২৮শে অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
ঘণ্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটছে? সাবধান! কী হচ্ছে আপনার সঙ্গে, জানুন!

ঘণ্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটছে? সাবধান! কী হচ্ছে আপনার সঙ্গে, জানুন! ছবি: AI

ঘণ্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটছে? সাবধান! কী হচ্ছে আপনার সঙ্গে, জানুন!

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

স্ক্রিনের নীল আলো আর অন্তহীন স্ক্রোলিং: সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্রেস কি আমাদের নিঃশব্দে গ্রাস করছে?

স্ক্রিন টাইম বাড়তেই বাড়ছে স্ট্রেস আর মানসিক ক্লান্তি? ডোপামিন লুপ, ঘুমের ঘাটতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিষাক্ত তুলনা থেকে মুক্তির বাস্তব উপায়গুলো জেনে নিন।

মূল বিষয়

সকালে অ্যালার্ম বাজার আগেই বালিশের পাশে রাখা ফোনটা খুঁজে নেওয়া। ঘুমভাঙা চোখে আলো সহ্য না হলেও অন্তত মিনিট দশেক নোটিফিকেশন চেক না করলে দিনটাই যেন শুরু হতে চায় না। আবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও সেই একই গল্প—‘আর পাঁচ মিনিট’ বলে রিলস বা শর্টস দেখতে দেখতে কখন যে রাত দুটো বেজে যায়, খেয়ালই থাকে না।

আজকের দিনে স্ক্রিন টাইম আর সোশ্যাল মিডিয়া স্রেফ যোগাযোগের মাধ্যম নয়; তা আমাদের স্নায়ুর ওপর এক ধরনের অদৃশ্য স্থায়ী চাপ বা ‘ক্রনিক স্ট্রেস’-এর জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন চাইলেও স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো এত কঠিন?

১. ‘ডোপামিন লুপ’ এবং অ্যালগরিদমের ফাঁদ

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে আমাদের মস্তিষ্কে একটানা ‘ডোপামিন হিট’ হতে থাকে।

  • প্রতিটি নোটিফিকেশন, প্রতিটি লাইক বা কমেন্ট মস্তিষ্কে ক্ষণিকের তৃপ্তি দেয়।
  • যখনই কোনো পোস্টে প্রত্যাশিত রিঅ্যাকশন মেলে না, অবচেতন মন হতাশ হয় এবং আরও বেশি করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে পরের ‘হিট’-এর আশায়।
  • এই চক্রব্যূহ মানুষের স্বাভাবিক মনঃসংযোগের ক্ষমতা (Attention Span) মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। মানুষ শান্ত হয়ে ১০ মিনিট এক জায়গায় বসতেও অস্বস্তি বোধ করে।

২. ফোমো (FOMO) এবং মেকি জীবনের তুলনা

সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বিষাক্ত দিক হলো ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’ (FOMO) বা কিছু একটা হারিয়ে ফেলার ভয়:

  • অন্যের হাইলাইট বনাম নিজের বাস্তবতা: ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে মানুষ তার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই পোস্ট করে—ভ্রমণ, দামি রেস্তোরাঁ, নতুন চাকরি বা নিখুঁত সম্পর্ক। সেই কিউরেটেড ছবি দেখে অবচেতনভাবেই নিজের দৈনন্দিন, সাধারণ জীবনের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়।
  • তৈরি হয় একরাশ হীনম্মন্যতা ও অসন্তোষ—"সবাই কত ভালো আছে, আমি বোধহয় পিছিয়ে পড়ছি।" এই অদৃশ্য তুলনাই মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান উৎস।
আরও পড়ুন
ওয়ার্ক ফ্রম পাহাড় না বিচ? দেশের সেরা ৬ স্পট জেনে নিন
দরজায় খাবার, তবু মানুষ কেন ছুটছে রেস্তোরাঁয়?
পর্দা খসতেই, স্বাদ হারাল প্রেম? কলকাতার কেবিন কালচারের সংকট!

