west bengal assembly election 2026-review by TFA
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬
চায়ের আড্ডা থেকে রাজনৈতিক মহল—একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: একই ছবি ফিরবে, না কি পাল্টাবে ক্ষমতার সমীকরণ?
‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’—শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাসী স্লোগান। পাল্টা সুর বিরোধীদের, ‘মানুষ রায় দিয়ে ফেলেছেন, বাংলায় এবার বদল হবেই’। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—দু’দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ।
ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির পাশাপাশি বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং একাধিক আঞ্চলিক শক্তি। প্রত্যেকেই জয়ের দাবিতে সরব। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর আবহে বাংলার এবারের লড়াইটা অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো—শেষ বল না পড়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা কঠিন। তাই আবেগ নয়, তথ্য-পরিসংখ্যানেই খোঁজা হচ্ছে শক্তি-দুর্বলতার হিসেব।

তৃণমূল কংগ্রেস: সংগঠন, প্রকল্প ও মহিলা ভোটব্যাঙ্ক
টানা 15 বছর তখতে থাকার সুবাদে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনের বিস্তার তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মহিলা ও গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০০-র বেশি আসন জয়ের রেকর্ড সেই শক্তিকেই তুলে ধরে।
তবে অস্বস্তির জায়গাও কম নয়। নিয়োগ দুর্নীতি, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আরজি কর ইস্যু—এই সবই ভোটের আগে চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। দলীয় অন্দরে যদিও আত্মবিশ্বাস—কিছু আসন কমতে পারে, কিন্তু ‘তখত’ অটুটই থাকবে।
বিজেপি: বিরোধী শক্তির কেন্দ্রে, কিন্তু নেতৃত্ব প্রশ্নে ধোঁয়াশা
গতবার প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭৭টি আসন—এই ফলেই বিজেপি রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও শহরতলির বেশ কিছু এলাকায় তাদের সংগঠন দৃঢ়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাইভোল্টেজ প্রচার, জাতীয় ইস্যুর জোর—সবই বিজেপির অস্ত্র।
তবে বাংলায় শক্তিশালী স্থানীয় মুখের অভাব, দলবদল রাজনীতি ও সংগঠনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। তবু বিজেপির দাবি স্পষ্ট—“মানুষ বদলের পক্ষেই রায় দিয়েছে”।
বামফ্রন্ট: আদর্শে উপস্থিতি, ফলে অনিশ্চয়তা
২০১১-র পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বামেদের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ছাত্র-যুব আন্দোলন, কর্মসংস্থান ইস্যুতে তাদের সক্রিয়তা নতুন করে নজর কেড়েছে।
কিন্তু সমস্যা অন্যত্র—ভোট শতাংশকে আসনে রূপান্তর করতে না পারা, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের অভাব। ফলে প্রভাব থাকলেও ফল কতটা মিলবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
কংগ্রেস: জোট ছেড়ে ‘একলা চলো’ পরীক্ষায়
একসময় তৃণমূলের সঙ্গী, পরে বামেদের সঙ্গে জোট—এবার সম্পূর্ণ একলা পথে কংগ্রেস। দলের দাবি, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তারা উল্লেখযোগ্য ফল করবে। তবে বাস্তবে এই আত্মবিশ্বাস কতটা ভোটে প্রতিফলিত হবে, সেটাই এখন দেখার।
ছোট দল, বড় সমীকরণ
আইএসএফের পাশাপাশি নতুন আঞ্চলিক দল হুমায়ুন কবীরের ‘আমরা জনতা উন্নয়ন পার্টি’-ও এবারের ভোটে নজর কেড়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব বিস্তারের দাবি তাদের । বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ হলে বহু আসনে ‘কাটাকাটি’ লড়াই তৈরি হতে পারে—যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শাসকদলের অঙ্কে।
এসআইআর: নীরব ফ্যাক্টর, বড় প্রভাব?
এবারের ভোটে অন্যতম আলোচনার বিষয় এসআইআর। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম বাদ পড়েছে, আবার বহু নাম এখনও বিচারাধীন। এ নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত—এই এসআইআর-ই শেষ পর্যন্ত ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটের অঙ্ক: শেষ সমীকরণ কী বলছে?
গত কয়েকটি নির্বাচনের প্রবণতা বলছে, বাংলার লড়াই ক্রমশ দ্বিমুখী হলেও তৃতীয় শক্তির ভোট শতাংশ ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
গ্রামীণ বনাম শহুরে ভোট, মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রথমবারের ভোটার—এই তিন ফ্যাক্টরই হতে পারে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’।
তবে রাজনৈতিক দলগুলির সংগঠনের শক্তি, প্রকল্পের প্রভাব, বিরোধী মেরু, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং এসআইআর—এই পাঁচ স্তম্ভে দাঁড়িয়ে এবারের ভোট। অঙ্ক যতই জটিল হোক, শেষ পর্যন্ত একটাই সত্য, বাংলার ভোটে শেষ কথা বলবে ভোটারই।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।