mamata-subhendu
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬
প্রথম দফার ভোট শুরু হতেই বাংলায় রেকর্ড ভোটদানের স্পষ্ট ইঙ্গিত । বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যেই গড় ভোট পড়ে ১৯ শতাংশ। মাত্র দু’ঘণ্টার ব্যবধানে সেই হার এক লাফে পৌঁছে যায় প্রায় ৪১ শতাংশে । নজরকাড়া পরিস্থিতি পশ্চিম মেদিনীপুরে, সেখানে গড় ভোটদানের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ৷
সকাল সকাল এমন ‘ভোট-জোয়ার’ ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার, সবার মধ্যেই কৌতূহল চরমে। অনেকেরই অনুমান, এ বার বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছুঁতে পারে।
কিন্তু এই হঠাৎ উল্লম্ফনের নেপথ্যে কি শুধুই ভোটারের উৎসাহ? নাকি রয়েছে অন্য কোনও ‘অঙ্ক’?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ছবির এক বড় অংশ লুকিয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ (SIR)-এ। এই প্রক্রিয়ায় মৃত, ডুপ্লিকেট বা অন্যত্র সরে যাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ায় একাধিক কেন্দ্রে ভোটার তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে। কোথাও ২০ হাজার, কোথাও আবার ৫০ হাজার পর্যন্ত নাম কাটা গিয়েছে। ফলে শতাংশের খেলাটা বদলে গিয়েছে আমূল।
ধরা যাক, কোনও কেন্দ্রে আগে ভোটার ছিল ২ লক্ষ। ভোট দিয়েছিলেন ১ লক্ষ ৬০ হাজার—অর্থাৎ ৮০ শতাংশ। এবার তালিকা সংশোধনের পর মোট ভোটার কমে দাঁড়াল ১ লক্ষ ৮০ হাজারে। একই ১ লক্ষ ৬০ হাজার ভোট পড়লেও শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯১। অর্থাৎ, ভোটার সংখ্যা না বাড়লেও শুধুমাত্র তালিকা ‘ছোট’ হওয়ার কারণেই শতাংশ এক ধাক্কায় ১০-১১ পয়েন্ট বাড়তে পারে!
তবে শুধু অঙ্ক নয়, কাজ করছে মনস্তত্ত্বও
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিপুল হারে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় অনেক ভোটারের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভোট না দিলে হয়তো স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে নাম মুছে যেতে পারে। সেই ভীতিই অনেককে সকাল সকাল বুথমুখী করছে। ফলে লাইনে ভিড়, আর তাতেই দ্রুত বাড়ছে ভোটের হার।
প্রসঙ্গত, বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রথম দফায় ভোটদানের হার বেড়েছিল প্রায় ৮.৫ শতাংশ। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণে লাফ দেখা গিয়েছিল—প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি। বাংলায় যেখানে গড় ভোটদানের হার বরাবরই ৮০-৮২ শতাংশ, সেখানে এ বার সেই সীমা কতটা ছাড়াবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই বাড়তি ভোট কার ঘরে যাবে?
প্রচলিত রাজনৈতিক তত্ত্ব বলছে, বেশি ভোট পড়া মানেই শাসকবিরোধী হাওয়া। কিন্তু বিহারের ফল সেই ধারণাকে ধাক্কা দিয়েছে। সেখানে বাড়তি ভোট গিয়েছে শাসক জোটের দিকেই। ফলে বাংলায় ‘ভোট-সুনামি’ ঠিক কার পক্ষে যাবে, তার উত্তর আপাতত ইভিএমেই বন্দি। ফল মোদি না দিদি, কার মুখের হাসি চওড়া হল, তা জানা যাবে গণনার পরই !
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।