৩. ঘুমের ঘাটতি ও ব্লু-লাইটের জৈবিক ক্ষতি

স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো (Blue Light) মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ আটকে দেয়, যা আমাদের প্রাকৃতিক ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

  • রাতে বিছানায় শুয়ে স্ক্রোল করার ফলে মস্তিষ্ক ধরে নেয় এখনও দিন রয়েছে। ফলে চোখের পাতা ভারী হলেও গভীর ঘুম (REM sleep) ব্যাহত হয়।
  • দিনের পর দিন এই অনিদ্রা খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগের মাত্রা বাড়ানো এবং কাজের প্রতি অনীহার জন্ম দেয়।

৪. ‘ডুমস্ক্রোলিং’ ও ইনফরমেশন ওভারলোড

বিশ্বের নানা প্রান্তের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ, দুর্ঘটনা কিংবা নেতিবাচক খবর একের পর এক স্ক্রোল করে যাওয়াকে বলে ‘ডুমস্ক্রোলিং’ (Doomscrolling)। মানুষ মনের অজান্তেই খারাপ খবর পড়তে থাকে এবং মস্তিষ্ক নিজেকে একটি কাল্পনিক বিপদের মধ্যে ফেলে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে চলে যায়। ফলাফল—অকারণ অস্থিরতা আর প্যানিক অ্যাটাক।

কীভাবে লাগাম টানবেন এই স্ক্রিন-স্ট্রেসে?

প্রযুক্তির যুগ থেকে পুরোপুরি সন্ন্যাস নেওয়া সম্ভব নয়, তবে কিছু সহজ অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়:

  • নো-ফোন জোন তৈরি করুন: ঘুম থেকে ওঠার প্রথম ৩০ মিনিট এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগের ৩০ মিনিট ফোনকে সম্পূর্ণ নাগালের বাইরে রাখুন। সাধারণ টেবিল ঘড়ি ব্যবহার করে ফোনের অ্যালার্মের ওপর নির্ভরতা কমান।
  • অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ: কাজের ও মেসেজের জরুরি অ্যাপ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোর পুশ-নোটিফিকেশন মিউট করে রাখুন। নোটিফিকেশন ডেকে না আনলে স্ক্রিন খোলার তাগিদ অনেকটাই কমে।
  • ডিজিটাল ডিটক্স উইন্ডো: দিনে অন্তত ১–২ ঘণ্টা ফোন সাইলেন্ট করে অন্য ঘরে রেখে দিন। বই পড়া, ঘরের কাজ, হাঁটা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলার মতো অফলাইন অভ্যাসে সময় দিন।
  • টাইমার বা অ্যাপ লিমিট: ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো অ্যাপগুলোতে প্রতিদিনের সময়সীমা (যেমন—সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট) সেট করে রাখুন। সময় শেষ হলে নিজ থেকেই স্ক্রিন লক করার মানসিক জোর গড়ে তুলুন।

স্ক্রিন আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছিল, আমাদের মানসিক শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়। যখন কোনো ভার্চুয়াল দুনিয়া আপনার বাস্তব জীবনের মেজাজ আর ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে—লগ-আউট করার সময় এসেছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়
তিয়াস বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংবাদিক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার। দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন নিউজ ১৮ বাংলা, আনন্দবাজার অনলাইন এবং দ্য ওয়াল-র মতো সংবাদমাধ্যমে। এ ছাড়া শিক্ষকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। সমকাল, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকেই তাঁর সাহিত্য ও চিত্রনাট্যের মূল রসদ খুঁজে নেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো এবং পশু-পাখি, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চা তাঁর আগ্রহের বিষয়। মুদ্রিত গল্প সংকলন এবং উপন্যাস এ পর্যন্ত ৩টি; ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা অজস্র। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখেন বাংলা ধারাবাহিক, ওয়েব সিরিজ এবং বিদেশি ছবির জন্যও।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য