নির্বাচনের মরশুম মানেই এখন আর শুধু সভা-সমাবেশ বা জনসংযোগ নয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভিস্যুয়াল প্রচারের ঝলকানি। রঙিন পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রাফিক্স—সব মিলিয়ে এক চমকপ্রদ উপস্থাপনা। কিন্তু এই ঝলমলে প্রচারের ভিড়ে প্রশ্ন উঠছে—রাজনীতির মূল বক্তব্য কি ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছে?
রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার সামগ্রীতে এখন বড় বড় প্রতিশ্রুতি, আবেগঘন স্লোগান এবং আকর্ষণীয় ছবি—সবই জায়গা করে নিচ্ছে। তবে এই বার্তাগুলির কতটা বাস্তবভিত্তিক, কতটা যাচাই করা—তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু এবার সেই সন্দেহ আরও প্রকট।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, “ভোটের প্রচার এখন অনেকটাই ‘ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভ’-এর উপর নির্ভরশীল। কী বলা হচ্ছে, তার চেয়ে কীভাবে বলা হচ্ছে—তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।” অর্থাৎ, তথ্যের গভীরতার চেয়ে উপস্থাপনার চাকচিক্যই যেন বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে ভোটারদের আকর্ষণে।
এই প্রবণতার একটি বড় প্রভাব পড়ছে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। কারণ, বারবার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ না হলে মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে অবিশ্বাস। ফলে, রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্ব কমে গিয়ে তা অনেক সময় ‘প্রচারের অংশ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, বাস্তব প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়।
গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—সব জায়গাতেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যেখানে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন বা নীতিগত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা হত, এখন সেখানে জায়গা নিচ্ছে স্লোগান-কেন্দ্রিক প্রচার। রাজনৈতিক ভাষণও অনেক সময় সংক্ষিপ্ত, আবেগনির্ভর এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব তৈরির দিকে ঝুঁকছে।
তবে অন্য দিকও রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, বর্তমান সময়ে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দিতে এবং বৃহত্তর জনসংযোগ গড়ে তুলতে এই ধরনের ভিস্যুয়াল প্রচার অপরিহার্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছতে ডিজিটাল মাধ্যমই সবচেয়ে কার্যকর বলে তারা মনে করছে। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই দ্রুততা ও চমকের ভিড়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে যুক্তি, তথ্য এবং দায়বদ্ধতা? ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা যাচাই করার প্রবণতা কি কমছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, “গণতন্ত্রে ভোটারই শেষ কথা। কিন্তু যদি তথ্যের বদলে শুধুই আবেগ বা ভিজ্যুয়াল প্রভাব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগের।”
সব মিলিয়ে, ভিস্যুয়াল প্রচারের এই প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বক্তব্যের গভীরতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এক নতুন পরীক্ষার মুখে। ভোটের ময়দানে জেতার লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—কীভাবে বলা হচ্ছে। গরজের অভাব নেই, কিন্তু তার মধ্যে সত্য কতটা রয়েছে, এখন সেটাই দেখার।
শতবর্ষের জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের মুকুটে নয়া পালক সংযোজিত। ময়দানে আরও একবার ইতিহাসকে স্পর্শ করল এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। শুভ অক্ষয় তৃতীয়ায় তারা গাঁটছড়া বাঁধল তমলুক খেলা ঘরের মতো একটা জেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে। এক বছরের এই চুক্তিতে তারা জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবকে স্পনসরশিপ করবে। কলকাতা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে জর্জ টেলিগ্রাফ খেলবে ‘তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাব’ নামে।
