

গাজা শহরে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখছেন। ছবি- Google.
২২শে জুন, ২০২৬
মধ্য গাজার একটি জনবহুল মার্কেট, নাম : আল জাহিয়া। সেইসময় অবশ্য চারদিকে অন্ধকার। বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন দৈনন্দিন ঘটনা। সেই অন্ধকারের মাঝেই একটি উজ্জ্বল পর্দা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন যুবক। তাঁদের চোখ পর্দায়, চলছে বিশ্বকাপের ম্যাচ।
রবিবার ওই মার্কেটে তাঁরা মিশর ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ম্যাচ দেখছিলেন। গাজার ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই প্রিয় ফুটবলার মিশরের মহম্মদ সালাহ। ৯২ বছর পরে তাঁর পা থেকে গোলে মিশর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল। সেই খবর গাজার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অজানা নয়। তাই ম্যাচটি নিয়ে আগ্রহও ছিল বেশি। ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরে সালাহদের জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে রাজপথে বেরিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফুটবলপাগল মানুষ।
ম্যাচটি ওই যুবকরা দেখছিলেন নুসেইরাত এলাকার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট গাজাজুড়ে। তবু বিশ্বকাপ এলে ফুটবলপ্রেমীরা সব কষ্ট ভুলে যান। ফুটবল মানুষের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিতে পারে, সব বিষাদ দূরে সরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস দেয়। ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্তা মুস্তাফা সিয়াম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘গাজার মানুষের কাছে বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ফুটবলপ্রেমীরা ম্যাচ দেখার চেষ্টা করবে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য নিজেদের দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকার জন্য।’’

গাজার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা ছোট ছোট অস্থায়ী ক্যাফেগুলোও সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। যুদ্ধের আগে বড় টুর্নামেন্টে যেমন পরিবেশ থাকতো, যতটা সম্ভব সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন ক্যাফে মালিকেরা। মধ্য গাজার আল-জাওয়াইদা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি শিবিরে ছোট্ট একটি টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে ম্যাচ। বালির ওপর রাখা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে দর্শকেরা খেলা দেখছেন। পাশে পুরনো জেনারেটরের একটানা ঘড়ঘড় শব্দ হয়েই চলেছে। সেখানকার এক দর্শক ঈদ আল-আত্তার আচমকা বলে উঠলেন, ‘‘আমরা যতটা সম্ভব বিশ্বকাপের আবহ উপভোগ করার চেষ্টা করছি। সবাই মিলে খেলা দেখে সব কষ্ট ভুলে থাকতে চাইছি।’’ তারপরেই আক্ষেপের সুরে ওই প্রবীণ বলেছেন, ‘‘আমাদের আর কী কোনোদিন স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচ দেখার সুযোগ হবে? এই যে টিভিতেই ম্যাচ দেখছি, এটাই অনেক।’’
গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো এখনো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া খুব কম মানুষই গাজা ছাড়তে পারেন। গাজা সিটির ২৭ বছর বয়সী মাজেন আল-ঘুল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখেছেন একধরনের কষ্ট নিয়ে। তিনি টিভিতে খেলা দেখার মধ্যেই বলেছেন, ‘‘বিশ্বের মানুষ জীবন উপভোগ করছে। আর আমাদের ঘর নেই, স্কুল নেই, এমনকী খেলা দেখার মতো নিয়মিত বিদ্যুৎও নেই।’’
যুদ্ধ গাজার মানুষের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারেনি। বিশ্বকাপের আলো তাই এখনো পৌঁছে যায় অন্ধকারে ডুবে থাকা গাজার কানায় কানায়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
