cpm-flag-seat-debate-wbae2026
২রা মে, ২০২৬
বিমান বসু আগেই বলেছেন, “সিপিএম আর মহাশূন্যে থাকবে না।”
কলকাতা: একদিকে যখন রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই কার্যত দুই মেরুতে সীমাবদ্ধ—তৃণমূল বনাম বিজেপি, তখন তৃতীয় শক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজত্ব করা বামফ্রন্টে চলছে অন্য অঙ্ক। ৩৪ বছরের শাসনের স্মৃতি এখন ইতিহাস, বর্তমানের লড়াই ‘খাতা খোলা’ নিয়েই। প্রশ্ন একটাই—অন্তত একটি আসন কি মিলবে?
ভোটের আগে থেকে শুরু করে মে দিবসের মিছিল, এমনকী গণনার দু'দিন আগেও সব জায়গাতেই একই কৌতূহল ঘুরপাক খাচ্ছে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। কেউ যদি আশার কথা বলেন, সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আসছে পরের প্রশ্ন, “কোন আসন?” এই অনিশ্চয়তার আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে ভেসে উঠছে বিচিত্র সব পরিসংখ্যান। কোথাও বামফ্রন্টকে এক-দুটি আসনে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে, আবার কোথাও অতিরঞ্জিতভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে!
তবে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাম শিবিরের একাংশ খুব একটা আশাবাদী নয়। তাঁদের মতে, এই নির্বাচনে ফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের সংগঠন গড়ে তোলা। “মানুষের সঙ্গে সংযোগটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ,” বলছেন এক কর্মী।
এরই মাঝে আলোচনায় ঢুকে পড়েছে এআই বা স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে, 2031 সালের মধ্যে নাকি সিপিএম আবার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারে। যদিও এই ধরনের পূর্বাভাসকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব।
বিমান বসু আগেই বলেছেন, “সিপিএম আর মহাশূন্যে থাকবে না।” কিন্তু এই আশ্বাসেও তৃপ্ত নন তৃণমূল-বিজেপির চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়া নীচুতলার কর্মীরা। তাঁদের মূল দুশ্চিন্তা, গত কয়েক বছরে বিজেপির দিকে সরে যাওয়া ভোট কি আদৌ ফিরবে ?
এক কর্মীর কথায়, “মানুষের কাছে বিজেপির রাজনীতির বিপদ বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।”
অন্যদিকে বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলায় বামেদের অবস্থা শোচনীয় । তাই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে গ্রাউন্ড রিপোর্টে। পাঁচ বছর বিধানসভায় প্রতিনিধিহীন থাকার পর, এবার অন্তত একজন বিধায়ক পাঠানো যাবে কি না—সেই হিসেবেই ব্যস্ত বাম নেতৃত্ব।
ফল ঘোষণার আগে তাই বাম শিবিরে এখন মিশ্র সুর—আশা, সংশয় আর বাস্তববোধের টানাপোড়েন। ৪ মের গণনার দিনই জানা যাবে, লাল পতাকার সেই ‘একটি’ স্বপ্ন আদৌ পূরণ হয় কি না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।