১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
‘র‍্যাঞ্চো’ নিয়ে ১৭ বছরের জল্পনায় ইতি!

আমির খান ও সোনাম ওয়াংচুক। ছবি - Google.

‘র‍্যাঞ্চো’ নিয়ে ১৭ বছরের জল্পনায় ইতি!

প্রায় সতেরো বছর ধরে বলিউডপ্রেমীদের একাংশের কাছে বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে এসেছে, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র‌্যাঞ্চো কি বাস্তবের সোনম ওয়াংচুক? ছবির শেষ দৃশ্যে লাদাখের পাহাড়ে বসবাসকারী উদ্ভাবক ফুনসুখ ওয়াংড়ু-র চরিত্র, তাঁর শিক্ষাব্যবস্থা বদলে দেওয়ার স্বপ্ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন— সব মিলিয়ে অনেকেই মনে করেছিলেন, লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েই চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি।

সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে প্রচলিত ধারণা ভাঙলেন আমির

এই বিশ্বাস এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, বহু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে র‌্যাঞ্চো এবং সোনম ওয়াংচুককে কার্যত সমার্থক হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সেই বহুচর্চিত ধারণাকেই এবার প্রকাশ্যে নস্যাৎ করলেন ছবির মুখ্য অভিনেতা আমির খান।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব লন্ডন-এ 'লগান'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর পর দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গিয়ে আমির বলেন, "'থ্রি ইডিয়টস' কোনওভাবেই সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি। ছবির চিত্রনাট্য লেখা, চরিত্র নির্মাণ কিংবা শুটিংয়ের সময় আমরা কেউই সোনম ওয়াংচুককে চিনতাম না। পরে তাঁর কাজ সম্পর্কে জানতে পেরে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছিলাম।"

আরও পড়ুন
শাড়ির গণ্ডি ভেঙে সাহসী পদক্ষেপ! ভারতীয় সিনেমায় প্রথাভাঙা তিন কন্যা

আমিরের এই মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রচার হয়ে আসছিল যে, র‌্যাঞ্চোর চরিত্রে সোনম ওয়াংচুকের জীবনের একাধিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে। এমনকি ছবি মুক্তির কয়েক বছর পর সোনম নিজেও জানিয়েছিলেন, ছবির কিছু অংশ তাঁর জীবনের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। তবে তিনি কখনও দাবি করেননি যে পুরো চরিত্রটি তাঁর জীবন থেকেই নেওয়া।

আমির অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চরিত্রটির সঙ্গে সোনমের বাস্তব জীবনের মিল থাকলেও সেটি নিছক কাকতালীয়। তাঁর কথায়, একটি চরিত্রের সঙ্গে কোনও ব্যক্তির জীবনের মিল পাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সেই চরিত্র তাঁর জীবন অবলম্বনে তৈরি— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

তবে সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে আমিরের বক্তব্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধাও। বর্তমানে লাদাখের সাংবিধানিক মর্যাদা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষার দাবিতে দীর্ঘ অনশনে রয়েছেন সোনম। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমির। তিনি বলেন, "সোনম দেশের জন্য অসাধারণ কাজ করছেন। আমরা সবাই চাই, তিনি সুস্থ থাকুন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, তিনি দ্রুত অনশন ভেঙে নিজের লড়াই অন্যভাবে চালিয়ে যাবেন।"

আমিরের এই মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। কয়েক দিন আগেই ছবিতে 'চতুর রামালিঙ্গম' চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা ওমি বৈদ্য দাবি করেছিলেন, র‌্যাঞ্চো চরিত্রের নেপথ্যে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই মন্তব্যের পরই ফের পুরনো বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। কিন্তু আমির কার্যত সেই দাবিকে খারিজ করে দিয়ে বলেন, "ওই ধারণা ঠিক নয়।"

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রাজকুমার হিরানি পরিচালিত 'থ্রি ইডিয়টস' মূলত চেতন ভগতের উপন্যাস 'ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান' অবলম্বনে নির্মিত। তবে ছবির শেষ অংশে 'ফুনসুখ ওয়াংড়ু' চরিত্রের আবির্ভাব এবং লাদাখের প্রেক্ষাপট দর্শকদের মনে অন্য এক ব্যাখ্যার জন্ম দেয়। সেই থেকেই র‌্যাঞ্চোকে সোনম ওয়াংচুকের প্রতিরূপ বলে মনে করতে শুরু করেন অনেকে।

প্রায় দুই দশক পর সেই জল্পনায় ইতি টানার চেষ্টা করলেন আমির খান। তবে তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন পুরনো বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে, তেমনই অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের প্রতি অভিনেতার সহমর্মিতাও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ফলে বলিউড, সামাজিক আন্দোলন এবং রাজনীতির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য এখন জাতীয় স্তরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য