bankura vote 2026
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬
বাঁকুড়া, তালডাংরা: বাংলার ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ, শাসক-বিরোধীর সংঘাত, আর একে অপরকে নিশানা করে তীব্র বাক্যবাণ। সেই চেনা ছবির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রে ধরা পড়ল একেবারে অন্যরকম দৃশ্য, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সামনে এল সৌজন্যের রাজনীতি।
তালডাংরার তালদা বুথে ভোট দিতে এসে বিজেপি প্রার্থী সৌভিক পাত্র হঠাৎই এগিয়ে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহকে। বয়সে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের মুহূর্তটি চোখে পড়তেই উপস্থিত ভোটার, কর্মী এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল। উত্তপ্ত নির্বাচনী পরিবেশে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না বলেই অনেকেই তা মোবাইলবন্দি করেন।

সাধারণত ভোটের দিন প্রার্থীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখাই রীতি। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, উত্তেজনা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি থাকে তীব্র। কিন্তু সেই পরিবেশেই সৌভিক পাত্রের এই আচরণ যেন মুহূর্তের জন্য বদলে দিল আবহ। রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক সংস্কারের এক আলাদা ছবি সামনে এল।
ঘটনার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী সৌভিক বলেন, “আমরা সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করা আমাদের সংস্কৃতি। সেই জায়গা থেকেই আমি প্রণাম করেছি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক লড়াইকে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চাইছেন।
তবে এই সৌজন্যের মধ্যেও কটাক্ষের সুর শোনা গেল তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহের কথায়। তিনি বলেন, “ছেলেটা ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো। কিন্তু ভুল দলে রয়েছে। ভবিষ্যতে ঠিক সিদ্ধান্ত নেবে আশা করি।” তাঁর এই মন্তব্যে যেমন স্নেহের ইঙ্গিত, তেমনই রাজনৈতিক খোঁচাও স্পষ্ট।
তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র এ বারও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ইস্যু, উন্নয়ন, এবং দলীয় সংগঠনের শক্তি—সব মিলিয়ে এখানে লড়াই বেশ জমজমাট। দুই প্রার্থীই নিজের নিজের দলীয় কর্মীদের নিয়ে সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছিলেন। তার মাঝেই হঠাৎ এই সৌজন্যের মুহূর্ত যেন আলাদা মাত্রা যোগ করল দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে যেখানে প্রতিনিয়ত সংঘাতের ছবি সামনে আসে, সেখানে এই ধরনের ঘটনা বিরল হলেও তা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়। গ্রামবাংলার সামাজিক কাঠামোয় এখনও বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করার সংস্কার প্রবল। সেই সংস্কৃতিরই প্রতিফলন ঘটেছে এই ঘটনায়।
ভোটের ময়দানে জয়-পরাজয় সময় বলবে। কিন্তু তালডাংরার এই সকাল মনে করিয়ে দিল—রাজনীতির কড়া লড়াইয়ের মধ্যেও মানবিকতা ও সৌজন্যের জায়গা এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং কখনও কখনও সেই মুহূর্তই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ছবি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।