

ঘণ্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটছে? সাবধান! কী হচ্ছে আপনার সঙ্গে, জানুন! ছবি: AI
স্ক্রিন টাইম বাড়তেই বাড়ছে স্ট্রেস আর মানসিক ক্লান্তি? ডোপামিন লুপ, ঘুমের ঘাটতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিষাক্ত তুলনা থেকে মুক্তির বাস্তব উপায়গুলো জেনে নিন।
সকালে অ্যালার্ম বাজার আগেই বালিশের পাশে রাখা ফোনটা খুঁজে নেওয়া। ঘুমভাঙা চোখে আলো সহ্য না হলেও অন্তত মিনিট দশেক নোটিফিকেশন চেক না করলে দিনটাই যেন শুরু হতে চায় না। আবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও সেই একই গল্প—‘আর পাঁচ মিনিট’ বলে রিলস বা শর্টস দেখতে দেখতে কখন যে রাত দুটো বেজে যায়, খেয়ালই থাকে না।
আজকের দিনে স্ক্রিন টাইম আর সোশ্যাল মিডিয়া স্রেফ যোগাযোগের মাধ্যম নয়; তা আমাদের স্নায়ুর ওপর এক ধরনের অদৃশ্য স্থায়ী চাপ বা ‘ক্রনিক স্ট্রেস’-এর জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন চাইলেও স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো এত কঠিন?

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে আমাদের মস্তিষ্কে একটানা ‘ডোপামিন হিট’ হতে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বিষাক্ত দিক হলো ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’ (FOMO) বা কিছু একটা হারিয়ে ফেলার ভয়:

স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো (Blue Light) মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ আটকে দেয়, যা আমাদের প্রাকৃতিক ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্বের নানা প্রান্তের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ, দুর্ঘটনা কিংবা নেতিবাচক খবর একের পর এক স্ক্রোল করে যাওয়াকে বলে ‘ডুমস্ক্রোলিং’ (Doomscrolling)। মানুষ মনের অজান্তেই খারাপ খবর পড়তে থাকে এবং মস্তিষ্ক নিজেকে একটি কাল্পনিক বিপদের মধ্যে ফেলে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে চলে যায়। ফলাফল—অকারণ অস্থিরতা আর প্যানিক অ্যাটাক।
প্রযুক্তির যুগ থেকে পুরোপুরি সন্ন্যাস নেওয়া সম্ভব নয়, তবে কিছু সহজ অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়:
স্ক্রিন আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছিল, আমাদের মানসিক শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। যখন কোনো ভার্চুয়াল দুনিয়া আপনার বাস্তব জীবনের মেজাজ আর ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে—লগ-আউট করার সময় এসেছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।
