কঙ্গোর বিপক্ষে বিবর্ণ রোনাল্ডো। ছবি : Google
১৮ই জুন, ২০২৬
আমেরিকার কানসাস সিটিতে মেসির ওই জাদু দেখার পরে রোনাল্ডোর ফর্ম বড়ই বিবর্ণ মনে হয়েছে কঙ্গোর বিরুদ্ধে। শুধু মেসিই নন, এমবাপেও জোড়া গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। সেখানে এতো বড় তারকা হয়েও কঙ্গোর মতো দলের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোর এহেন পারফরম্যান্স দেখে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক মিডিয়া লিখেই দিয়েছে, ‘‘রোনাল্ডো হলেন এই মুহুর্তে পর্তুগাল দলের বড় বোঝা। তিনি মাঠে না নামলেই আসল পর্তুগাল দলকে দেখা যাবে।’’
৪১ বছরের রোনাল্ডো এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ খেলছেন। এই নিয়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে গর্ববোধ রয়েছে। কিন্তু তিনি যা গোত্রের তারকা তাতে মাঠে ‘ম্যাজিক’ না দেখালে ফ্যানদের মন পূর্ণ হওয়ার নয়। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন, ৩টি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। বারবার দেখা গিয়েছে কঙ্গোর রক্ষণ জঙ্গলে তিনি ঢাকা পড়ে গিয়েছেন।
জার্মানির নামী সংবাদপত্র ‘বিল্ড’ সবচেয়ে কঠোর শব্দ ব্যবহার করে লিখেছে – ‘রোনাল্ডো এক বড় বিপর্যয়’! ওই সংবাদপত্র মেসির আগেরদিনের হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসের ছবি দিয়ে পাশে নতমস্তকে সিআর সেভেনের ছবি ব্যবহার করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘দুই তারকা – দুই ভিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা।’ ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য মিরর’ শিরোনাম করেছে, মেসি, এমবাপেরা যা পারেন, রোনাল্ডো সেটি পারেননি! ইংরেজ সংবাদপত্রটি আরো লিখেছে, ‘‘দ্রুত দলে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন না আনলে চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের এক মহানায়কের স্বপ্নপূরণের গল্প করুণ পরিণতিতে শেষ হবে!’’
ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছে। তাদের যুক্তি হলো, এই অচলাবস্থার জন্য শুধু রোনাল্ডোকে দায়ী করলে হবে না, পাশাপাশি কোচ রবার্তো মার্টিনেজকেও সমানভাবে দায়ী করতে হবে। তাঁর ম্যাচ কৌশলের মধ্যে বিস্তর সমস্যা ছিল।
আগের কোচ স্যান্টোস যেমন রোনাল্ডোকে চাপে রেখেছিলেন, বর্তমান কোচ মার্টিনেজ আবার রোনাল্ডোর কথায় দল সাজান। তাঁকে ম্যাচ শেষে প্রশ্ন করা হয়, রোনাল্ডো যখন ম্যাচে সুবিধাই করতে পারছেন না, সেইসময় তাঁকে ৯০ মিনিট রেখে দেওয়া হল কেন? এর জবাবে পর্তুগাল কোচ জানান, ‘‘একটা দলের জয়ের গোল দরকার, আর সেইসময় আমি বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলগেটারকে তুলে নেব? আপনারা যা মনে আসে, বলে দেন!’’
পাশাপাশি এটাও বলার, যে ফুটবলারটি বারবার ব্যর্থ হয়েও উঠে দাঁড়িয়েছেন। যিনি শত সমালোচনার পরেও আকাশ দেখেছেন মাথা উঁচু করে। সেই মানুষটি যত রক্তাক্ত হবেন, ততই শানিত হবেন। ইতালির বিখ্যাত ফুটবল সাংবাদিক লুকা কাহলি না হলে রোনাল্ডো নিয়ে লিখেছেন, ‘‘চাপের মুখেও হিমশীতল, ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিরে আসা এক সুপারস্টার।’’
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।