প্রতিষ্ঠা পাবেন জেলা ফুটবলাররা
সোমবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে এক জমজমাট সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তথা আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত, ক্লাবের যুগ্মসচিব তথা আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত, ক্লাবের এক্সিকিউটিভ সচিব অনিন্দ্য দত্তসহ সব্যসাচী সরকাররা। জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের যুগ্ম সচিব অনির্বাণ দত্ত এদিন অনুষ্ঠানে বলেন, “জেলা ও কলকাতার ক্লাবগুলো একসঙ্গে কাজ করায় নতুন খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ তৈরি হবে এবং নতুন সমর্থকও গড়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, এতে জেলা ও কলকাতার ফুটবলের মধ্যে একটি ভালো যোগসূত্র তৈরি হবে।” সুব্রত দত্ত জানিয়েছেন, ‘‘জর্জ টেলিগ্রাফ ময়দানে একটি ক্লাব নয়, এটি আবেগও। এবার আমরা ক্লাবের শতবর্ষ অনুষ্ঠান পালন করেছি।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘জেলা থেকে ফুটবলাররা যাতে কলকাতা ফুটবলের মূলস্রোতে আসতে পারে, সেই লক্ষ্যে এই গাঁটছড়া খুবই তাৎপর্যবাহী।’’
কোচ হতে চান অলোক
ক্লাবের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অনিন্দ্য দত্ত জানান, ‘‘আগামী দিনে ক্লাবকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে, যা তমলুক খেলা ঘরের পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।’’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জর্জের প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার অলোক মুখার্জি, যিনি আবেগতাড়িত হয়ে জানান, ‘‘জর্জ টেলিগ্রাফ না থাকলে আমি কোনওদিন ময়দানে প্রতিষ্ঠা পেতাম না। এটা আমার কাছে ঠাকুরঘর।’’ এই ক্লাবের মূল কোচ হতে চান অলোক।
দলের টিডি মোহনবাগানের প্রাক্তন
দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার সুমন দত্ত। উল্লেখ্য, তিনি বেঙ্গল সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স দলের সহকারী কোচ ছিলেন এবং আই লিগে রিয়াল কাশ্মীরের সঙ্গেও সহকারী কোচ হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তিনি জোরের সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের এই ক্লাবে যারা খেলবে, তারা সব জেলার ফুটবলার হবে। কেউ যেন ভেবে না নেয়, সব ফুটবলার মেদিনীপুর থেকেই নেওয়া হবে। যারা প্রতিভাবান, তাদের দরজা খোলা।’’
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই কড়া হচ্ছে শাসন। নির্বাচনের ময়দানে যেন কোনওভাবেই না ঢোকে ‘মদের ছায়া’— সেই লক্ষ্যেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা করা হল, ভোটের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই কার্যকর হবে ‘ড্রাই ডে’। শুধু তাই নয়, ফল ঘোষণার দিনও মদ বিক্রি ও পরিবেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
রাজ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই দুই পর্বের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে চালু হবে এই নিষেধাজ্ঞা। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনওভাবেই মদ বিক্রি, পরিবেশন বা সরবরাহ করা যাবে না— হোক তা দোকান, বার, রেস্তোরাঁ বা ক্লাব।
এই নিয়ম শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। একইসঙ্গে প্রযোজ্য হবে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির নির্বাচনী এলাকাগুলিতেও। অর্থাৎ গোটা দেশজুড়েই ভোটের আবহে ‘ড্রাই ডে’-র কড়াকড়ি জারি রাখছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা ‘ড্রাই ডে’ কার্যকর থাকবে। এমনকি কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন বা রি-পোল হলে সেই দিনটিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এতেই শেষ নয়— ৪ মে, যেদিন ভোট গণনা, সেদিনও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে। ফল ঘোষণার উত্তেজনার দিনেও তাই ‘চিয়ার্স’ নয়, সংযমই বার্তা।
