২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
দিনে সরকারি আমলা, রাতে প্র্যাকটিস করে প্যারালিম্পিক্সে ইতিহাস

সুহাস ইয়াথিরাজ। ছবি - Google

দিনে সরকারি আমলা, রাতে প্র্যাকটিস করে প্যারালিম্পিক্সে ইতিহাস

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

দিনে সরকারী আমলা, রাতে প্র্যাকটিস সুহাসের

পেশায় তিনি আইএএস আধিকারিক। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে রাতের অন্ধকারে ব্যাডমিন্টন কোর্টে নেমে পড়েন সুহাস ইয়াথিরাজ। এশীয় প্যারা গেমসে পুরুষদের একক এসএল৪ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের এই প্যারা-ব্যাডমিন্টন তারকা। কিন্তু আরও ভালো করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ সুহাস।

মূল বিষয়

পেশায় তিনি আইএএস আধিকারিক। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে রাতের অন্ধকারে ব্যাডমিন্টন কোর্টে নেমে পড়েন তিনি। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জেতাই তাঁর লক্ষ্য। সেই সুহাস ইয়াথিরাজ এশীয় প্যারা গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেও সন্তুষ্ট নন। তাঁর চোখে সোনা জয়ের স্বপ্ন। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পুরুষদের একক এসএল৪ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের এই প্যারা-ব্যাডমিন্টন তারকা। কিন্তু আরও ভালো করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ সুহাস।

ইন্দোনেশিয়ার ফ্রেডি সেটিয়াওয়ানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ২৩-২১, ৮-২১, ১৫-২১ ব্যবধানে হেরে যান সুহাস। প্রথম গেমে জয়ের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় গেমে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ২১-৮ জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। কিন্তু নির্ণায়ক গেমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মনঃসংযোগ হারানোই তাঁর পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুহাস বলেছেন, ‘ব্রোঞ্জ জিতে আমি একেবারেই সন্তুষ্ট নই। আমার সম্পূর্ণ ক্ষমতা অনুযায়ী খেলতে পারলে আরও ভালো ফল করতে পারতাম। নাগোয়ায় কয়েক দিন আগেই গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়ার ফ্রেডিকে হারিয়েছিলাম।’

সেমিফাইনালের লড়াই নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘প্রথম গেমটা খুব কাছাকাছি ছিল। ২৩-২১ হেরেছি। গেম পয়েন্ট, সেট পয়েন্ট পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় গেমে খুব সহজেই জিতেছিলাম। কিন্তু তৃতীয় গেমে ১০-১০ হওয়ার পরে দু’-তিনটি র‌্যালিতে মনঃসংযোগ হারাই। সেখানেই প্রতিপক্ষ এগিয়ে যায়। আমার দিনটা ভালো ছিল না। আমি সব সময় সোনা জিততে চাই। সেই জায়গা থেকেই একটু খারাপ লাগছে।’

বড় প্রতিযোগিতায় চাপ সামলানোর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি। সুহাসের কথায়, ‘পদক জেতার ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ভালো প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, আপনার ফিটনেস ও দক্ষতা থাকতে পারে। কিন্তু বড় প্রতিযোগিতায় যদি সেই পারফরম্যান্স তুলে ধরতে না পারেন, তা হলে পেশাদার সাফল্যের ক্ষেত্রে তার বিশেষ কোনও মূল্য থাকে না।’

প্রশাসনিক দায়িত্বের পর ব্যাডমিন্টন

সুহাসের জীবন অন্য অনেক ক্রীড়াবিদের থেকে আলাদা। দিনের বড় অংশ কাটে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে। অফিসের কাজ, পরিদর্শন, বৈঠক, ভিডিয়ো কনফারেন্স এবং ফাইল সামলানোর পরও ব্যাডমিন্টনের জন্য সময় বার করেন তিনি। ভোরে শরীরচর্চা, দিনের বেলায় সরকারি কাজ, আর রাতে কোর্টে অনুশীলন—এই তাঁর দৈনন্দিন রুটিন।

