

৪৪ বছর আগের উরুগুয়ে ম্যাচ। ছবি - Google
৪৪ বছর আগে নেহেরু কাপের ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ৩-১ গোলে সেই ম্যাচ হেরে গেলেও ভারতীয় দলের লড়াই গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। সেই ম্যাচে প্রথম একাদশের ১০ জনই ছিলেন বাংলার। সেই সংখ্যা কমতে কমতে আজ একে এসে ঠেকেছে। খালিদ জামিলের ভারতীয় দলে বাংলার বলতে কেবলমাত্র হুগলির রহিম আলি।
উরুগুয়ে ম্যাচ মানেই মনে পড়ে যায় ইডেন গার্ডেনে ৪৪ বছর আগের স্মৃতি। সেই ম্যাচে উরুগুয়ে ৩-১ গোলে ভারতকে হারালেও জোরদার লড়াই হয়েছিল। ভারতের হয়ে একমাত্র গোল করেছিলেন মানস ভট্টাচার্য। ওই ম্যাচ নিয়ে মানস আজও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
এদিনের উরুগুয়ে ম্যাচ দেখতেও এসেছিলেন ময়দানের এই নামী প্রাক্তন স্ট্রাইকার। ৪৪ বছর আগের সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, "ওই ম্যাচের কথা ভোলা যায় নাকি? যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন মনে থাকবে ওই সুখস্মৃতি।" সেদিন সাবির আলির পাস থেকে আসল কাজ সেরেছিলেন মানস। সেদিনের প্রসঙ্গ টেনে আজকের ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করে বললেন, ওটা নেহরু কাপের ম্যাচ ছিল। আর এটা নেহাতই ফিফার একটা প্রীতি ম্যাচ। তাই এই খেলার গুরুত্ব অনেক কম।
আরেকটি অবাক করা তথ্য হল নেহরু কাপের ওই ম্যাচে সেদিন ভারতের প্রথম একাদশে মোট দশজন বাংলার ফুটবলার ছিলেন। আর এই ম্যাচে খালিদ জামিলের ভারতীয় দলে বাংলার প্রতিনিধি বলতে কেবলমাত্র হুগলির রহিম আলি! এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন লেফটব্যক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, তখন আমাদের কোচ ছিলেন মিলোভান। তিনি তো রাশিয়ার কোচ ছিলেন। তাই প্রাদেশিকতার দোষে দুষ্ট ছিলেন এই কথা মোটেও বলা যাবে না।
অলোক আরও যোগ করেন, "উরুগুয়ের সেই দলে ছিলেন এনজো ফ্রান্সেসকোলি, ভেনান্সিও রামোস, কার্লোস আগুইলেরা, হুলি ফ্রাঙ্কোর মতো মহাতারকারা। সেই দলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই মনে রেখে দিয়েছে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা।"
সেই ভারতীয় দলে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন একঝাঁক তারকা- সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, অতনু ভট্টাচার্য, সাবির আলি কম্পটন দত্ত, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, অলোক মুখোপাধ্যায় ও মানস ভট্টাচার্যরা।
বাংলার ফুটবলার দিনদিন কেন কমছে সেই নিয়ে মানসের অভিমত, ভাল প্রতিভাবান ফুটবলার উঠছে না। এটা একটা সিস্টেমের দোষ। ভাল অ্যাকাডেমি না করলে বাংলা থেকে দক্ষ ফুটবলার উঠবে না।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
