manoj-CEO-agarwal
২৬শে এপ্রিল, ২০২৬
কাকদ্বীপ/কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নজরদারির জাল আরও বিস্তৃত করল নির্বাচন কমিশন। শুধু বুথের ভিতর বা বাইরে নয়, এ বার বুথমুখী ১০০ মিটার এলাকাও থাকবে কড়া সিসিটিভি নজরে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, এই ‘সুরক্ষা বলয়’-এর মধ্যে অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। প্রয়োজনে এটিকে ‘সিএপিএফ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
রবিবার কাকদ্বীপে গিয়ে এই কড়া ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার অগ্রবাল। তিনি জানান, বুথের আশপাশে এতদিন একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও, এবার বুথমুখী রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানো হবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে ঢোকার আগেই নজরদারির আওতায় চলে আসবেন ভোটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মনোজের কথায়, “বুথের ১০০ মিটার এলাকায় অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ভোটকর্মীদের জন্য খাবার বা জল নিয়ে ঢুকতেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে।” তাঁর আশ্বাস, “ভোট হবে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। ভুয়ো ভোট বা হুমকির কোনও জায়গা নেই।” পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন, “নির্ভয়ে ভোট দিন, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের লক্ষ্যে এগোতে হবে।”
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের প্রতিটি ঘটনার উপর নজর রাখার জন্য ‘লাইভ ফিড’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনও অভিযোগ উঠলে নির্দিষ্ট সময়ের আগের ও পরের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। বুথ সংলগ্ন সরু গলিতে টহল দেওয়ার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাইক ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই দিনে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন আরও কড়া বার্তা দেয়। স্পষ্ট জানানো হয়, এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার বা ভোটের আগে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও আইসিকেই দায় নিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
কমিশনের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের জায়গায় নতুন নিয়োগও হয়েছে।
এই সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। তিনি এ নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে চিঠিও দিয়েছেন। তবে কমিশন তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের বক্তব্য, লক্ষ্য একটাই— অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত নির্বাচন।
ভোটের আগে এই নজিরবিহীন কড়াকড়িতে একদিকে যেমন বাড়ছে নিরাপত্তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে চাপা উত্তেজনা। এখন দেখার, এই ‘১০০ মিটার নজরবন্দি’ ব্যবস্থার মধ্যে ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।