storm
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬
কলকাতা: ভোটের ময়দান এখনও গরম। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে— তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। কিন্তু সেই রাজনৈতিক উত্তাপকে যেন এক লহমায় ঠান্ডা করে দিল আকাশের মেজাজ! দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বাংলার শিরোনামে এখন একটাই নাম, আবহাওয়া।
বুধবার ভোটপর্ব মিটতেই রাজ্যের আকাশে নাটকীয় পালাবদল। তপ্ত গরমের দাপটকে সরিয়ে মঞ্চ দখল করেছে কালবৈশাখী। ঝড়, বৃষ্টি আর বিদ্যুতের ঝলকে একেবারে অন্য রূপ নিয়েছে বাংলা। যেন প্রকৃতি নিজেই ঘোষণা করেছে, “জেতা-হারা পরে, খেলা এখন আমার!”
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসও সেই ছবিকেই আরও স্পষ্ট করছে। আপাতত গরমের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। তার বদলে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে ঝড়-বৃষ্টির দাপট। বৃহস্পতিবার থেকেই একাধিক জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের ঝলকানি।
এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান— এই বিস্তীর্ণ এলাকাতেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। ফলে ভোট-পরবর্তী আলোচনা চললেও, সাধারণ মানুষের নজর এখন আকাশের দিকেই।
শুক্রবার থেকে রবিবার— টানা তিন দিন পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হতে পারে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। দমকা হাওয়ার গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। ফলে বাইরে বেরোলে ছাতা সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের ছবিটা আরও তীব্র। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে অনুমান। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুক্র ও শনিবারেও একই চিত্র বজায় থাকতে পারে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। রবিবারেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না— বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকেলের আকাশও যেন ভোটের আবহকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে— কখনও গম্ভীর মেঘলা, কখনও খানিকটা পরিষ্কার। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই বৃষ্টির দৌলতে গরমের হাত থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়েছে মানুষ। যদিও বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
রাজনীতির ময়দানে লড়াই চলছেই। কিন্তু আপাতত বাংলার ‘হাই ভোল্টেজ ম্যাচ’-এর আসল নিয়ন্ত্রক যেন প্রকৃতিই। ভোটের ফলাফল যাই হোক, এই মুহূর্তে বাংলার আকাশেই চলছে টানটান লড়াই— যেখানে প্রতিপক্ষ একটাই, আর সে হল প্রকৃতি!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।