২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

শুধু পেট নয়, শরীরও ভরুক পুষ্টিতে!

শুধু পেট নয়, শরীরও ভরুক পুষ্টিতে!

সুষম খাদ্য। প্রতীকী ছবি - Google.

শুধু পেট নয়, শরীরও ভরুক পুষ্টিতে!

খিদে পেলে আমরা খাই। পেট ভরলে উঠে পড়ি। কিন্তু যে খাবার খাচ্ছি, তা শরীরের সব চাহিদা পূরণ করছে কি? আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় খুব কম মানুষই পান। অথচ চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম প্রধান শর্ত হল সুষম খাদ্য বা ব্যালান্সড ডায়েট। বর্তমান সময়ে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃদ্‌রোগ, রক্তাল্পতা থেকে শুরু করে নানা জীবনধারাজনিত অসুখের অন্যতম কারণ হল অনিয়ন্ত্রিত ও অসম্পূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। তাই শুধু খাবার খেলেই হবে না, খাবারে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান।

কী এই সুষম খাদ্য?

সুষম খাদ্য হল এমন একটি খাদ্যতালিকা, যা শরীরের প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে সরবরাহ করে। অর্থাৎ শরীরের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, কোষের মেরামতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই একটি সুষম খাদ্যে উপস্থিত থাকে। সাধারণভাবে একটি সুষম খাদ্যে সাতটি প্রধান উপাদান থাকে— শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ, খাদ্যআঁশ এবং জল।

শরীরের প্রধান জ্বালানি শর্করা

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। আমরা হাঁটছি, কাজ করছি, চিন্তা করছি বা ব্যায়াম করছি— সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন শক্তি। সেই শক্তির জোগান দেয় শর্করা।

ভাত, রুটি, আলু, ওটস, চিঁড়ে, মুড়ি, গম ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবারে প্রচুর শর্করা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ শর্করা থেকে আসা উচিত।

প্রোটিন: শরীর গঠনের কারিগর

মানবদেহের পেশি, ত্বক, রক্ত, এনজাইম এবং বিভিন্ন কোষ তৈরিতে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরীরের ক্ষয়পূরণ এবং নতুন কোষ গঠনের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।

মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, ছোলা, সয়াবিন ও পনির প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস।

দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রোটিন হওয়া প্রয়োজন।

ফ্যাট: শুধু ওজন বাড়ায় না, শরীরও বাঁচায়

ফ্যাট বা চর্বিকে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর বলে মনে করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি শরীরকে শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে, কোষের গঠন বজায় রাখে এবং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষণে সাহায্য করে।

সরষের তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম, আখরোট, কাজু, তিল ও সূর্যমুখীর বীজ স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভালো উৎস।

মোট ক্যালরির প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ফ্যাট থেকে আসা উচিত।

ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধের অদৃশ্য সৈনিক

ভিটামিন শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী, ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, আর ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

সবুজ শাকসবজি, গাজর, টমেটো, লেবুজাতীয় ফল, আম, পেঁপে ও অন্যান্য ফলমূল ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

খনিজ লবণ: শরীরের ভিত মজবুত রাখে

ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য অপরিহার্য।

ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত শক্ত করে, আয়রন রক্ত তৈরি করে, আর জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল থেকে এই খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।

খাদ্যআঁশ: সুস্থ হজমের চাবিকাঠি

খাদ্যআঁশ বা ডায়েটারি ফাইবার হজমশক্তি ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত।

শাকসবজি, ফলমূল, ওটস, ব্রাউন রাইস এবং গোটা শস্যে প্রচুর ফাইবার থাকে।

জল: জীবনের অপরিহার্য উপাদান

মানবদেহের প্রায় ৬০ শতাংশই জল। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন।

প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে আবহাওয়া, বয়স ও শারীরিক পরিশ্রমের উপর এই চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে।

সুষম খাদ্যের উপকারিতা কী?

সুষম খাদ্য শুধু পেট ভরায় না, বরং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।

নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে—

• শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ সঠিকভাবে হয়

• দৈনন্দিন কাজের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়

• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

• হাড়, দাঁত ও পেশি শক্তিশালী হয়

• হৃদ্‌রোগ, ডায়াবিটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমে

• মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে

• হজমশক্তি উন্নত হয়

• স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সহজ হয়

• অপুষ্টি ও বিভিন্ন পুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধ করা যায়

একটি আদর্শ সুষম খাদ্যতালিকায় কী থাকবে?

একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের থালায় থাকতে পারে—

ভাত, রুটি বা অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবার

মাছ, মাংস, ডিম বা ডাল

বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি

মৌসুমি ফল

পরিমিত পরিমাণে তেল ও বাদাম

পর্যাপ্ত জল

পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের থালা যত বেশি রঙিন হবে, তত বেশি পুষ্টিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ, লাল, হলুদ ও কমলা রঙের ফল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শেষ কথা

স্বাস্থ্যই সম্পদ— এই কথাটি যত পুরনো, ততই সত্য। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, অধিকাংশ অসংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে সঠিক খাদ্যাভ্যাস থেকে। তাই সুস্থ, কর্মক্ষম ও দীর্ঘ জীবন চাইলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাদ্যকে জায়গা দিতেই হবে।

কারণ ওষুধ অনেক রোগ সারাতে পারে, কিন্তু সুস্থ শরীর গড়ে ওঠে প্রতিদিনের খাবারের থালাতেই।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

ডাঃ পৌলমী রায়চৌধুরী

কলকাতায় জন্ম। উত্তর কলকাতার হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট, বিডন স্ট্রীট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ। এরপর ডাক্তারির পড়াশোনায় প্রবেশ। যাদবপুরে কে. পি. সি মেডিক্যাল কলেজ থেকে MBBS, তারপর পি. জি হাসপাতাল থেকে MD শেষ হতে হতে পেরিয়েছে অনেক গুলো বছর। লেখার ইচ্ছে ছোটবেলা থেকে। ভ্রমণ ভালোবাসেন। পেশা আর লেখা দুটোই উজ্জীবিত রাখে তাঁকে।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য