২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
বক্স অফিসের সেফ গেম! গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজির ভরসায় বাংলা সিনেমা?

সিনেমাপ্রেমী বাঙালি গোয়েন্দা গল্প পেলেই হল ভরিয়ে দেয়! ছবি: AI

বক্স অফিসের সেফ গেম! গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজির ভরসায় বাংলা সিনেমা?

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

ফেলুদা-ব্যোমকেশের ছায়ায় বন্দি টলিপাড়া: আধুনিক গোয়েন্দার জন্ম হবে কবে?

নস্টালজিয়া নাকি আধুনিকতা? ফেলুদা-ব্যোমকেশের চেনা ছকে কি আটকে যাচ্ছে বাংলা সিনেমা? গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজির চাপ ও ক্লিশে চিত্রনাট্যের ভেতরের সংকট।

মূল বিষয়

বাঙালি দর্শকের বিনোদনের ভরকেন্দ্রে গোয়েন্দা সাহিত্যের জায়গাটা ঐতিহাসিক কারণেই আলাদা। ফেলুদা, ব্যোমকেশ কিংবা হালের একেনবাবু—এই চরিত্রগুলো স্রেফ পর্দার কোনো কাল্পনিক নায়ক নয়, বরং প্রতিটি বাঙালি পরিবারের ড্রয়িংরুমের চেনা সদস্যের মতো। ফলে শীতকাল বা পুজোর মরসুমে যখনই কোনো গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি মুক্তি পায়, সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন পড়াটাই অলিখিত নিয়ম। তবে এই দৃশ্যমান বাণিজ্যিক সাফল্যের আড়ালে বর্তমান টলিউডের অন্দরে এবং সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে এক তীব্র টানাটানি চলছে। একদিকে রয়েছে যুগ যুগ ধরে তৈরি হওয়া ‘নস্টালজিয়া’ আর মূল সাহিত্যকে অক্ষরে অক্ষরে বাঁচিয়ে রাখার এক সামাজিক চাপ, অন্যদিকে রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘আধুনিক’ হয়ে ওঠার অনিবার্যতা। এই দ্বিমুখী টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে বাংলা গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে। গোয়েন্দা গল্পের নিরাপদ 'ফাঁদ' থেকে কি আদৌ বেরটে পারবে বাংলা সিনেমা?

১. বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বনাম মৌলিক চিত্রনাট্যের ঝুঁকি

টলিউডের অর্থনীতিতে গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সম্পূর্ণ মৌলিক একটি গল্প বা সামাজিক ড্রামায় বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করা যেখানে অত্যন্ত অনিশ্চিত, সেখানে সাহিত্যের পাতায় প্রতিষ্ঠিত একটি ব্র্যান্ডনেমকে পর্দায় নামানো অনেক বেশি নিরাপদ বাজি। ব্যোমকেশ, ফেলুদা বা একেনবাবুর ক্ষেত্রে প্রমোশন ছাড়াই একটি সুনির্দিষ্ট ‘ক্যাপটিভ অডিয়েন্স’ প্রস্তুত থাকে, যা তিন প্রজন্মের দর্শককে একসঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনে। কিন্তু এই বাণিজ্যিক সুরক্ষাই নির্মাতাদের সৃষ্টিশীল আলস্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যখন পুরোনো গল্পেই বিনিয়োগ উঠে আসার নিশ্চয়তা মেলে, তখন নতুন প্লট নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার তাগিদটাই কমে যায়।

২. ফেলুদা: নস্টালজিয়ার চরম ভার ও সৌমিত্র-উত্তর সংকট

বাঙালির অবচেতন মনে ‘ফেলুদা’ কোনো সাধারণ চরিত্র নয়, এক পবিত্র মিথ। সত্যজিৎ রায়ের তৈরি সেই দুনিয়া—সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুখ, চারমিনার, লালমোহনবাবুর স্কুটার আর তোপসের নোটবুক—বাঙালির মননে এমনভাবে গেঁথে আছে যে সেখানে সামান্য পরিবর্তনও মেনে নেওয়া কঠিন।

  • সত্যজিতের পর সন্দীপ রায়ের হাত ধরে সব্যসাচী চক্রবর্তী ফেলুদা হিসেবে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, টোটা রায়চৌধুরী, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত কিংবা ওটিটিতে অনির্বাণ চক্রবর্তী—বারংবার ফেলুদা বদলের এই চক্রে চরিত্রটির স্বকীয়তা কতটা ধরে রাখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে।
  • ফেলুদার সবচেয়ে বড় সংকট হলো তার কালখণ্ড (Time Period)। ফেলুদার গল্পগুলো মূলত সত্তর-আশির দশকের ভারতের প্রেক্ষাপটে লেখা, যেখানে কোনো মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ছিল না। সেই গল্পকে হুবহু আধুনিক সময়ে এনে স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ ধরিয়ে দিলে ফেলুদার মগজাস্ত্র ও তথ্য সংগ্রহের সেই ক্লাসিক রোমাঞ্চ অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। আবার তাকে সত্তরের দশকে আটকে রাখলে তরুণ প্রজন্মের কাছে চিত্রনাট্য অনেক সময় ধীরগতির মনে হয়। এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে ফেলুদা আজ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত।

