

দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। ছবি - Google
তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরলে দুর্যোগের আশঙ্কা, অন্ধ্রপ্রদেশ-কর্নাটকেও বৃষ্টির পূর্বাভাস। ২৩ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে নতুন নিম্নচাপ, শক্তি বাড়ালে বদলাতে পারে আবহাওয়ার পরিস্থিতি। তবে নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নয়।
বঙ্গোপসাগরে একের পর এক আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির দাপট বাড়ার আশঙ্কা। আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। বিশেষ সতর্কতা রয়েছে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকল এলাকায়। কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং লাক্ষাদ্বীপের বিভিন্ন অংশেও ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহবিদদের নজর এখন বঙ্গোপসাগরের দিকে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তামিলনাড়ু উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, থাইল্যান্ড ও মায়ানমার সংলগ্ন এলাকায় থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে সরে এসেছে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ২৩ অক্টোবর নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। তার পর সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে শক্তি বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকল এলাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। কেরল ও মাহেতেও কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। লাক্ষাদ্বীপে ২২ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ কর্নাটকের অভ্যন্তরীণ অংশেও ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা, ইয়ানাম এবং রায়লসীমাতেও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতের সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকলের কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। ভারী বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, রাস্তায় জল জমা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকে। বিশেষত তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের বৃষ্টির ক্ষেত্রে এই মৌসুমি বায়ুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ে। এর ফলে বৃষ্টির তীব্রতা ও বিস্তার বাড়তে পারে।
এ বার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চল এবং উত্তর আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত—দুটি আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছেন আবহবিদেরা। নতুন নিম্নচাপটি তৈরি হওয়ার পরে কতটা শক্তিশালী হবে এবং কোন পথে এগোবে, তার উপর পরবর্তী কয়েক দিনের বৃষ্টির পরিস্থিতি নির্ভর করবে। তবে নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নয়। আপাতত নতুন ঘূর্ণিঝড় তৈরির বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়া ব্যবস্থার শক্তি ও গতিপথ সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময়ে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, রাস্তায় জল জমতে পারে এবং যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। উপকূলের কাছে সমুদ্রের পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হলে সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং সমুদ্রে যাতায়াতকারী নৌযানগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ ভারতে যখন বৃষ্টির দাপট বাড়ার আশঙ্কা, তখন দেশের অন্য অংশের আবহাওয়া পরিস্থিতি তুলনায় আলাদা। তবে বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে পূর্বাভাসেও বদল আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়ার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বঙ্গোপসাগরের এই আবহাওয়া ব্যবস্থা। ২৩ অক্টোবরের সম্ভাব্য নিম্নচাপ শক্তি বাড়ালে বৃষ্টির বিস্তার আরও বাড়তে পারে। আপাতত ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সতর্কতা থাকায় ভারী বৃষ্টিপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের মৌসম ভবন ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
2016 সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক। 2020 থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে The Fourth Axis বাংলায় কর্মরত। শখ বলতে সময় পেলে সমুদ্রের কাছে যাওয়া।
