শেষ আপডেট: 19 April 2026 17:00
ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। সমস্ত দল এখন প্রচারের ময়দানে ব্যস্ত। কিন্তু রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের মাঝেও এক ইস্যু বারবার উঠে আসছে— রাজ্যর শিক্ষাব্যবস্থা। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক, অভিযোগ আর উদ্বেগ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র— একের পর এক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ৮ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। কেন এই পরিস্থিতি? বিরোধীদের অভিযোগ, এর মূল কারণ দুটি— দুর্বল পরিকাঠামো এবং ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কট। এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই বিধানসভায় একাধিকবার তুলেছে বিরোধী শিবির।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, কলকাতার তুলনায় জেলার স্কুলগুলোর অবস্থা অনেকটাই খারাপ। শহরে শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও, জেলায় বহু স্কুলে শিক্ষক নেই বললেই চলে। অথচ এই সরকারি স্কুলগুলিতেই মূলত প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। ফলে শিক্ষার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে বৃহৎ একটি অংশ।
পরিসংখ্যান আরও বলছে, জেলার তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি শিক্ষক রয়েছেন কলকাতায়, অথচ ছাত্রসংখ্যা সেখানে অর্ধেকেরও কম। এই বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘উৎসশ্রী’ প্রকল্প। শিক্ষক বদলির এই ব্যবস্থার ফলে বহু শিক্ষক জেলা থেকে শহরে চলে এসেছেন। ফলে গ্রামীণ স্কুলগুলো ক্রমশ শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে, কমেছে পড়ুয়ার সংখ্যা, আর শেষমেশ বন্ধ হয়ে গেছে বহু স্কুল।
প্রশাসনের অন্দরমহলের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৯৩ হাজার ৭১৫। তুলনায় রাজস্থানে রয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজারের বেশি এবং উত্তরপ্রদেশে ২ লক্ষ ৬২ হাজারেরও বেশি স্কুল। অথচ শিক্ষক সংখ্যার নিরিখে বাংলাই পিছিয়ে। রাজস্থানে যেখানে প্রতি স্কুলে গড়ে ৬ জনের বেশি শিক্ষক রয়েছেন, বাংলায় সেই সংখ্যা ৫ জনেরও কম।
শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন শিক্ষক সঙ্কটের কথা। সরকারের দাবি, সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। নির্বাচনের মুখে এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছেন বিরোধী প্রার্থীরা।