bjp-wins-wbae-2026
৪ঠা মে, ২০২৬
কলকাতা, ৪ মে: বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছিল আগেই—কিন্তু বাস্তবের ছবিটা এতটা নাটকীয় হবে, তা বোধহয় আন্দাজ করতে পারেননি শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতারাও। গণনা শুরু হতেই স্পষ্ট, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০০-রও বেশি আসনে এগিয়ে বা জয়ী বিজেপি, আর তৃণমূল নেমে এসেছে তিন অঙ্কের নীচে—এমনই ছবি কমিশন সূত্রে।
২০১১ সালে বামফ্রন্টের পতনের মধ্য দিয়ে যে ‘পরিবর্তন’-এর সূচনা হয়েছিল, ২০২৬-এ সেই বাংলাই যেন দাঁড়িয়ে আর এক মোড়ে—তবে এবার উল্টো স্রোতে। ভোটের আগে ২২৬ আসনের আত্মবিশ্বাস দেখানো তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ভেঙে পড়েছে গণনার টেবিলে।
এই ফলের নেপথ্যে একাধিক কারণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার নাম বাদ পড়ার ঘটনায় ‘ভূতুড়ে ভোটার’ তত্ত্ব সামনে আসে। সেই প্রভাবেই কি বদলেছে অঙ্ক? প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সংখ্যার হিসেবও দিচ্ছে স্পষ্ট বার্তা। প্রায় ৯২-৯৩ শতাংশ ভোটদান—বাংলার ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রথম দফায় ২১ লক্ষ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯ লক্ষাধিক অতিরিক্ত ভোট পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা এই বিপুল ভোটবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এবারের নির্বাচনে আরও একটি বড় দিক—হিংসামুক্ত ভোট। দু’দফাতেই বড় সংঘর্ষ বা প্রাণহানির খবর নেই। কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন মোতায়েন—সব মিলিয়ে নির্বাচন যেন হয়ে উঠেছিল প্রশাসনিক সক্ষমতার এক বড় পরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে ভোটের সামাজিক রসায়নও। গ্রামে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী থাকলেও শহর ও শহরতলিতে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট। সংখ্যালঘু, তফসিলি ও উপজাতি ভোটের বিভাজন তৈরি করেছে নতুন সমীকরণ। দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা—এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে প্রচার চালায় বিজেপি। পাল্টা তৃণমূল ভরসা রেখেছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী-সহ জনমুখী প্রকল্প এবং বুথ সংগঠনের উপর।
এই সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থেকেও প্রভাব ফেলেছে একাধিক ‘এক্স ফ্যাক্টর’—বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের ভোট কাটার সম্ভাবনা, ডিএ ইস্যু, বেকারত্ব, মহিলা ভোট—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিল সমীকরণ।
তবে ফলের এই প্রবণতার মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে।” সোমবার সন্ধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় এই অভিযোগ করেন তিনি।
গণনাকেন্দ্রে এ দিন বারবার উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে। দুপুরে কেন্দ্র পৌঁছনোর সময় থেকেই ‘চোর-চোর’ স্লোগানের মুখে পড়েন মমতা। ফের বেরোনোর সময়েও সেই একই স্লোগান ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের তরফে। এমনকি ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও শোনা যায়।
মমতার পৌঁছনোর আগেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা, চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ—পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন। পুলিশ ও জওয়ানরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রেও চলছে টানটান লড়াই। কখনও এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও শুভেন্দু অধিকারী। ব্যবধান ওঠানামা করছে প্রতিটি রাউন্ডেই—শেষ ফলের জন্য তাই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।