wb election 2026
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬
গণতন্ত্রের মাপকাঠি কি শুধুই ভোটে জেতার ক্ষমতা? নাকি আইনসভায় বসার আগে দরকার ন্যূনতম শিক্ষার ভিত্তি? এই চিরচেনা বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিল ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ছবিতে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার বিশ্লেষণে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’-এর রিপোর্ট বলছে, প্রার্থীদের শিক্ষাগত মানচিত্র যেন একেবারে সমাজের প্রতিচ্ছবি— বহুরঙা, বৈচিত্র্যময়, কখনও বিস্ময়করও বটে।
প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, ৭৩৫ জন নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষাই ভরসা তাঁদের।
উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের সংখ্যাও কম নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬৮১ জন প্রার্থী স্নাতক বা তারও বেশি শিক্ষিত, যা মোটের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্নাতকোত্তর, এমনকি ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরাও। পাশাপাশি, ২৫ জন প্রার্থী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
কিন্তু পরিসংখ্যানের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক অন্যত্র। এখনও এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের প্রথাগত শিক্ষা কার্যত নেই বললেই চলে। ২০ জন প্রার্থী নিজেদের ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন, আর ১৪ জন সরাসরি জানিয়েছেন, তাঁরা নিরক্ষর!

এই বৈপরীত্যই যেন গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপকে সামনে আনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের রাজনীতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, শেষ কথা বলে ‘উইনেবিলিটি’। অর্থাৎ, প্রার্থী কতটা জনপ্রিয়, কতটা প্রভাবশালী, এবং সবচেয়ে বড় কথা তিনি আসনটি জিতিয়ে আনতে পারবেন কি না, সেটাই টিকিট বণ্টনের মূল মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিধানসভায় যেখানে জটিল আইন, বাজেট ও নীতিনির্ধারণের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত কি না? নাগরিক সমাজের একাংশ মনে করে, শিক্ষার ভিত্তি না থাকলে আইন প্রণয়নের গুণগত মানে প্রভাব পড়তেই পারে।
আবার অন্য মতও রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, শিক্ষা শুধু ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ নয়— জনসংযোগ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সমস্যার গভীর উপলব্ধিই একজন জনপ্রতিনিধিকে সফল করে তোলে।
সব মিলিয়ে, ভোটের ময়দানে এই শিক্ষাগত বৈচিত্র্য একদিকে যেমন গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে তুলে ধরে, তেমনই অন্যদিকে নতুন করে উসকে দেয় পুরনো প্রশ্ন, ‘যোগ্যতা’ ঠিক কিসে?
তবে প্রার্থীদের যোগ্য়তা নিয়ে যত চর্চায় হোক না কেন, এ ব্যাপারে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। ব্যালটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা কি প্রার্থীর শিক্ষাগত ডিগ্রিকে গুরুত্ব দেবেন, নাকি ভরসা রাখবেন পরিচিত মুখ, স্থানীয় প্রভাব আর দলীয় প্রতীকে, তার উত্তর মিলবে ৪ মে ফল ঘোষণার দিনই।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।