১৩ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

২৫ ঘণ্টায় এক দিন?

২৫ ঘণ্টায় এক দিন?

দিনের দৈর্ঘ্য কি বেড়ে যাচ্ছে? প্রিতীকী ছবি -দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।

২৫ ঘণ্টায় এক দিন?

২৪ ঘণ্টার দিনকে বিদায়

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীতে আর ২৪ ঘণ্টার দিন থাকবে না, বরং দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে ২৫ ঘণ্টা হয়ে যাবে। তবে এই পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় এখনই ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি ইন্টারনেটে কিছু পোস্টের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও কোটি কোটি বছর সময় লাগবে।

চাঁদের টান ও ধীর গতির পৃথিবী

আরও পড়ুন

মহাকাশে হঠাৎই ‘মেজাজ’ বিগড়ে গেল সূর্যের! শক্তিশালী সোলার ফ্লেয়ারের ঝাপটায় স্তব্ধ পৃথিবীর রেডিও যোগাযোগ

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরার গতি (Rotation speed) ক্রমশ কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে প্রতি শতাব্দীতে বা ১০০ বছরে দিনের দৈর্ঘ্য মাত্র ১.৭ মিলিসেকেন্ড করে বাড়ছে। এই ধীর গতির পেছনে মূল কারণ হল চাঁদের মহাকর্ষীয় টান এবং তার ফলে মহাসমুদ্রে সৃষ্ট জোয়ার-ভাটার ঘর্ষণ (Tidal friction)। এই ঘর্ষণের ফলেই পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমছে এবং চাঁদও ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রভাব ও ডাইনোসরদের যুগ

মহাজাগতিক এই কারণ ছাড়াও পৃথিবীর অভ্যন্তরে গলিত লোহার নড়াচড়া, হিমবাহ গলে যাওয়া বা সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলের তীব্র বাতাস বা জলবায়ুগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিতে সামান্য প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ডাইনোসরদের যুগে পৃথিবীতে একদিনের সময়সীমা ছিল মাত্র ২৩ ঘণ্টা। অর্থাৎ, কোটি কোটি বছর ধরে এই পরিবর্তনের ফলেই আজকের ২৪ ঘণ্টার দিন তৈরি হয়েছে এবং আগামী প্রায় ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) বছর পর তা বেড়ে ২৫ ঘণ্টা হবে।

মানবদেহ ও প্রকৃতির ওপর প্রভাব

যদি একদিনের দৈর্ঘ্য হুট করে ২৫ ঘণ্টা হয়ে যেত, তবে মানুষের শারীরিক ঘড়ি বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' (Circadian rhythm) সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হতো। মানুষের ঘুম, হরমোন নিঃসরণ ও অন্যান্য শারীরিক প্রক্রিয়া এই ২৪ ঘণ্টার চক্রের সাথেই মানিয়ে নেওয়া। তবে যেহেতু এই পরিবর্তন আসতে কোটি কোটি বছর লাগবে, তাই পৃথিবীতে টিকে থাকা জীবকূল বিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই নতুন ২৫ ঘণ্টার দিনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য