৩. ব্যোমকেশ বক্সী: আধুনিক রূপায়ণ বনাম ফর্মুলার ক্লান্তি

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম প্রাপ্তমনস্ক ও বাস্তবধর্মী। সেখানে স্রেফ রহস্যভেদ নয়, বরং দেশভাগ, তৎকালীন কলকাতার আন্ডারওয়ার্ল্ড, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানব মনের নানা জটিল দিক ধরা পড়ত। তিনি গোয়েন্দা নন, ‘সত্যান্বেষী’; সংসারী মানুষ, যাঁর স্ত্রী সত্যবতী আর সহকারী অজিত তাঁর ছায়ার মতো সঙ্গী। তাঁর গল্পে জটিল মনস্তত্ত্ব, দেশভাগ, পরকীয়া, ড্রাগ পাচার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের লোভের নিখুঁত দলিল ধরা থাকত।

কিন্তু আজকের বড় পর্দায় ব্যোমকেশের দশা কী? উত্তমকুমার থেকে শুরু করে রজিত কাপুর, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, এমনকি দেব—টলিউডে বোধহয় এমন কোনো শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা অবশিষ্ট নেই যিনি ব্যোমকেশের ধুতিতে পা গলাননি। প্রতিবার অভিনেতা বদল মানেই নতুন পিআর ক্যাম্পেন, নতুন করে ঢাকঢোল পেটানো। কিন্তু চরিত্রটার সিনেমাটিক জার্নি কি আদৌ এক ইঞ্চি এগিয়েছে?

আরও পড়ুন
সোলো ট্রিপ আর স্বপ্ন নয়! মেয়েদের নিরাপদে ঘোরার সেরা ৫ গন্তব্য
ছানা কাটানোই ছিল ‘পাপ’! বাঙালির মিষ্টি-বিপ্লবের অজানা গপ্পো
চা ছেড়ে ‘স্পেশাল্টি কফি’তে মজে কলকাতার নতুন জেনারেশন?

‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ এখন নির্মাতাদের কাছে এমন এক সেফ ডিপোজিট ভল্ট, যার পাসওয়ার্ড সবার জানা। গল্পের ক্লাইম্যাক্স দর্শক আগে থেকেই জানেন—কে গ্রামোফোনের পিন দিয়ে খুন করেছে আর কে দেশলাই কাঠিতে বিষ মাখিয়েছে। তবুও টিকিট বিক্রি হয়, কারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি হলে ঢুকলে ফেলে আসা সাদা-কালো দিনের গন্ধ পায়। ব্যোমকেশ মানেই লালচে-হলুদ সেপিয়া টোনের আলো, একটা ট্রামলাইন, গোল ফ্রেমের চশমা আর অজিতের হাত থেকে একটা সিগারেট নেওয়া। এই চেনা মেজাজের বাইরে শরদিন্দুর লেখার যে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সাবটেক্সট ছিল, তা ছোঁয়ার সাহস বর্তমানের চিত্রনাট্যকারদের ক’জনের আছে?

ঠিক যে সময়ে ব্যোমকেশের অতিরিক্ত আভিজাত্য আর ফেলুদার কিশোর-সুলভ ছক বাঙালি দর্শককে একটু ক্লান্ত করে তুলেছিল, ঠিক তখনই ওটিটি আর বড় পর্দায় ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটল একেনবাবুর।

৪. একেনবাবু: অ্যান্টি-হিরোর ফ্র্যাঞ্চাইজি চাপ ও জঁরের পরিবর্তন

ব্যোমকেশের গম্ভীর বিশ্লেষণ কিংবা ফেলুদার নিখুঁত হিরোইজমের বিপরীতে সুজন দাশগুপ্তের একেনবাবু বাংলা পর্দায় এসেছিল একমুঠো টাটকা বাতাস হয়ে। টাকমাথা, সাধারণ চেহারা এবং ভোজনরসিক এক মধ্যবিত্ত গোয়েন্দা—যাঁর খামখেয়ালি আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্ষুরধার বুদ্ধি—এই বৈপরীত্যকে দর্শক বিপুল ভালোবাসা দিয়েছেন। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চরিত্রটির সামনেও ফর্মুলাবদ্ধ হয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দিকের সিজনগুলোতে কৌতুক আর তদন্তের যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য ছিল, পরবর্তী বড় পর্দার কাজগুলোতে তা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত লাউড কমেডি আর নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাসের পুনরাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে আলোচনা রয়েছে। ইনভেস্টিগেশন যদি স্রেফ কমিক রিলিফের আড়ালে চলে যায়, তবে গোয়েন্দা কাহিনির মূল নির্যাসটাই দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

