mobile-game-genZ-
২রা মে, ২০২৬
স্ক্রিনে স্ক্রল, বাস্তবে শূন্যতা! ডোপামিনের ফাঁদে আটকে পড়ছে নতুন প্রজন্ম
কলকাতা: মেট্রো থেকে মেস, কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কর্পোরেট অফিস—একই ছবি। চোখ স্ক্রিনে, আঙুল অবিরাম স্ক্রল করছে। ‘আর একটা রিল’, ‘আর একটা গেম’—এই অদৃশ্য লুপেই বন্দি শহরের তরুণরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে আচরণগত আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে মানুষ নিজের সময়ের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।
ডোপামিনের দখলে মগজ
ছোট ছোট ভিডিও, তাত্ক্ষণিক আনন্দ—এ যেন মস্তিষ্কের জন্য ‘ফাস্ট ফুড’। গবেষণা বলছে, রিল বা শর্ট ভিডিও মস্তিষ্কে দ্রুত আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে, ফলে বারবার একই অভ্যাসে ফিরে যেতে চায় মানুষ। এতে মনোযোগ কমে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয় এবং বাস্তব জীবনের প্রতি আগ্রহ কমতে থাকে।

সময়ের অপচয়, জীবনের ক্ষয়
একসময় খেয়ালই থাকে না—কয়েক মিনিটের জন্য ফোন হাতে নেওয়া, কখন ঘন্টায় গড়িয়ে যায়। পড়াশোনা, কাজ, সম্পর্ক—সব কিছুতেই পড়ছে প্রভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আসক্তি ধীরে ধীরে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং বাস্তব সামাজিক যোগাযোগকে দুর্বল করে দেয়।
ঝুঁকির খেলা: ‘ভাইরাল’ হতে গিয়ে বিপদ
শুধু মানসিক নয়, শারীরিক ঝুঁকিও বাড়ছে। রিল বানাতে গিয়ে বিপজ্জনক স্টান্ট—রাস্তায়, রেললাইনে—এর ফলে দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে। কখনও প্রাণও যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘লাইক’-এর লোভে বাস্তব বিপদের হিসেব হারিয়ে ফেলছে তরুণরা।
অন্তর্মুখী সমাজ: পাশে মানুষ, তবু একা
পরিবারের মধ্যে কথোপকথন কমছে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ভার্চুয়ালে সীমাবদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনামূলক জীবনযাপন (comparison culture) থেকে তৈরি হচ্ছে হীনমন্যতা, উদ্বেগ, এমনকি হতাশাও।
সমাধান কোথায়? সচেতনতার পথে হাঁটা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডিটক্স নয়—বরং ‘মাইন্ডফুল ইউজ’ দরকার। নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে ব্যবহার, অফলাইন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
রিলের দুনিয়া মুগ্ধতার, কিন্তু সেই মুগ্ধতা যদি নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়, তবে তা বিপজ্জনক। বুড়ো আঙুলের এই ‘ওভারটাইম’ শেষ পর্যন্ত জীবনের ‘আন্ডারটাইম’ হয়ে উঠছে না তো—সেই প্রশ্নই এখন সামনে উঠে আসছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।