red-rose-
২রা মে, ২০২৬
একসময় শখের ফুল হিসেবে পরিচিত ছিল গোলাপ। এখন সেই গোলাপই পশ্চিমবঙ্গে পরিণত হয়েছে লাভজনক কৃষি ব্যবসার অন্যতম ভরকেন্দ্রে। উৎসবের মরসুম, বিয়েবাড়ির চাহিদা এবং শহুরে বাজার—সব মিলিয়ে গোলাপ চাষ এখন বহু কৃষকের কাছে আয়ের নতুন রাস্তা খুলে দিয়েছে।
কোথায় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি চাষ?
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ হলেও উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ডেবরা—এই অঞ্চলগুলি গোলাপ চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ৷ নদিয়ার রানাঘাট ও কৃষ্ণগঞ্জেও রয়েছে বড় বাজার ৷ এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজারহাট, শিকড়পুর, ভাঙড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নার্সারি ও চাষের জমি ৷ হাওড়ার বাগনান ও উলুবেড়িয়াও পিছিয়ে নেই ৷ পাশাপাশি দার্জিলিং (কালিম্পং), জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও বাড়ছে গোলাপ ফুলের চাষ ৷
সরকারি ভর্তুকি ও ঋণে উৎসাহ
গোলাপ চাষকে এগিয়ে দিতে একাধিক প্রকল্পে জোর দিচ্ছে সরকার ৷ ন্যাশনাল হর্টিকালচার মিশন (NHM) প্রতি হেক্টরে ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়৷ এছাড়াও ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (NHB) প্রকল্প খরচের ২০%–৪০% পর্যন্ত ক্যাপিটাল সাবসিডি দিয়ে থাকে ৷
ওছাড়াও ‘আমার ফসল আমার গোলার মাধ্যমে বীজ ও সার কেনায় আর্থিক সহায়তা ৷ এছাড়াও পিএম মুদ্রা যোজনা সহ বিভিন্ন স্কিমে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়৷

ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতা
ভারতে গোলাপ চাষের ইতিহাস বহু পুরনো। ঊনবিংশ শতকে শিবপুর বোটানিক গার্ডেনে ‘চায়না রোজ’ সংরক্ষণ আধুনিক গোলাপের বিকাশে বড় ভূমিকা নেয়। ১৯৮০ সালে বেঙ্গল রোজ সোসাইটি গঠনের পর রাজ্যে এই চাষে আসে আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমানে ‘ডাচ রোজ’ উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। পলিহাউস ও গ্রিনহাউস প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত মানের ফুল উৎপাদন করছেন চাষিরা।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও গোলাপের জৌলুস
দেশের সবচেয়ে বড় গোলাপ উৎসব সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চণ্ডীগড়ে৷ এর পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছিল, জাকির হুসেন রোজ ফেস্টিভ্যাল৷ চলতি বছরের ২০–২২ ফেব্রুয়ারি এই গোলাপ উৎসবে প্রায় ১৬০০ প্রজাতির ৫০ হাজারের বেশি গোলাপ প্রদর্শিত হয়৷ ফুলের ভাস্কর্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভিনটেজ কার প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে এই উৎসবে ছিল আন্তর্জাতিক মানের আকর্ষণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজারের চাহিদা, সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির জোরে পশ্চিমবঙ্গে গোলাপ চাষ এখন শুধু ফুল নয়—এ এক সম্ভাবনার 'লাল' গল্প!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।