আইনি ভিত্তিও স্পষ্ট। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্টার হোটেল বা ক্লাবগুলিও কোনওভাবেই এই নিয়মের বাইরে নয়। কড়াকড়ি শুধু বিক্রিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না— ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত মদ মজুত রাখার ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। আবগারি দপ্তর ইতিমধ্যেই সতর্ক, লাইসেন্স ছাড়া কোথাও মদ মজুত থাকলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
কমিশন সূত্রের খবর, অতীতের অভিজ্ঞতাই এই সিদ্ধান্তের মূল। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ভোটের আগে বা ফল ঘোষণার দিনে মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের ভোট-ইতিহাস বিশ্লেষণ করেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ড্রাই ডে’ শুধুই প্রশাসনিক নিয়ম নয়— এটি একটি স্পষ্ট বার্তা। ভোট উৎসব হোক, কিন্তু শৃঙ্খলার ভিতরে থেকেই— সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী উত্তাপে এবার বাড়তি ‘ঠান্ডা’ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। এখন দেখার, এই কড়া নজরদারি কতটা মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পারে।
মানুষ বিচিত্র, বিচিত্র তার মন। মানুষই লেখে ইতিহাস। তাই তার ইতিহাসও বিচিত্র।
জুলাই-এর এক দুপুরে হঠাৎই
১৫১৮ সালের জুলাই মাসের ১৪ তারিখ। ফ্রান্সের স্ট্রসবুর্গের সরু পাথর বিছানো নির্জন রাস্তা শুয়ে আছে অলসভাবে। ফ্রাউ ট্রফেয়া বেরিয়ে এলেন তাঁর বাড়ি থেকে। সাথে তাঁর মেয়ে ফ্রাউলিন এমা গোওৎজ। নৈঃশব্দকে সাক্ষী রেখে ফ্রাউ আর ফ্রাউলিন আচমকা রাস্তায় শুরু করলেন নাচ। কোনও সঙ্গীতের আবহ নেই, তাঁরা নাচতে লাগলেন এক অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত ভঙ্গিমায়। সে নাচে না আছে কোনও নির্দিষ্ট ছন্দ, না কোনও বিশেষ অভিব্যক্তি। যেন নাচের জন্যই নাচ। দিন গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে আবার সকাল–ধীরে ধীরে সেই নাচে যোগ দিতে লাগলেন আরও মানুষ, প্রতিবেশী, অচেনা পথচারী। এভাবে চলে গেল এক সপ্তাহ। কিন্তু নাচ থামল না। ততদিনে জুটে গেছে আরও প্রায় তিরিশ জন। সকলে নেচে চলেছেন অবিরাম, অক্লান্ত। কিন্তু সে ছিল ঘটনার সূত্রপাত, যা পরে এক ভয়ানক আকার ধারণ করে থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
অগস্ট ১৫১৮
ট্রফেয়া শুরু করেছিলেন যে অবিরাম নাচ, তা থামল না। সে নাচের প্রকৃতি যেন অনিচ্ছাকৃত মাংসপেশীর চলনের (involuntary muscle movements) মত যা আর নাচিয়েদের নিয়ন্ত্রণে নেই। অবিরাম হাত পা ছুড়ে যাওয়া শুধু। এক মাসে এই ঘটনার শিকার হলেন আরও প্রায় চারশো মানুষ। অস্বাভাবিক ঘাম, পা থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ আর দুচোখে অভিব্যক্তিহীন শূন্য দৃষ্টি। কিন্তু কুছ পরোয়া নেহি।
‘ডান্সিং ম্যানিয়া’। প্রতীকী ছবি: দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস
স্বাভাবিক কারণেই অসুস্থ হতে শুরু করলেন একে একে। আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে, খিদে-তৃষ্ণায়, শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে গিয়ে একে একে ঢলে পড়লেন মৃত্যুর বুকে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন মানুষ মারা যেতে থাকলেন, যদিও সঠিক সংখ্যা আজও অজানা রয়ে গেছে আরও অনেক কিছুর মত। নাচের মরণ-ফাঁদ জন্ম দিল মহামারীর, যা ইতিহাসে ‘ডান্সিং ম্যানিয়া’ বা ‘ডান্সিং প্লেগ’ বলে পরিচিত হয় পরে।
রহস্য
অনেক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই ‘মরণ-নাচ’ অবশেষে কর্তৃপক্ষের নজরে এল। চিকিৎসক, স্থানীয় বৃত্তান্ত, সিটি কাউন্সিলের রিপোর্ট ইত্যাদিতে মানুষ যে অবিরত নাচছিলেন তা নিশ্চিতভাবে বলা হলেও নাচের নির্দিষ্ট কারণ অজানাই রয়ে গেছে।
গিল্ডের পদক্ষেপ
