strong room-wbae2026
২৫শে এপ্রিল, ২০২৬
মুর্শিদাবাদ, ২৫ এপ্রিল: ছোটগল্পের সংজ্ঞা লিখতে গিয়ে রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, শেষ হয়েও হইল না শেষ ! প্রথম দফা ভোট পর্বের হালটাও যেন তেমনই ৷ কড়া প্রহরায় সম্পন্ন হয়েছে ভোটের প্রথম পর্ব৷ কিন্তু জনতা জনার্দনের দেওয়া সেই ভোট যদি বেমক্কা চুরি হয়ে যায় ! এই আশঙ্কাই যেন গ্রাস করেছে রাজনৈতিক শিবিরগুলিকে।
যার নিটফল, কমিশনের কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা—সব কিছু থাকলেও তাতে পুরোপুরি ভরসা রাখতে চাইছে না কেউই। তাই এবার স্ট্রংরুমের বাইরে শুরু হয়েছে ‘চোখে চোখ’ রেখে পাহারা! তাও একসঙ্গে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল গার্লস কলেজে রাখা হয়েছে জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম। প্রশাসনের তরফে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, ভিতরে প্রশাসনিক নজরদারি—সব মিলিয়ে আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা। কিন্তু তাতেই সন্তুষ্ট নন প্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, কোথাও কোনও ফাঁক থেকে গেলে বিপদ!
ফলে নিজেদের উদ্যোগেই স্ট্রংরুমের বাইরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। শুধু একটি দল নয়—তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম—প্রায় সব পক্ষই এই নজরদারিতে শামিল। স্ট্রংরুমের চারপাশে একাধিক কোণে ক্যামেরা বসিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে কোনও দিকই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ না থাকে। ২৪ ঘণ্টা সেই ফুটেজ পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছে অস্থায়ী নজরদারি শিবিরও।
স্ট্রংরুম থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে তৈরি সেই শিবিরে সারি দিয়ে বসানো টিভি মনিটর। পাশে হার্ডডিস্ক, তারের জট, জেনারেটর—সব মিলিয়ে যেন এক ছোটখাটো কন্ট্রোল রুম। সেখানে পালা করে বসে থাকছেন দলীয় কর্মীরা। কেউ চোখ রাখছেন মনিটরে, কেউ আবার আশপাশে টহল দিচ্ছেন। কারা আসছেন-যাচ্ছেন, কোনও অচেনা মুখ ঘোরাঘুরি করছে কি না, হঠাৎ কোনও অস্বাভাবিক নড়াচড়া—সব কিছুই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন বলেন, “ভোট মানুষের অধিকার। সেই ভোট যাতে নিরাপদে থাকে, তার জন্য যা করার দরকার, আমরা করছি। কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নই।” কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলির কথায়, “কমিশনের উপর ভরসা আছে ঠিকই, কিন্তু নিজেদের চোখে নজরদারি থাকলে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।” ডোমকলের সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানও জানান, তাঁরাও একই পথে হাঁটছেন—ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
এখন স্ট্রংরুম চত্বরের চেহারাই আলাদা। প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে যেন আর এক ‘রাজনৈতিক বলয়’। দিনের বেলায় যেমন সতর্ক নজর, রাত বাড়লেও তাতে ঢিল নেই। চায়ের কাপ হাতে, চোখ কিন্তু স্ক্রিনে—এ যেন টানটান উত্তেজনার প্রহর গোনা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাড়তি তৎপরতা শুধু ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগই নয়, বরং এ বার লড়াই কতটা স্নায়ুচাপে ভরা—তারই প্রতিফলন। শাসক-বিরোধী—সব পক্ষই বুঝে গিয়েছে, একটুও ঢিল দিলে খেসারত দিতে হতে পারে।
এখন দেখার, এই ‘চোখে চোখ’ পাহারা শেষ পর্যন্ত কাকে এগিয়ে রাখে। সমস্ত জল্পনার অবসান হবে ৪ মে, গণনার দিনেই।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।