ব্যোমকেশ বুদ্ধিমান, সুপুরুষ, বাকপটু। একেনবাবু তার ঠিক উল্টো। টাকমাথা, বেঁটেখাটো চেহারা, কাঁচাপাকা গোঁফ, আর সবসময় ভুলভাল ইংরেজি বলে হাসির খোরাক হওয়া এক মানুষ। অথচ সেই জোকার-সুলভ মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অপরাধের প্রতিটি সুতো নিখুঁতভাবে চিনে নেওয়ার এক অসম্ভব তীক্ষ্ণ মগজ। ব্যোমকেশের দেবতুল্য হিরোইজমের গালে যেন এক সপাটে চড় কষিয়েছিলেন একেন।

একেনবাবুর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর নিখাদ ভোজনরসিক বাঙালি সত্তা। পোস্তর বড়া, কচি পাঁঠার ঝোল কিংবা পুরীর খাজা—খাবারের থালায় আঙুল ডুবিয়ে তিনি যখন রহস্যের প্যাঁচ খোলেন, তখন দর্শক তাঁর মধ্যে নিজের বাড়ির মেসোমশাই বা পাড়ার অদ্ভুত কাকাটিকে খুঁজে পান। প্রমথ আর বাপির সাথে তাঁর রসায়ন ব্যোমকেশ-অজিতের গম্ভীর দূরত্বের চেয়ে আজকের প্রজন্মের কাছে অনেক বেশি স্পোর্টিং। সাহিত্যিক সুজন দাশগুপ্ত হয়তো একেনকে জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু পর্দায় অনির্বাণ চক্রবর্তী এই চরিত্রটাকে আক্ষরিক অর্থে রক্তমাংসের মানুষ করে তুলেছেন। তাঁর চোখের অভিব্যক্তি, অদ্ভুত হাঁটাচলা আর কমেডির নিখুঁত টাইমিং একেনবাবুকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।পর্দায় ব্যোমকেশের যাত্রাপথে একাধিক শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা ব্যোমকেশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যোমকেশ যেন একটি বার্ষিক কর্পোরেট ক্যালেন্ডার ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। লালচে-হলুদ সেপিয়া আলো, পুরোনো ট্রাম আর ধুতির মোড়কে পিরিয়ড ড্রামা তৈরির যে ফর্মুলা, তা নিয়ে দর্শকদের একাংশে প্রশ্ন উঠছে। যে গল্পের খুনির পরিচয় বহু আগেই জানা, সেখানে নতুন চিত্রনাট্যের মেদহীন গতি আর মনস্তাত্ত্বিক টানটান উত্তেজনা না থাকলে দর্শককে কতদিন ধরে রাখা সম্ভব?

৫. লজিকের ফারাক: ডিজিটাল সময়ের সাইবার বাস্তবতা বনাম পুরোনো ক্লু

আজকের দর্শক বিশ্বমানের ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সুবাদে জটিল মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, ডিএনএ ফরেনসিক আর হাই-টেক ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনে অভ্যস্ত। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে পঞ্চাশ বা সত্তরের দশকের কোনো চিঠি চুরি কিংবা ব্যক্তিগত খুনের মোটিভকে যখন বড় পর্দায় হুবহু ফেলা হয়, তখন ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে অনেক সময়ই তা অতি-সরল মনে হতে পারে। আবার আধুনিক সময়ে গল্পটিকে টেনে এনে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন যুক্ত করলেও, অপরাধের সমাধানটা যদি সেই পুরোনো সনাতনী টেকনিকেই নির্ভর করে, তবে চিত্রনাট্যে একটা বড়সড় অসংগতি তৈরি হয়। প্রযুক্তির বর্তমান গতি এবং মানুষের জটিল মনস্তত্ত্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্লট সাজানোই আজকের গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে বড় কারিগরি পরীক্ষা।

৬. মেকিং ও ভিজ্যুয়াল ভাষা: ওটিটি-র প্রভাব

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান দর্শককে আন্তর্জাতিক ক্রাইম ড্রামার যে ভিজ্যুয়াল ট্রিটমেন্টের স্বাদ দিয়েছে, তার ফলে বড় পর্দার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপরও ক্যামেরার কাজ, কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে উৎকর্ষ দেখানোর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। নিছক কয়েকটা দৃশ্য সাজিয়ে ড্রয়িংরুম ড্রামার মতো করে গোয়েন্দা গল্প বলার দিন কার্যত শেষ। দর্শক এখন গতিশীল সম্পাদনা এবং টানটান সিনেমাটোগ্রাফি প্রত্যাশা করেন, যা বাজেটের সীমাবদ্ধতার মাঝে দাঁড়িয়ে টলিউডের পক্ষে সবসময় বজায় রাখা সহজ হচ্ছে না।

দিনশেষে বাংলা গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। সাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর চেনা আবেগই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা বক্স অফিসে টিকিটের বিক্রি ধরে রাখছে। তবে শুধু সেই আবেগকে ভাঙিয়ে পুনরাবৃত্তির পথে হাঁটলে আধুনিক দর্শকের কাছে এই জঁরটির গ্রহণযোগ্যতা দিনে দিনে ফিকে হয়ে যেতে পারে। সাহিত্যের মূল সুর অক্ষুণ্ণ রেখেও কীভাবে সমকালীন সিনেমাটিক ভাষা ও শক্তিশালী চিত্রনাট্যের মেলবন্ধন ঘটানো যায়—তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলা গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য