৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

‘ম্যানগ্রোভের যোদ্ধা’ থেকে ‘ফিরে আসা ছায়া’! বাঘের লড়াইয়ে আশার আলো দেখছে পশ্চিমবঙ্গ

‘ম্যানগ্রোভের যোদ্ধা’ থেকে ‘ফিরে আসা ছায়া’! বাঘের লড়াইয়ে আশার আলো দেখছে পশ্চিমবঙ্গ

RBT-mangrove-bengal

‘ম্যানগ্রোভের যোদ্ধা’ থেকে ‘ফিরে আসা ছায়া’! বাঘের লড়াইয়ে আশার আলো দেখছে পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের বাঘের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ এখনও শীর্ষস্থান দখল করতে পারেনি. কিন্তু তা বলে 'হালুম' এর লড়াইও থেমে যায়নি ! বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্ব আরও দৃঢ় করছে রাজ্যের বাঘেরা! সুন্দরবন-এর নোনা জলের অরণ্য থেকে শুরু করে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প-এর পাহাড়ি জঙ্গল— দুই ভিন্ন পরিবেশেই এখন বাঘ সংরক্ষণের আলাদা গল্প লিখছে পশ্চিমবঙ্গ।

২০২২ সালের ‘All India Tiger Estimation’ রিপোর্ট বলছে, রাজ্যে মোট বাঘের সংখ্যা প্রায় ১৩১ (পরিসীমা ১০০-১৫৩)। তুলনায় মধ্যপ্রদেশ (৭৮৫), কর্ণাটক (৫৬৩) বা উত্তরাখণ্ড (৫৬০)-এর মতো রাজ্যের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলা। তবুও আশার খবর, সংখ্যা কম হলেও বৃদ্ধির হার ইতিবাচক।

এক্ষেত্রে বাংলার সবচেয়ে বড় ভরসা সুন্দরবন। ২০১৮ সালে যেখানে বাঘ ছিল ৮৮টি, ২০২২-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১। বন দফতরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০২৪-২৫ নাগাদ এই সংখ্যা অন্তত ১০২ ছুঁয়েছে! পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ অরণ্যে বসবাসকারী এই বাঘেরা শুধু সংখ্যায় নয়, অভিযোজন ক্ষমতায়ও অনন্য। জোয়ার-ভাটা, লোনা জল আর সীমিত শিকার— সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা টিকে আছে, লড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনে প্রতি ১০০ বর্গ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ৪.৩— যা এই অঞ্চলের ‘ক্যারিং ক্যাপাসিটি’র প্রায় সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ, এই অরণ্যে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর জায়গা খুব বেশি নেই। তাই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে সংঘাত কমানো এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষার দিকে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,১০০ বর্গ কিমি এলাকায় ১,৪৮৪টি ক্যামেরা বসিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের গল্পটা একেবারেই আলাদা। দীর্ঘদিন বাঘহীন থাকার পর হঠাৎই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে বক্সা। প্রায় ২৮ বছর পর ফের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে পূর্ণবয়স্ক বাঘ। ২০২৪ থেকে ২০২৬— একাধিকবার ছবি মিলেছে। বন দফতরের অনুমান, এই বাঘগুলি আসছে মানস জাতীয় উদ্যান বা ভুটানের জঙ্গল থেকে করিডোর ধরে।

তবে বক্সায় এখনও স্থায়ী বসবাস শুরু হয়নি বাঘেদের। তাই পরিকল্পনা চলছে পুনর্বাসনের— অসম থেকে অন্তত ১২টি বাঘ এনে এখানে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তার আগে কোর এলাকার গ্রাম সরানোর কাজ চলছে জোরকদমে। ইতিমধ্যেই একাধিক বনবস্তি চিহ্নিত করা হয়েছে, পরিবার পিছু প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।

দুই অরণ্যের চ্যালেঞ্জও আলাদা। সুন্দরবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা মানুষ-বাঘ সংঘাত। জীবিকার টানে মৎস্যজীবী বা মধু সংগ্রাহকরা অনেক সময় জঙ্গলে ঢুকে পড়েন, আর তখনই ঘটে বিপদ। এই সংঘাত কমাতে বন দফতর নাইলন নেট বসানো থেকে শুরু করে বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বক্সার ক্ষেত্রে মূল সমস্যা মানুষের উপস্থিতি এবং খাদ্যের অভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘ টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার পর্যাপ্ত শিকার। তাই সম্বর ও চিত্রা হরিণ এনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে জঙ্গলে, ঘাসজমিও সংস্কার করা হচ্ছে ।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ বাঘের আবাসস্থল— মোট সংখ্যা প্রায় ৩,৬৮২। সেই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান সংখ্যায় ছোট হলেও গুরুত্বে কম নয়। কারণ, সুন্দরবনের মতো প্রতিকূল পরিবেশে বাঘের টিকে থাকা গোটা বিশ্বের কাছেই এক বিস্ময়।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলার বাঘেরা এখনও সংখ্যায় কম, কিন্তু লড়াইয়ে নয়। একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া জঙ্গলে ফিরে আসার চেষ্টা— এই দ্বৈত সংগ্রামই হয়তো ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে বাঘের মানচিত্রে তুলে ধরবে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য