subhendu-mamata-bhabanipore
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বুধবার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। বিস্তীর্ণ এই ভোটপর্ব জুড়ে রয়েছে বহু হেভিওয়েট প্রার্থী, তারকা মুখ, অভিজ্ঞ মন্ত্রী এবং নবাগত রাজনীতিক। তবুও গোটা দফার রাজনৈতিক উত্তাপ যেন এক জায়গাতেই এসে ঠেকেছে—ভবানীপুর। কারণ, এই কেন্দ্রে মুখোমুখি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে যে দ্বৈরথ রাজ্যের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল, এ বার তারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে কলকাতার বুকে। তবে প্রেক্ষাপট বদলেছে। ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রী মমতার নিজস্ব কেন্দ্র—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি। সেই জায়গাতেই তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। ফলে এই লড়াই শুধু একটি আসনের সীমায় আবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির প্রতীকী সংঘর্ষ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে জনমতের স্রোত কোন দিকে বইছে। এক দিকে রয়েছে মমতার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের মজবুত ভিত এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা। অন্য দিকে শুভেন্দুর আগ্রাসী প্রচার, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরাসরি ‘চ্যালেঞ্জ পলিটিক্স’।
তবে দ্বিতীয় দফার ভোট কেবল ভবানীপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতার আরও ১০টি আসনে রয়েছে জমজমাট লড়াই। কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম-এর মতো ‘অপরাজিত’ নেতার বিরুদ্ধে বিজেপির চ্যালেঞ্জ, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সব জায়গাতেই রয়েছে বহুস্তরীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শহরের পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়াতেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের প্রার্থীরা।
এই দফায় প্রায় ৬৬ জন প্রার্থী রয়েছেন বিশেষ নজরে। তাঁদের মধ্যে কেউ বহুবারের জয়ী, কেউ বা বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেও ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ। আবার অনেকে প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভোটের লড়াই শুধু দলগত নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইমেজ এবং গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, গতবার এই ১৪২টি আসনের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল শাসকদল। বিরোধীদের সাফল্য সীমিত ছিল। তাই এ বার দ্বিতীয় দফার ফলাফল শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দফা থেকেই স্পষ্ট হতে পারে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আগের মতোই থাকবে, না কি বদলের ইঙ্গিত মিলবে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট শুধু সংখ্যা গণনার লড়াই নয়—এ এক মর্যাদা, প্রভাব এবং নেতৃত্বের পরীক্ষার মঞ্চ। আর সেই মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের রায়ই হয়তো বলে দেবে, বাংলার রাজনীতির আগামী অধ্যায় কোন পথে এগোবে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।