

চাকরি পেতে সাহায্য করছে এআই। প্রতীকী ছবি -AI.
৩০শে জুলাই, ২০২৬
AI-কে 'ইন্টারভিউ কোচ' বানিয়ে ১.৫ কোটি টাকার চাকরি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে— এই আশঙ্কা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার অন্যতম বিষয়। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বহু সংস্থায় কর্মী ছাঁটাই, কাজের ধরন বদলে যাওয়া এবং নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু সেই AI-ই যদি কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়? যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হয়ে ওঠে কোটি টাকার চাকরি পাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার?
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক যুবক দাবি করেছেন, AI-এর সাহায্যে ইন্টারভিউর প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বছরে প্রায় ১.৫ কোটি টাকার (প্রায় ১,৮০,০০০ মার্কিন ডলার) চাকরি পেয়েছেন। শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, কীভাবে তিনি AI-কে ব্যবহার করেছেন, তাও খোলাখুলি জানিয়েছেন।
যুবকের বক্তব্য, তিনি AI-কে কখনও নিজের হয়ে উত্তর লিখতে বা প্রতারণা করতে ব্যবহার করেননি। বরং প্রযুক্তিটিকে তিনি ব্যবহার করেছেন একজন অভিজ্ঞ মেন্টর বা ইন্টারভিউ প্রশিক্ষকের মতো।
প্রতিটি সাক্ষাৎকারের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চাকরির বিবরণ (Job Description), নিজের জীবনবৃত্তান্ত (Resume) এবং সম্ভাব্য দায়িত্ব AI-কে বিশ্লেষণ করতে দেন। এরপর AI-কে বলেন, "আমাকে ইন্টারভিউ নিন। কঠিন প্রশ্ন করুন। আমার উত্তরের ভুল ধরুন। আরও ভালো উত্তর কী হতে পারে, সেটাও বলুন।"
এইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতে করতেই তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং বাস্তব সাক্ষাৎকারে উত্তর দেওয়ার দক্ষতাও অনেক উন্নত হয়েছে।
যুবকের দাবি, AI শুধু সম্ভাব্য প্রশ্ন তৈরি করেনি, বরং তাঁর উত্তরের দুর্বল দিকগুলিও তুলে ধরেছে। কোথায় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা হচ্ছে, কোথায় উদাহরণ কম, কোথায় আত্মবিশ্বাসের অভাব— সবকিছু বিশ্লেষণ করে আরও কার্যকর উত্তর তৈরিতে সাহায্য করেছে।
ফলে প্রতিটি মক ইন্টারভিউয়ের পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, বাস্তব সাক্ষাৎকারে কীভাবে নিজেকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা AI-এর একটি ইতিবাচক ব্যবহারের দিক তুলে ধরেছে। প্রযুক্তি এখানে চাকরির বিকল্প হয়ে ওঠেনি, বরং একজন প্রার্থীর প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করেছে।
AI কোনও ইন্টারভিউ বোর্ডকে প্রভাবিত করতে পারে না, দক্ষতার অভাবও ঢাকতে পারে না। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি, অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের ভূমিকা নিতে পারে।
যুবকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। অনেকেই বলেছেন, AI-কে ভয় পাওয়ার বদলে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখাই ভবিষ্যতের বড় দক্ষতা। আবার কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, AI কখনও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বা ব্যক্তিত্বের বিকল্প হতে পারে না।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে যখন চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে, তখন এই ঘটনা অন্য এক বাস্তবতাও সামনে আনছে। প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়— কীভাবে তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই আসল।
একসময় যেমন কম্পিউটার বা ইন্টারনেটকে ঘিরেও একই ধরনের আশঙ্কা ছিল, তেমনই AI-ও কর্মক্ষেত্রের নিয়ম বদলে দিচ্ছে। কেউ সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পিছিয়ে পড়ছেন।
১.৫ কোটি টাকার চাকরি পাওয়া ওই যুবকের অভিজ্ঞতা অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে: AI হয়তো চাকরি কেড়ে নিতেও পারে, কিন্তু সঠিক হাতে পড়লে সেই AI-ই আবার স্বপ্নের চাকরির দরজাও খুলে দিতে পারে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
