wbaseemblyelection2026
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থীদের আর্থিক ও ফৌজদারি তথ্য সামনে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটের ময়দানে একদিকে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক প্রার্থীদের দাপট, অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ—এই দ্বৈত বাস্তবই এবার রাজনীতির কেন্দ্রে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ADR-এর বিশ্লেষণ বলছে, দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১৪৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৩৩৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২৩ শতাংশ প্রার্থী কোনও না কোনও অপরাধে অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২৯৫ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য, ৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ। এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—নারী সুরক্ষা যেখানে নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু, সেখানে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন কেন? রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, আর্থিক দিক থেকেও বৈষম্য প্রকট। দ্বিতীয় দফার ভোটে ৩২১ জন প্রার্থী কোটিপতি। অর্থাৎ বড় অংশের প্রার্থীর সম্পত্তি কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে রয়েছে বিপরীত চিত্রও—১৬ জন প্রার্থী নিজেদের নিরক্ষর বলে ঘোষণা করেছেন। এই বৈপরীত্যই তুলে ধরছে রাজনীতির বাস্তব সামাজিক ছবি।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক মামলার অভিযুক্ত প্রার্থী রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ১৪২টি কেন্দ্র জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ বুথকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু প্রার্থীদের চরিত্র নয়, দলগুলির প্রার্থী নির্বাচনের ধরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে।
ভোটের ময়দানে নারী ভোটারের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। অথচ সেই নির্বাচনে নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক বার্তা কী দিচ্ছে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট শুধুই রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতার পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।