

'পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন' বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা কোনও দুর্বলতা নয়। ছবি - Google, গ্রাফিক্স = The Fourth Axis.
১৫ই জুলাই, ২০২৬
সন্তানের জন্ম মানেই আনন্দ, নতুন স্বপ্ন আর নতুন জীবনের সূচনা। পরিবারের সকলের চোখে তখন শুধুই খুশির ঝিলিক। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও অনেক নতুন মা নিঃশব্দে লড়াই করেন এক গভীর মানসিক সমস্যার সঙ্গে। অকারণে কান্না, উদ্বেগ, ঘুমহীনতা, নিজের সন্তানকেও আপন মনে না হওয়া— এগুলি কোনও খামখেয়ালিপনা বা মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression)।
সন্তান জন্মের পর অনেক মহিলার শরীরে দ্রুত হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রসবের শারীরিক ধকল, রাতের পর রাত ঘুমের অভাব, নবজাতকের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার চাপ এবং নতুন দায়িত্বের উদ্বেগ। এই সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই অনেকের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আগে থেকে যদি বিষণ্ণতা বা উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যার ইতিহাস থাকে, তা হলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
প্রসবের পর কয়েক দিনের জন্য মন খারাপ বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া (Baby Blues) তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। তবে সেই উপসর্গ যদি দু'সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবন বা শিশুর যত্ন নেওয়ার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে, তা হলে সেটিকে আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতায় আক্রান্ত মায়েদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়—
শেষের লক্ষণটি দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের উচিত শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, যাতে মা কিছুটা বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময় পান।
এ ছাড়া নিজের অনুভূতি চেপে না রেখে স্বামী, পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও জরুরি। প্রসবের পর নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপে থাকা এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখা দরকার, প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা কোনও দুর্বলতা নয়, কোনও লজ্জার বিষয়ও নয়। এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ মা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
কারণ, একজন সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ শিশুর প্রথম আশ্রয়। তাই মাতৃত্বের হাসির আড়ালে যদি নীরব বিষণ্ণতা লুকিয়ে থাকে, তাকে অবহেলা নয়— গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।
