rasogolla-war-wbae26-
৩রা মে, ২০২৬
কলকাতা: রাত পোহালেই বাংলার আগামী পাঁচ বছরের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। এনিয়ে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন সেই লড়াই নেমে এল মিষ্টির থালাতেও। একদিকে ‘মোদি ভোগ’, অন্যদিকে ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’! নামের মধ্যেই যেন ধরা পড়ছে ভোটের রং!
শহরের একাধিক জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান ইতিমধ্যেই এই বিশেষ ভোট-থিম মিষ্টি তৈরি শুরু করেছে, আর চাহিদা এতটাই বেশি যে বরাত অনুযায়ীই পাওয়া যাচ্ছে তা।
বিভিন্ন মিষ্টি দোকানেরব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী আবহকে মাথায় রেখেই এই অভিনব উদ্যোগ। ‘মোদি ভোগ’-এ থাকছে বিশেষ ধরনের লাড্ডু ও শুকনো মিষ্টির সংমিশ্রণ, অন্যদিকে ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’ তৈরি হচ্ছে আলাদা রেসিপিতে—স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই নামেও রাজনৈতিক বার্তা। ক্রেতাদের মধ্যে এই নতুনত্ব নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। কেউ দলীয় সমর্থনের কারণে কিনছেন, কেউ আবার শুধুই অভিনবত্বের টানে।
মিষ্টির ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোট মানেই বাঙালির কাছে উৎসব। আর উৎসব মানেই মিষ্টি। তাই রাজনীতির সঙ্গে মিষ্টির এই মেলবন্ধন নতুন কিছু নয়, তবে এবারের মতো এতটা সরাসরি রাজনৈতিক নামকরণ আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে রসগোল্লা, যা বাঙালির গর্বের প্রতীক—জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর থেকেই যার গুরুত্ব আরও বেড়েছে । এবার সেই মিষ্টিকেই রাজনৈতিক প্রতীকে ব্যবহার করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
শুধু নাম নয়, প্যাকেজিংয়েও থাকছে আলাদা চমক। কোথাও দলীয় রঙে সাজানো বাক্স, কোথাও আবার নেতাদের ছবি-প্রেরিত ডিজাইন। তবে দোকান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পক্ষ নেওয়া নয়—এটি নিছকই বাজারের চাহিদা এবং সৃজনশীলতার ফল।
ক্রেতাদের একাংশের মতে, “ভোট নিয়ে উত্তেজনা তো থাকেই, তার সঙ্গে যদি একটু মজার ছোঁয়া যোগ হয়, ক্ষতি কী!” আবার কেউ কেউ বলছেন, “রাজনীতিকে এতটা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া ঠিক কি না, তা নিয়েও ভাবা দরকার।”
ভোটের ফলাফল সামনে। তার আগেই মিষ্টির দোকানে ‘মোদি ভোগ’ আর ‘জয় বাংলা রসগোল্লা’ যেন এক আলাদা লড়াই শুরু করে দিয়েছে, যেখানে জেতার প্রশ্ন নয়, বরং স্বাদ আর অভিনবত্বই আসল আকর্ষণ।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।