৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

সাইবার যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘মাইথোস’: হ্যাকারদের হাতে কি চলে গেল তুরুপের তাস?

সাইবার যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘মাইথোস’: হ্যাকারদের হাতে কি চলে গেল তুরুপের তাস?

mythos-cybercrime-new-discovery

সাইবার যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘মাইথোস’: হ্যাকারদের হাতে কি চলে গেল তুরুপের তাস?

অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল 'মাইথোস' সাইবার নিরাপত্তার জগতে এক নতুন এবং জটিল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ অ্যান্টি-ভাইরাস বা স্ক্যানারের বদলে এই মডেলটি একজন অভিজ্ঞ সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারের মতো কাজ করে, যা এক নাগাড়ে সফটওয়্যারের গভীরে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র ত্রুটিগুলোও খুঁজে বের করতে পারে। অ্যানথ্রোপিক টেক জায়ান্টদের নিয়ে 'প্রজেক্ট গ্লাসউইং' নামক একটি জোট গঠন করে এই মডেলের ব্যবহার নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল, যাতে হ্যাকারদের আগেই ডিফেন্ডাররা সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সারিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই পরিকল্পনার নৈতিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

নিরাপত্তার রক্ষক যখন নিজেই অরক্ষিত

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, যে কোম্পানি বিশ্বকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তাদের নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থাই অত্যন্ত পলকা বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনুমোদনা নেই এমন একটি গোষ্ঠী কোনও জটিল উপায় হ্যাকিং না করেই কেবল ইউআরএল (URL) আন্দাজ করে এবং সাধারণ ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করে মিথোস মডেলে ঢুকে পরে। এর আগে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ প্রায় ৩,০০০ ফাইলও ভুলবশত জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ৩৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সংস্থার এমন অপেশাদার নিরাপত্তা ত্রুটি প্রমাণ করে যে, অতি-শক্তিশালী এই প্রযুক্তিগুলো আসলে কতটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

এক অসম যুদ্ধের হাতছানি

মাইথোসের ক্ষমতা এতটাই বেশি যে এটি বর্তমানের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্রাউজারগুলোর হাজার হাজার গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেছে। কিন্তু মুশকিল হল, এই শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলোর ১ শতাংশেরও কম এখনো পর্যন্ত মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এক বিশাল 'দুর্বলতার মানচিত্র' তৈরি হচ্ছে, যা ভুল হাতে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো মুহূর্তেই ধসিয়ে দিতে পারে। হ্যাকারদের জন্য এখন মাসের কাজ কয়েক মিনিটে করা সম্ভব হচ্ছে, অথচ 'ডিফেন্ডারদের' জন্য প্যাচ তৈরি বা সিস্টেম আপডেট করার ধীরগতি আগের মতোই রয়ে গেছে। এই গতির অসমতা সাইবার যুদ্ধের ভারসাম্য পুরোপুরি আক্রমণকারীদের কোর্টে বল ঠেলে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও অবিশ্বাসের বাতাবরণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল অ্যানথ্রোপিক নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের ক্ষমতা সম্পন্ন সস্তা এবং ওপেন-সোর্স মডেলও বাজারে আসবে। তখন একক কোনও  প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গেটকিপার হিসেবে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যখন হ্যাকারদের কাছে এই ধরনের 'মাইথোস-লেভেল' প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে, তখন পুরনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ধীরগতির প্যাচ সাইকেল দিয়ে তাদের মোকাবিলা করা যাবে না। সব মিলিয়ে, অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এই 'প্রতিকার' নিজেই একটি বড় রোগে পরিণত হয়েছে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল। কারণ রক্ষাকবচ যদি নিজেই ভেঙে পড়ে, তবে তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য