

ছবি - AI
১৮ই আগস্ট, ২০২৬
আকাশপথে নিয়মিত যাতায়াতকারী পাইলট এবং বিমানসেবিকারা সাধারণ মানুষের তুলনায় মহাজাগতিক রশ্মির (Cosmic Radiation) সংস্পর্শে অনেক বেশি আসছেন, যার ফলে তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সারে তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী জামা ইন্টারনাল মেডিসিন (JAMA Internal Medicine)-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানকর্মী ও পাইলটদের তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সারের ঝুঁকি পরমাণু বিজ্ঞানীদের মতো সরাসরি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করা পেশাদারদের চেয়েও বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পেশার মধ্যে বিমানকর্মীদের শরীরেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রবেশ করে, যা কোষের জেনেটিক পরিবর্তন বা ক্ষতিকর মিউটেশনের জন্য দায়ী।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০৩টি পেশার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। এর মধ্যে ছিলেন ১৪,০০০ পাইলট এবং ৭,০০০ বিমানসেবিকা। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়: সবচেয়ে এগিয়ে বিমানকর্মীরা: তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সারে মৃত্যুর দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিমানসেবিকারা (৬.৯ শতাংশ) এবং দ্বিতীয় স্থানে পাইলটরা (৬.৭ শতাংশ)।
নিয়ন্ত্রণ দলের সঙ্গে তুলনা: তুলনামূলক মূল্যায়নে পরমাণু প্রযুক্তিবিদরা ১২তম স্থানে থাকলেও, মাটিতে কাজ করা গ্রাউন্ড এয়ারক্রু সদস্যদের মধ্যে এই ঝুঁকির মাত্রা স্বাভাবিক ছিল। সাধারণ ক্যান্সার নয়: তেজস্ক্রিয়তার সাথে সম্পর্কহীন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বিমানকর্মীদের অবস্থান তালিকার মাঝামাঝি। এর অর্থ হল, তাঁদের এই বাড়তি মৃত্যুঝুঁকি নির্দিষ্টভাবেই মহাজাগতিক বিকিরণের সাথে যুক্ত। গবেষণার প্রধান লেখক ড. বিশাল প্যাটেল জানান, অতিরিক্ত উচ্চতা ও মেরু অঞ্চলের রুটে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সুরক্ষা কম থাকায় সেখানে রেডিয়েশনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানকর্মীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রেডিয়েশন ডোজের সীমা বা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই। গবেষকদের মতে, পুরো বিমানকে রেডিয়েশন-নিরোধক শিল্ড দেওয়া বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। বরং ক্যারিয়ার জুড়ে প্রত্যেক ক্রু মেম্বারের ব্যক্তিগত রেডিয়েশন এক্সপোজারের সঠিক হিসাব রাখা, কাজের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষানীতি প্রণয়ন করাই প্রথম যৌক্তিক পদক্ষেপ হওয়া উচিত।
ড. প্যাটেল স্পষ্ট করেছেন, যারা ঘন ঘন বিমানে ভ্রমণ করেন (ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার), তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি বিমানকর্মীদের সমতুল্য নয়। পুরো কর্মজীবন আকাশে অতিবাহিত করার ফলেই পাইলট এবং বিমানসেবিকাদের শরীরে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা জমা হয়।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
