২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
এক রাতেই চাকরি হারাবে কোটি কোটি মানুষ? AI-এর আসল রূপ ফাঁস!

AI লাখ লাখ চাকরি কাড়ছে? ছবি - AI

এক রাতেই চাকরি হারাবে কোটি কোটি মানুষ? AI-এর আসল রূপ ফাঁস!

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

সত্যিই কি এআই কাড়ছে লাখ লাখ চাকরি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কারণে লাখ লাখ চাকরি মুছে যাওয়ার যে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, গবেষণার তথ্যে বাস্তবে তার প্রমাণ মেলেনি। কাজ পুরোপুরি উধাও হওয়ার বদলে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে; সংস্থাগুলো এখন ছাঁটাইয়ের চেয়ে কর্মীদের এআই দক্ষতায় বেশি জোর দিচ্ছে।

মূল বিষয়

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে একটাই রব উঠেছিল—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের রুটিরুজিতে টান দেবে। নামীদামি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারা একপ্রকার ভবিষ্যদ্বাণীই করে ফেলেছিলেন যে, হোয়াইট কলার বা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক চাকরিগুলির অর্ধেকই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মুছে যাবে। সেই আশঙ্কায় বহু সংস্থা আগাম কর্মী ছাঁটাইয়ের অজুহাত খুঁজতে শুরু করেছিল, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর পর দেখা যাচ্ছে, যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছবি আঁকা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। রক্তক্ষয়ী সেই পূর্বাভাস মিথ্যা প্রমাণ করে কাজের দুনিয়া এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিচ্ছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে: বিপ্লব বনাম বাস্তব

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এআই-এর প্রবল প্রসারের পরও কাজের সুযোগ রাতারাতি উধাও হয়ে যায়নি। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে যেসব পেশা এআই-এর সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে বেকারত্বের হার বেড়েছে মাত্র ০.৭৭ শতাংশ। উল্টোদিকে, যেসব কাজে এআই-এর কোনো সরাসরি প্রভাব নেই, সেখানেও বেকারত্ব বেড়েছে প্রায় ০.৮৫ শতাংশ। নতুন স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্ব কিছুটা বাড়লেও তার পেছনে শুধু এআই নয়, অতিমারী পরবর্তী অতিরিক্ত নিয়োগের ধাক্কা সামলানো এবং রিমোট কাজের পুনর্বিন্যাসের মতো আরও অনেক কারণ রয়েছে। ঠিক যেমন কম্পিউটার আসার পর পুরো কর্মসংস্কৃতি বদলে যেতে কয়েক দশক সময় লেগেছিল, এআই-এর ক্ষেত্রেও ইতিহাস যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

কাজ কমছে না, কাজের ধরন বদলাচ্ছে

আরও পড়ুন
স্ট্রিং থিয়োরি: প্রথম ভারতীয় হিসেবে বাঙালির বিশ্বজয়
বিশ্বের ৪০০ ব্যাঙ্কে AI হানা! আপনার জমানো টাকা আদৌ সুরক্ষিত?
নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতা: চাঁদ থেকে মঙ্গলে আধিপত্যের লড়াই

বর্তমান বাজারের আসল সত্যটি হল—কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে না, কাজের প্রকৃতি আমূল বদলে যাচ্ছে। এআই মানুষের জায়গা দখল করে তাকে বের করে দিচ্ছে না, বরং যারা কাজ করছেন তাদের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলছে। এক বছর আগেও যে কাজ করতে দশ জনের দল লাগত, আজ হয়তো সেখানে দুজন কর্মী এআই টুলের সাহায্যে সেই একই পরিমাণ কাজ অনেক কম সময়ে সেরে ফেলছেন। এর ফলে একঘেয়ে ডেটা এন্ট্রি বা নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটির মতো ক্লান্তিজনক কাজ কমে আসছে, আর মানুষ বেশি মন দিতে পারছে কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং সৃজনশীল ভাবনায়। কাজের পরিসর ছোট হয়নি, বরং একজন ব্যক্তি কতটা কাজ দক্ষতার সাথে করতে পারেন, তার মাপকাঠি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

যোগ্যতার নতুন মাপকাঠি: দক্ষতাতেই টিকে থাকার চাবিকাঠি

সংস্থাগুলি আজ কর্মী খোঁজার ক্ষেত্রে শূন্যপদ কমাচ্ছে না, বরং প্রবেশের মানদণ্ড বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলো বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ নিয়োগকর্তা এখন এমন কর্মী চান যাদের এআই ব্যবহারে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিজ্ঞাপনে সরাসরি ‘এআই দক্ষতা’ শব্দটা লেখা না থাকলেও দ্রুত কাজ দেওয়া, উন্নত গুণমান এবং স্বাবলম্বী হওয়ার অদৃশ্য এক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, বর্তমান পরিবর্তনকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—কিছু কাজ পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়া, কিছু সম্পূর্ণ নতুন কাজের সৃষ্টি হওয়া, এবং সবচেয়ে বড় অংশটি হল বিদ্যমান কাজের রূপান্তর ঘটা। তৃতীয় ভাগটাই সবচেয়ে প্রভাবশালী। অর্থাৎ কাজের অভাবের চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরোনো দক্ষতার সাথে নতুন প্রযুক্তির তাল মেলাতে না পারা।

আগামীর পথ: আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতির সময়

অতীতের প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব—তা বাষ্পীয় ইঞ্জিনই হোক বা কম্পিউটার—প্রথমে মানুষকে আতঙ্কিত করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তই খুলে দিয়েছিল। এআই-ও সেই একই পথের পথিক। পাইকারি হারে কাজ হারিয়ে যাওয়ার যে জুজু দেখানো হয়েছিল, বাস্তব দুনিয়া তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে অভিযোজনের গল্প লিখছে। আগামী দিনে যারা এই প্রযুক্তিকে ভয় পেয়ে দূরে সরে থাকবে, তারা হয়তো পিছিয়ে পড়বে; কিন্তু যারা একে নিজের কাজের সহায়ক হাতিয়ার বানিয়ে নিতে পারবে, কাজের বাজার তাদের জন্যই খোলা থাকবে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য