৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

৯-৫টার বদলে এখন ‘ফ্লেক্সিবল’ ডিউটি ! Gen Z-র ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কলকাতার ‘কর্মসংস্কৃতি’?

৯-৫টার বদলে এখন ‘ফ্লেক্সিবল’ ডিউটি ! Gen Z-র ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কলকাতার ‘কর্মসংস্কৃতি’?

genZ-working

৯-৫টার বদলে এখন ‘ফ্লেক্সিবল’ ডিউটি ! Gen Z-র ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কলকাতার ‘কর্মসংস্কৃতি’?

কলকাতা: একসময় ‘বাবু কালচার’-এর শহর বলে পরিচিত ছিল কলকাতা। অফিস মানেই নির্দিষ্ট সময়ে ঢোকা, ফাইল ঘাঁটা, আর বিকেল গড়ালেই চা-আড্ডা—এই ছিল কর্মসংস্কৃতির চেনা ছবি! কিন্তু সময় বদলেছে, বদলাচ্ছে শহরের কাজের ধরণও। নতুন প্রজন্ম, বিশেষত Genz-র প্রভাব এখন স্পষ্ট কলকাতার অফিসপাড়ায়।
বর্তমানে শহরের কর্পোরেট অফিস থেকে স্টার্টআপ, সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে কাজের নতুন সংজ্ঞা । ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’, ‘রিমোট ওয়ার্ক’, ‘ফ্লেক্সিবল আওয়ার’—এই শব্দগুলো এখন আর কেবল বড় শহরের বিলাসিতা নয়, কলকাতার বাস্তবতা। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এই সব ক্ষেত্রের প্রসারে কাজের ধরন হয়ে উঠছে অনেক বেশি গতিশীল ও ফলাফলমুখী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন

Genz-র বৈশিষ্ট্য হল, তাঁদের সহজ-সোজাসাপ্টা মনোভাব। তাঁরা অকারণ হায়ারার্কি মানতে নারাজ, কাজের পরিবেশে স্বচ্ছতা ও সম্মান চান। ফলে, অনেক সংস্থা এখন বাধ্য হচ্ছে নিজেদের কর্মসংস্কৃতি নতুন করে গড়ে তুলতে। বস-সাবঅর্ডিনেট সম্পর্কের জায়গায় আসছে ‘টিম কালচার’।
কলকাতার সেক্টর ফাইভ বা নিউটাউনের মতো আইটি হাবগুলিতে এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে । যেখানে কাজের চাপ মানেই দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, এখন সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে কাজের গুণমান (Productivity)। অনেক সংস্থা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) দিকেও নজর দিচ্ছে—অফিসে ‘ওয়েলনেস প্রোগ্রাম’, ‘কাউন্সেলিং’, এমনকি ‘ডে-অফ’ সংস্কৃতিও জনপ্রিয় হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জগুলো কী

এই পরিবর্তনের সঙ্গে চ্যালেঞ্জও কম নয়। শহরের বহু ঐতিহ্যবাহী সংস্থা এখনও পুরনো ধ্যানধারণায় আটকে। সেখানে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে মতবিরোধ। একদিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ, অন্যদিকে স্থায়িত্বের অভাব—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পড়ছেন অনেক কর্মী। যোগ্যতা, দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আগে যে আলোচনা থাকত শুধু ওপরমহলে সীমাবদ্ধ, জেনজি কর্মীরা সেখানে অংশ নিতে চাইছেন সামগ্রিক গুণমানের স্বার্থে। সেটা সবসময় সম্ভব হয়ে উঠছে না নানা বাস্তব কারণে। তার ফলে তৈরি যুক্তিযুদ্ধ ও অসন্তোষ।

আশার আলো

তবু সামগ্রিক চিত্রে আশার আলোই বেশি। কলকাতায় স্টার্টআপ সংস্কৃতির উত্থান, ফ্রিল্যান্সিং-এর সুযোগ বৃদ্ধি, এবং গ্লোবাল কোম্পানির আগমন—সব মিলিয়ে কর্মসংস্কৃতি আরও বহুমুখী হচ্ছে। এখন কলকাতার যুবক-যুবতীরা শুধু চাকরি খোঁজেন না, বরং নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ বেছে নিতে চাইছেন কোভিড পেরিয়ে আসা, বাড়ি থেকে কাজ করায় (Work from home) ক্রমে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা নতুন কর্মীরা।

পরিবর্তন ইতিবাচক

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বাড়লে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। পাশাপাশি, কলকাতা আবারও পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে কলকাতার কর্মসংস্কৃতি এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পুরনো ধ্যানধারণার সঙ্গে নতুন ভাবনার সংঘর্ষে তৈরি হচ্ছে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ—যেখানে কাজ মানেই শুধু দায়িত্ব নয়, বরং নিজের মতো করে বাঁচারও এক নতুন পথ।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য