end of 1st phase-WBAE
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬
বিকেল ৫টা পর্যন্ত
দুপুর গড়াতেই স্পষ্ট ছিল ইঙ্গিত, বিকেলে তা পরিণত হল বিস্ময়ে। প্রথম দফার ভোটে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৮৯.৯৩ শতাংশ! এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই ‘৯০ শতাংশ’-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। কমিশনের অন্দরের হিসেব বলছে, এই গতিতে চললে বহু কেন্দ্রে ভোটের হার ৯৫ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলতে পারে— যা কার্যত নজিরবিহীন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যে প্রথম দফা ভোটে শতকরা হার ৯১.৩৫ শতাংশ৷
কেন্দ্রভিত্তিক পরিসংখ্যান
মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ ৯৫.৩৪%
ভগবানগোলা ৯৫.৩১%
বহরমপুর ৮৯.৬০%
দক্ষিণ দিনাজপুর ৯৩.১২%
নন্দীগ্রাম ৯০.০৩%
কালিম্পঙ ৮১.৯৮%
সব মিলিয়ে একাধিক আসনে ভোট যেন ‘সর্বোচ্চ সীমা’ ছুঁতে চলেছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু চমকপ্রদ নয়, ঐতিহাসিকও বটে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলিতে গড় ভোটদানের হার ছিল ৮৩.২%, ২০২৪ সালের লোকসভায় তা নেমে এসেছিল প্রায় ৭৯.৮ শতাংশে। এ বার ভোট শেষ হওয়ার আগেই সেই সব রেকর্ড ভেঙে কার্যত নতুন মানদণ্ড গড়ে ফেলেছে বাংলা।
দেশের নিরিখেও ছবিটা তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির ছিল পুদুচেরির (৮৯.৯৩%), তার আগে অসমে (৮৫.৩৮%)। এ দিনের বিকেলের হিসেবেই সেই দুই রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলার প্রথম দফা। এখন প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত সর্বভারতীয় রেকর্ড কি ভাঙবে?
তবে এই ‘ভোট-বিস্ফোরণ’-এর ব্যাখ্যা কি শুধুই জনউৎসাহ? বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ’ (SIR)। মৃত, ডুপ্লিকেট বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রে ভোটার তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে। ফলে একই সংখ্যক ভোট পড়লেও শতাংশের হিসেব লাফিয়ে বাড়ছে।
অঙ্কটা সহজ— আগে ২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১.৬ লক্ষ ভোট পড়লে হার ৮০%। তালিকা সংশোধনের পর ভোটার কমে ১.৮ লক্ষ হলে, একই ভোটে হার দাঁড়ায় প্রায় ৯১%। অর্থাৎ, ভোটের শতাংশ বৃদ্ধির পেছনে ‘তালিকা সঙ্কোচন’-এর প্রভাবও যথেষ্ট।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মনস্তত্ত্ব। অনেক ভোটারের মধ্যে আশঙ্কা— ভোট না দিলে নাম তালিকা থেকে মুছে যেতে পারে। ফলে সকাল থেকেই বুথমুখী ভিড়, লম্বা লাইন, দ্রুত বাড়তে থাকা ভোটের হার— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ভোট-সুনামি’র আবহ।
ইতিহাস বলছে, বাংলায় সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে— ৮৪.৩৩ শতাংশ। সেই রেকর্ড এ বার ভাঙা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও এখন বড় প্রশ্ন— এই বিপুল ভোট কার পক্ষে যাবে?
প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ বলে, বেশি ভোট মানেই শাসকবিরোধী হাওয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনের ফল সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে বাংলার এই নজির গড়া ভোটের ফল কোন দিকে ঝুঁকবে, তার উত্তর আপাতত ইভিএমেই বন্দি। গণনার দিনই খুলবে সেই রহস্য।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।