দাবি রয়েছে, গিল্ড হলগুলো সংস্কার করা হয় ও নাচে আক্রান্ত মানুষদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি সঙ্গীতশিল্পী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের আনা হয় যাতে নাচের উন্মাদনায় আক্রান্তদের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে নাচ বন্ধ করা যায়। কিছু পেশাদার নৃত্যশিল্পীকেও ‘মরণ-নাচ’-এর দলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু ফল হল উলটো। মানুষজন বিশ্বাস করতে শুরু করল যে এটি ‘সেন্ট ভিটাস’-এর শাস্তি। এই ভয়ে ও ‘পাপমুক্ত’ হওয়ার আশায় আরও অনেকে এই ‘নাচ-মহামারী’তে যোগ দিল।
১৫১৮ সালের অগস্টের শেষ নাগাদ প্রায় ৪০০ জন এই উন্মাদনায় আক্রান্ত হন। শেষ পর্যন্ত তাদের গাড়িতে তুলে একটি ‘আরোগ্য তীর্থস্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এই মহামারী ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ও থেমে যায়।
তত্ত্ব ও তথ্য
১৯৫২ সালে প্রকাশিত ‘Religious Dances in the Christian Church and in Popular Medicine’ বইটির লেখক ইউজিন ব্যাকম্যান (Eugene Backman) নৃত্য-উন্মাদনার একটি জৈবিক বা রাসায়নিক উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় ব্যাকম্যান এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা কারণ হিসেবে বলেন, সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো এক ধরনের ছত্রাক, যা স্যাঁতসেঁতে রাই শস্যের কাণ্ডে জন্মায় ও খাবারের সাথে খাওয়া হলে এটি তীব্র খিঁচুনি ও বিভ্রম সৃষ্টি করতে পারে।
‘A Time to Dance, a Time to Die: The Extraordinary Story of the Dancing Plague of 1518’ বইয়ের লেখক জন ওয়ালার (John Waller) ব্যাকম্যানের তত্ত্বকে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ছত্রাকের প্রভাবে দিনের পর দিন এভাবে নেচে যাওয়া অসম্ভব।
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট বার্থলোমিউ (Robert Bartholomew)-এর মতে নাচতে থাকা মানুষ একটি ধর্মদ্রোহী আচার (ritual) পালন করছিলেন। কিন্তু জন ওয়ালার এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘নৃত্যকারীরা নাচতে চেয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং, লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী, তারা ভয় ও হতাশা প্রকাশ করছিল।’
ওয়ালার অনুমান করেন যে এই নাচ ছিল ‘মানসিক চাপজনিত বিকার’ (stress-induced psychosis) যা গণপর্যায়ে ঘটে। কারণ যে অঞ্চলে এই নাচের ঘটনা ঘটেছিল সেখানে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধি সে সময়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেখানকার মানুষজন কুসংস্কারপ্রবণ ছিলেন। মধ্যযুগীয় সময়ে একই অঞ্চলে নাচের মহামারীর আরও সাতটি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়।
কিন্তু কারণ যাই হোক, ইতিহাস সাক্ষী হয়ে রইল এক বিরল ঘটনার, এক বিরল মহামারীর।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির যে তত্ত্ব নির্বাচন কমিশন হাজির করেছে, তা বর্তমানে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এক চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই জটিলতায় পড়ে ভোটাধিকার হারিয়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ। প্রশাসনের এই যান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত একটি সাংবিধানিক সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে কমিশনের এক অদ্ভুত নিয়ম। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন করে নথিপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই যাচাই প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের নথিপত্রে নামের বানানের সামঞ্জস্য থাকা প্রায় অসম্ভব। কোথাও ‘মকবুল শেখ’ হয়ে গেছেন ‘শেখ মকবুল’, আবার কোথাও ‘অনিল মুখোপাধ্যায়’ নথিতে ‘অনিল মুখার্জি’ হিসেবে চিহ্নিত। কোনো মহিলার বিয়ের আগের পদবি বর্তমান নথির সাথে না মেলায় তাকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারের কাছে কোনো সাংস্কৃতিক বিচারবুদ্ধি না থাকায় সামান্য বানানের হেরফেরকে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে লক্ষ লক্ষ নাম খারিজ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলেও সময়ের অভাবে তারা যথাযথ বিচার করতে পারেননি। ৬ ও ৯ এপ্রিলের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করার চাপে বহু আবেদনকারীর নথি কেন বাতিল হল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা চূড়ান্ত তালিকায় নেই তারা ভোট দিতে পারবেন না। যদিও ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে, কিন্তু ২৭ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করতে যে সময় লাগবে, তাতে বর্তমান নির্বাচনে ওই ভোটারদের অংশগ্রহণ অসম্ভব।