

ডেঙ্গুর মশা। ছবি -Google.
১৪ই জুলাই, ২০২৬
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন কখন হাসপাতালে যাবেন, কী ভাবেই বা রুখবেন ‘বর্ষার আতঙ্ক’
বর্ষা এলেই কলকাতা-সহ গোটা বাংলায় বাড়তে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপ। কয়েক দিনের জ্বরকে অনেকেই সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে বাড়িতে বিশ্রাম নেন। কিন্তু সেই অবহেলাই কখনও কখনও বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ, ডেঙ্গু এমন একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, যা শুরুতে সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এটি ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV)-এর কারণে হয়। ভাইরাসটির চারটি প্রধান ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে— DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4। এক বার সংক্রমণ হলে সেই নির্দিষ্ট ধরনের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলেও অন্য ধরনের ভাইরাসে আবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বরং দ্বিতীয় বার সংক্রমণে অনেক সময় রোগের জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।
ডেঙ্গু এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না। এর বাহক এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিক্টাস (Aedes albopictus) প্রজাতির মশা।
প্রক্রিয়াটি এমন—
বর্ষাকালে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার জলে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফুলের টব, এসির ট্রে, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ড্রাম, ছাদের জল জমা অংশ— সবই এডিসের বংশবিস্তারের আদর্শ জায়গা। তাই শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটাই ভাইরাল জ্বরের মতো। তবে কয়েকটি উপসর্গ বিশেষভাবে নজরে রাখা জরুরি—

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়া মানেই বিপদ কেটে গিয়েছে— এমন ধারণা ভুল। বরং জ্বর নামার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টাই অনেক সময় সবচেয়ে সংকটজনক।
নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে—
এগুলি গুরুতর ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার-এর লক্ষণ হতে পারে।
জ্বর হলেই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। শরীরে পর্যাপ্ত জল রাখতে হবে। ওআরএস, ডাবের জল, স্যুপ, ফলের রস এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়া জরুরি।
জ্বর কমানোর জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। এগুলি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর উপায়।
বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আতঙ্কিত হওয়ারও কারণ নেই। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং বাড়ির আশপাশে এডিস মশার বংশবিস্তার রুখতে পারলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।
