party-faces-WBAE-2026
৩রা মে, ২০২৬
কলকাতা: আর কয়েক ঘণ্টা। তারপরই খুলবে ভাগ্যের জট। সোমবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে গণনা—টানটান স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে চোখ গোটা বাংলার। মুখোমুখি দুই প্রধান শক্তি—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। তবে ফল ঘোষণার আগেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিজেকে আলাদা করে ফেলেছে—নজিরে, সংখ্যায়, আর বার্তায়।
সবচেয়ে বড় চমক—হিংসামুক্ত ভোট
বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে যা প্রায় ব্যতিক্রম, সেখানে এবারের দুই দফাতেই মৃত্যুহীন ভোটগ্রহণ নিঃসন্দেহে এক নতুন দিশা দেখাল। কড়া নিরাপত্তা, নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন—সব মিলিয়ে নির্বাচন পরিণত হয়েছে এক ‘টেস্ট কেস’-এ।
তবে আসল প্রশ্ন—এই শান্ত ভোট কি ঝড় তুলবে ফলাফলে?
সংখ্যা বলছে, হ্যাঁ—সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটদান, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রথম দফায় ১৫২ আসনে প্রায় ২১ লক্ষ অতিরিক্ত ভোট, দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ৯ লক্ষাধিক বৃদ্ধি—এই বিপুল অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্ককে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা এই ভোটবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
কি-ফ্যাক্টর
জনবিন্যাসও এবার বড় ফ্যাক্টর। কোথাও গ্রামীণ প্রাধান্য, কোথাও শহুরে ভোটারের আধিক্য—সংখ্যালঘু, তফসিলি ও উপজাতি ভোটের অনুপাত দুই দফায় আলাদা ছবি এঁকেছে। ফলে এক রাজ্যের ভিতরেই তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক স্রোত।
বিরোধী শিবির বিজেপি ভরসা রেখেছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায়। দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরি বাতিল—এই সব ইস্যু শহুরে মধ্যবিত্তের একাংশকে প্রভাবিত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক অসন্তোষ ও আঞ্চলিক মেরুকরণও বিজেপির পক্ষে যেতে পারে।
অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস লড়ছে সংগঠন ও প্রকল্পের জোরে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প এখনও গ্রামবাংলা ও মহিলা ভোটব্যাঙ্কে দৃঢ় প্রভাব রাখে। বুথস্তরের শক্ত সংগঠন শেষ মুহূর্তে ভোট টানার বড় অস্ত্র।
তবে সরাসরি এই দ্বৈরথের বাইরে রয়েছে একাধিক ‘এক্স ফ্যাক্টর’। এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ক্ষোভ, মহিলাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি, বেকারত্ব, ডিএ—সব মিলিয়ে ভোটের রসায়ন জটিল। সঙ্গে তৃতীয় শক্তি—বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ—তাদের ভোটকাটার ক্ষমতাও অনেক আসনের ফল নির্ধারণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, একমুখী ঢেউ নয়—এ এক বহুমাত্রিক নির্বাচন। এখন শুধু অপেক্ষা, লজনতার রায় কোন দিকে ঘুরবে, আর কার হাতে উঠবে বাংলার ভবিষ্যতের হাল।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।