arthritis-solution-
২রা মে, ২০২৬
চলতে গেলেই যন্ত্রণা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট, সকালে উঠে গাঁট শক্ত! এই চেনা সমস্যাই এখন বহু মানুষের নিত্যসঙ্গী। আর্থারাইটিস, অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন গাঁটের যন্ত্রণা, ধীরে ধীরে সাধারণ অসুখের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বার্ধক্য নয়, বদলে যাওয়া জীবনযাপনও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেন হয় এই গাঁটের যন্ত্রণা?
আর্থারাইটিসের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করে। সবচেয়ে প্রচলিত অস্টিওআর্থারাইটিস, যা মূলত বয়সজনিত। হাড়ের ক্ষয় এবং গাঁটের মাঝখানের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে গেলে হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ তৈরি হয়, সেখান থেকেই ব্যথার সূত্রপাত।
অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস একেবারেই আলাদা ধরণের। এখানে শরীরের নিজস্ব অনাক্রম্যতা শক্তিই গাঁটের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে। ফলে গাঁট ফুলে ওঠে, ব্যথা বাড়ে। এছাড়া রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে মেটাবলিক আর্থারাইটিস দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেও গাঁটে প্রদাহ ও যন্ত্রণা তৈরি হয়।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?
আর্থারাইটিসের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে হালকা হলেও সময়ের সঙ্গে তা তীব্র হয়। গাঁট ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে ওঠা ও স্পর্শে গরম লাগা—এগুলি প্রাথমিক লক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জড়তা, বিশেষ করে সকালে উঠে। অনেক ক্ষেত্রে গাঁটের আকৃতি বদলে যায়, চলাফেরা বা হাত-পা নাড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে।
রোগ ধরা পড়বে কীভাবে?
সঠিক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষার মাধ্যমে মেটাবলিক আর্থারাইটিস ধরা পড়ে। রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস শনাক্ত করতে RA factor, anti-CCP ও CRP পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষায় হাড়ের ক্ষয় বা গাঁটের গঠনগত সমস্যা বোঝা যায়।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়?
আর্থারাইটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত যোগব্যায়াম ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
প্রয়োজনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ, স্টেরয়েড বা DMARD দেওয়া হয়। সংক্রমণজনিত ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে। গুরুতর অবস্থায় ব্রেস বা স্প্লিন্ট ব্যবহার করতে হয়। সবশেষে, অবস্থা জটিল হলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারিই একমাত্র ভরসা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।