water-pipeline-crisis-westbengal
২৭শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: বহুতল, মেট্রো, ফ্লাইওভার— আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া শহর কলকাতা। কিন্তু সেই শহরেই এখনও ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় জল তোলার লড়াই। এক বালতি পানীয় জল জোগাড় করতে লাইনে দাঁড়াতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শুধু মহানগরই নয়, গ্রেটার কলকাতা অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম— সর্বত্রই পানীয় জলের সঙ্কট আজও এক কঠিন বাস্তব।
ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতির ডালি নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে এ ব্যাপারে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হচ্ছেন ৷ বিশেষ করে যে যেখানে ক্ষমতায় !
শহরের একাধিক ওয়ার্ডে নিয়মিত জল সরবরাহ থাকলেও, অনেক এলাকাতেই তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল এলেই এই সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। কোথাও জল আসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কোথাও আবার দিন কয়েক অন্তর। ফলে বাধ্য হয়ে জল মজুত করে রাখতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
উত্তর কলকাতার পুরনো পাড়াগুলোতে এখনও পাইপলাইনের জীর্ণ দশা বড় সমস্যা। বহু জায়গায় পাইপ ফুটো হয়ে নোংরা জল মিশে যাচ্ছে পানীয় জলে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদিকে যেমন জল কম, অন্যদিকে যে জল আসছে তার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার কিছু নতুন আবাসনেও একই সমস্যা— পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপরের তলায় জল পৌঁছয় না।
শুধু শহরেই নয়, গ্রেটার কলকাতার বহু এলাকা যেমন বরাহনগর, মধ্যমগ্রাম, সোনারপুর কিংবা মহেশতলা— এখানেও একই ছবি। দ্রুত নগরায়নের ফলে জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় জল সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
আরও ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। রাজ্যের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও নির্ভর করতে হয় নলকূপ বা পুকুরের জলের উপর। অনেক জায়গায় আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড দূষণের অভিযোগও রয়েছে। ফলে পানীয় জলের সঙ্কট শুধু পরিমাণগত নয়, তা গুণগত দিক থেকেও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
সরকারি স্তরে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে, ‘জল জীবন মিশন’ এর মাধ্যমে প্রত্যেক ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ধাপে ধাপে সেই কাজ এগোচ্ছে। তবে বাস্তবে এখনও বহু এলাকায় তার সুফল মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কটের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো পরিকাঠামো, ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। জল সংরক্ষণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেই মত তাঁদের।
ভোটের মুখে এই ইস্যুও এখন রাজনৈতিক তর্কের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা থাকলেও তার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শাসক শিবির অবশ্য দাবি করছে, ইতিমধ্যেই বহু প্রকল্পের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হবে।
কিন্তু রাজনীতির তর্কের বাইরে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই— কবে মিলবে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ পানীয় জল? শহর হোক বা গ্রাম, প্রতিদিনের এই লড়াই থেকে কবে মুক্তি পাবে বাংলা— সেই উত্তর এখনও অজানা।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।