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। নাম বাদ যাওয়া মানে কেবল ভোট দিতে না পারা নয়, বরং নিজের নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্ক। সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে এই আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। নথিপত্র জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু কিংবা মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যার খবরও পাওয়া গেছে। তদুপরি, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটারদের বাদ পড়ার হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং তড়িঘড়ি নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েক মিলিয়ন বৈধ নাগরিককে নিজের দেশেই পরবাসী করে তুলল কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
অ্যাপল প্রযুক্তি দুনিয়ায় যা ঝড় তুলতে চলেছে, তাতে মনে হয় বাজারে যেটাই নিয়ে আসুক, তার চাহিদা বেশি থাকে। অ্যাপল সম্ভবত আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স-এ একই ৬.৩-ইঞ্চি এবং ৬.৯-ইঞ্চি প্রোমোশন ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করবে তাদের আনা নতুন ফোনে।
আই ফোনের মডেল বদল
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে এর আগের তুলনায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড কাটআউটও থাকতে পারে। এছাড়াও বলা হচ্ছে যে, অ্যাপল গত বছরের ডুয়াল-টোন লুক বাদ দিয়ে ব্যাক গ্লাস এবং অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের লুক নিয়ে এসেছে। ফোনগুলো এ২০ চিপে চলবে।
আইফোন প্রো ম্যাক্স
সবচেয়ে বড় ব্যাটারি
এটি টিএসএমসি-র ২ এনএম প্রক্রিয়ায় তৈরি, যা আগের ফোনের তুলনায় ১৫ শতাংশ দ্রুত এবং ৩০ শতাংশ বেশি কার্যকরী বলে জানা গেছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এ ৫,১০০–৫,২০০এমএএইচ ক্ষমতার আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাটারি থাকতে পারে। ফোনটিতে অ্যাপলের নিজস্ব সি ২ মডেমও থাকতে পারে, যা এর কোয়ালকম মডেমের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে।
কবে আসছে, দামই বা কত
গত কেন্দ্রীয় বাজেটে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। সেই কারণে অ্যাপলের আই ফোনের দামও বাড়বে। ভারতীয় মূল্যে এর বাজারদর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এই ফোনগুলি আসতে পারে এশিয়ার বড় বড় মার্কেট থেকে, যেমন দুবাই, কাতার, সৌদি থেকে। আগে মরুশহরে মার্কেটিং হয়ে ভারতে আসতে সেপ্টেম্বর মাস হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে তেহরান এই আলোচনায় যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল। এবারের পরিকল্পনা ছিল বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনা চালিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা, যাতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। কিন্তু সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান তাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি।
ট্রাম্পের হুমকি ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেন যে, তাঁর প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ যাচ্ছেন। তবে এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, শনিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের গানবোট থেকে ব্রিটিশ ও ফরাসি জাহাজে গুলি চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আশা করি তারা এটা গ্রহণ করবে। যদি না করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং প্রতিটি ব্রিজ উড়িয়ে দেবে। আর কোনো উদারতা নয়!”
