loadshedding
২১শে এপ্রিল, ২০২৬
“স্মার্ট সিটির কথা শুনি, কিন্তু গরমের দিনে ফ্যানই যদি না ঘোরে, তাহলে সেই স্মার্টনেস কোথায়?”
একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বিপ্লব, স্মার্ট সিটির স্বপ্ন— অন্যদিকে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে দাঁড়িয়েও কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের একাংশে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, উন্নয়নের দাবি আর বাস্তবের মধ্যে ব্যবধান কতটা?
রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের চাহিদা অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলেই পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা ১০,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়, যা আগে সাধারণত গ্রীষ্মের চূড়ান্ত সময়ে দেখা যেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি এসি, শিল্পের প্রসার এবং শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ নির্ভরতা বাড়াই এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
কিন্তু চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর সামনে আসছে ক্রমেই। কলকাতার অনেক এলাকাতেই সাম্প্রতিক সময়ে মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। কখনও ঝড়-বৃষ্টি, কখনও ট্রান্সফর্মারের সমস্যা— আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পাড়া। এমনকি মেট্রো পরিষেবাও ট্রান্সফর্মার সমস্যায় ব্যাহত হওয়ার নজির রয়েছে।
শুধু শহর নয়, জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও সমস্যা আরও প্রকট। বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়ছে ক্রমাগত। রাজ্যে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ব্যয় এবং ভর্তুকি সত্ত্বেও চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে প্রশাসনিক মহলেরই স্বীকারোক্তি।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা আরও তিক্ত। গ্রামাঞ্চলে তো বটেই খাস কলকাতার বহু এলাকাতেও গরমের সময় লোডশেডিং নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ বহু বাসিন্দার দাবি, সামান্য ঝড় বা মেঘ করলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কসবার সঞ্জয় রাউতের কথায়, “এখন প্রায় রোজকার ব্যাপার— হালকা হাওয়াতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। একদিনে ২-৩ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে, কোনও আগাম খবর নেই।”
যদিও প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত ‘লোডশেডিং’ নয়— অনেক ক্ষেত্রেই রক্ষণাবেক্ষণ বা অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বাস্তবে, বাড়তি লোডের চাপ সামলাতে পুরনো পরিকাঠামো বারবার সমস্যায় পড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— এআই, ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে দাঁড়িয়ে যদি বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিষেবাই নিরবচ্ছিন্ন না হয়, তবে সেই উন্নয়ন কতটা বাস্তব? কলকাতার এক বাসিন্দার কথায়, “স্মার্ট সিটির কথা শুনি, কিন্তু গরমের দিনে ফ্যানই যদি না ঘোরে, তাহলে সেই স্মার্টনেস কোথায়?”
সব মিলিয়ে, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও চাহিদা বৃদ্ধির এই টানাপোড়েনে স্পষ্ট— শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পরিষেবাই আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।