solarflame-nasa
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬
মহাকাশ থেকে ধেয়ে এল এক অদৃশ্য ঝড়। হঠাৎই সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে নির্গত হল প্রচণ্ড শক্তিশালী এক শক্তির ঝলকানি, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘X-class solar flare’। আর এই সৌর শিখার প্রভাবে পৃথিবীর আলোকিত অংশে (যেখানে যেখানে তখন দিন ছিল) শর্টওয়েভ রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে অকেজো হয়ে পড়ে।
কী ঘটেছিল আজ?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সূর্য আজ যেন কিছুটা ‘খামখেয়ালি’ আচরণ করেছে। সূর্যের দাগ বা সানস্পট (Sunspot) থেকে হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic radiation) মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। আলোর গতিতে ধেয়ে আসা এই বিকিরণ মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানে। এর ফলে পৃথিবীর ওপরের স্তরে থাকা আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।
কেন স্তব্ধ হল রেডিও সিগন্যাল?
আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার উঁচুতে ‘আয়নোস্ফিয়ার’ নামক একটি স্তর থাকে। সাধারণত বিমান চালক, নৌযান এবং হ্যাম রেডিও অপারেটররা এই স্তরের সাহায্যেই সিগন্যাল আদান-প্রদান করেন। সিগন্যালগুলো এই স্তরে ধাক্কা খেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
কিন্তু আজকের এই শক্তিশালী সৌর শিখার ফলে আয়নোস্ফিয়ারের নীচের স্তর বা ‘D-layer’ মাত্রাতিরিক্ত চার্জ হয়ে যায়। ফলে রেডিও তরঙ্গ সেখানে প্রতিফলিত হওয়ার বদলে শোষিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা একেই ‘রেডিও ব্ল্যাকআউট’ বলছেন। ফলে পাইলট ও নাবিকদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।
সাধারণ মানুষের কি চিন্তার কারণ আছে?
বিজ্ঞানীদের মতে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই ব্ল্যাকআউট সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে বড়জোর এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। তবে এই ধরণের শক্তিশালী শিখার সাথে অনেক সময় ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ বা বিশাল প্লাজমার মেঘ নির্গত (CME) হয়। যদি তেমন কোনো মেঘ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় (Geomagnetic storm) হতে পারে। যা জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ গ্রিডে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।
X-class শিখা আসলে কী?
সৌর শিখাকে তাদের শক্তির ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: A, B, C, M এবং X। এদের মধ্যে X-শ্রেণি হল সবথেকে শক্তিশালী। প্রতিটি শ্রেণি তার আগেরটির তুলনায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ আজকের এই ‘X’ শ্রেণির বিস্ফোরণটি ছিল সূর্যের সবথেকে ভয়াবহ রূপের একটি ঝলক।
আপাতত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। শর্টওয়েভ রেডিওতে বিঘ্ন ঘটলেও ইন্টারনেটের ওপর এর কোনো সরাসরি প্রভাব পড়েনি বলেই জানানো হয়েছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।