কাজ ও খেলাকে একসঙ্গে সামলানো যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন সুহাস। তাঁর কথায়, ‘আপনি যদি নিজের ভালোবাসার কাজ বেছে নেন, তা হলে সেই যাত্রাটা কষ্টকর বলে মনে হয় না। আপনি সেই যাত্রা উপভোগ করেন। আমিও সেটাই করি।’

কী ভাবে এই দুই দায়িত্ব সামলান, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত রাতে আমার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়। অন্যেরা হয়তো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়, অবসর উপভোগ করে। আমার অবসর কাটে ব্যাডমিন্টন খেলে। এই খেলায় অত্যন্ত ভাল ফিটনেস প্রয়োজন। কাজটা কঠিন, ক্লান্তিকর, কিন্তু আমি এটা ভালবাসি।’

আরও পড়ুন
মোটা ছিলেন বলে বারবার প্রত্যাখ্যান, সেই হ্যারি’ই হলেন বিশ্বের সেরা!
শচীন-দ্রাবিড়েই প্রেরণা কর্ণাটকের উঠতি তারকা মনবন্ত কুমার
‘জুগাড়ু’ ক্রিকেটার থেকে ভারতের ভরসা নমন ধীর

নিজের ফিটনেস এবং খাবারের বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন সুহাস। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মিষ্টি খেয়েছেন বলেও তাঁর মনে পড়ে না। ভাজাভুজি এড়িয়ে চলেন এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দেন।

তৃতীয় প্যারালিম্পিক্সে সোনার স্বপ্ন

৪৩ বছর বয়সি সুহাস ২০২০ সালের টোকিয়ো এবং ২০২৪ সালের প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে পুরুষদের একক এসএল৪ বিভাগে রুপো জিতেছিলেন। ২০২২ সালের হাংঝৌ এশীয় প্যারা গেমসে সোনা জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। এ বার নাগোয়ায় ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। ২০১৮ সালের এশীয় প্যারা গেমসেও এই বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি।

এ বার তাঁর সামনে নতুন লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিক্স। সেখানে সোনার পদক জিতে রুপোর বৃত্ত ভাঙতে চান তিনি। তবে এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে নারাজ এই ভারতীয় শাটলার।

সুহাস বলেছেন, ‘১০ বছর আগে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি জানতামই না যে ভারতের হয়ে খেলব। কিন্তু যখন নিজের পদকগুলোর দিকে তাকাই, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থক এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভাবলে যাত্রাটা খুবই তৃপ্তিদায়ক মনে হয়। দেশের জার্সি পরে দেশের হয়ে পদক জেতার সম্মান পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কোনও দিন ভাবিনি আইএএস আধিকারিক হব, অর্জুন পুরস্কার পাব কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসাবে পদক জিতব। ঈশ্বর এবং ভাগ্য আমার প্রতি সদয় থেকেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও নিজের সেরাটা দিতে পারব।’

অনুপ্রেরণা লি চং ওয়েই

ছোটবেলা থেকেই মালয়েশিয়ার কিংবদন্তি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় লি চং ওয়েইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন সুহাস। কোর্টে তাঁর চলাফেরা, গতি এবং খেলার ধরন সুহাসকে আকৃষ্ট করত। ভারতের লক্ষ্ম্য সেন, এইচ এস প্রণয় এবং কিদাম্বি শ্রীকান্তের মতো শাটলারদের খেলাও তাঁর ভালো লাগে।

সুহাসের এই যাত্রা তাই শুধু একটি ব্রোঞ্জ পদকের গল্প নয়। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন তিনি। নাগোয়ায় সোনা না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও আগামী দু’বছর সেই অপূর্ণতা মেটানোর প্রস্তুতিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারালিম্পিক্সের মঞ্চে দেশের হয়ে সোনা জিততে পারবেন কি না, তার উত্তর দেবে সময়। তবে তাঁর লড়াই থামছে না।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
শুভ্র মুখোপাধ্যায়
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য