তবে এই পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফে পাল্টা একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে আনা হচ্ছে।
গেরুয়া শিবিরের দাবি, ভোট-পরবর্তী একাধিক হামলার নেপথ্যে আসলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাজ করছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলের বিভিন্ন স্থানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতা হারানোর পর তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাদের দাবি, এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর উপর আক্রোশ মেটাতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে বিজেপিকে বদনাম করার লক্ষ্যেও অনেক ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের নাম জড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিজেপির বক্তব্য, কোথাও কোনও অশান্তি হলে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সব ঘটনার দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

বাংলার রাজনীতিতে এই ছবি অবশ্য নতুন নয়। গত এক দশকে প্রায় প্রতি বড় নির্বাচনের পরেই রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১১৪টি রাজনৈতিক খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট কিংবা ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন— প্রতিবারই রক্তপাত বাংলার ভোট-রাজনীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক দলগুলির দাবির মধ্যে ফারাক থাকলেও একটি বিষয়ে প্রায় সকলের মত মিলেছে— রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতবিক্ষত করেছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।