সমুদ্রে সংঘাত: ওমান উপসাগরে জাহাজ আটক
উত্তেজনা আরও বাড়ে সোমবার ভোরে, যখন ট্রাম্প জানান যে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামক একটি ইরানি কার্গো জাহাজকে আটকে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটি থামার নির্দেশ অমান্য করায় মার্কিন নৌবাহিনী সেটির ইঞ্জিন রুমে গোলা ছুড়ে সেটিকে অকেজো করে দেয় এবং বর্তমানে মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘জল ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ
দুই দেশের এই সামরিক রেষারেষির মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান আলোচনার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। ম্যারিয়ট ও সেরেনা হোটেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো খালি করে দিয়ে সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঁটাতারের বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের অষ্টম সপ্তাহে এসে এই আলোচনা আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদ্দাম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে শান্তির পথে হাঁটা কঠিন। এছাড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবার ইসলামাবাদে আসছেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে ঝুলে আছে বহু প্রতীক্ষিত এই শান্তি আলোচনার ভাগ্য।
রূপ, মেধা আর আত্মবিশ্বাস— এই তিনের মেলবন্ধনেই দেশজুড়ে প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে শীর্ষে উঠে এলেন সধ্বী। মহারাষ্ট্রের রাজনন্দিনী পাওয়ার প্রথম রানার-আপ এবং শ্রী অদ্বৈতা দ্বিতীয় রানার-আপ হন।
সধ্বী সতীশ সাইল। ছবি: Instagram
সৌন্দর্যের সঙ্গে সামাজিক বার্তা শুধু গ্ল্যামার নয়, সমাজসেবাতেও সক্রিয় এই তরুণী। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সাহায্যে কাজ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সচেতনতা নিয়ে নানা উদ্যোগে যুক্ত সধ্বী। মডেলিংয়ের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন তিনি— যা তাঁকে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করেছে।
গোয়ার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় এই জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, গোয়ার জন্যও গর্বের। কারণ, প্রথমবার কোনও গোয়ান তরুণী এই খেতাব জিতলেন। মুকুট জয়ের পর সধ্বীর প্রতিক্রিয়া, “এই মুহূর্তটা স্বপ্নের মতো। আমরা সবাই বিজয়ী”— এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব এবার তাঁর লক্ষ্য আরও বড়, বিশ্বমঞ্চ। ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন সধ্বী, যেখানে দেশের সম্মান তুলে ধরাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ঝলমলে ফিনালে, নজরকাড়া উপস্থিতি ফিনালের মঞ্চে রূপোলি গাউনে নজর কেড়েছেন তিনি। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি ও সাবলীল উত্তরেই বিচারকদের মন জয় করেন।
এক সাধারণ শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় মঞ্চ জয়— সধ্বী সাইলের এই সাফল্য শুধু সৌন্দর্যের নয়, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও স্বপ্নপূরণের গল্প। এখন গোটা দেশের নজর তাঁর দিকে— বিশ্বমঞ্চে কতটা উজ্জ্বল হন, সেটাই দেখার।
শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে 5G ইন্টারনেট পরিষেবা। ইতিমধ্যেই 6G প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণাও জোরকদমে শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবের আড়ালে কি চুপিসারে বদলে যাচ্ছে আমাদের পরিবেশ? বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো কৃষিনির্ভর ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাজ্যে এই প্রশ্ন এখন বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অদৃশ্য তরঙ্গের প্রভাব! কতটা বাস্তব?
5G ও ভবিষ্যতের 6G প্রযুক্তি মূলত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (EMF) ব্যবহার করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই তরঙ্গের প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃতির ওপরও এর সম্ভাব্য প্রভাব রয়েছে। একাধিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বলছে, পোকামাকড় বিশেষ করে মৌমাছি এই উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বেশি শোষণ করে, কারণ- তরঙ্গের দৈর্ঘ্যের সাথে তাদের শরীরের আকারের সাদৃশ্য।
মৌমাছি বিপদে?
মৌমাছি শুধু মধু দেয় না- পরাগায়নের মাধ্যমে কৃষির মেরুদণ্ডও। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ মৌমাছির ‘হোমিং ক্ষমতা’ (Homing Ability/Capacity) কমিয়ে দিতে পারে।
মৌমাছি বিপদগ্রস্ত?
মৌমাছির ‘হোমিং ক্ষমতা’ কী?
মৌমাছির নিজের মৌচাক বা বাসস্থান থেকে অনেক দূরে (কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত) অপরিচিত স্থানে বা খাদ্য সংগ্রহের জায়গায় গিয়ে পুনরায় সফলভাবে নিজ মৌচাকে ফিরে আসার অসাধারণ ক্ষমতা । এছাড়াও আরও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, এই বিকিরণ তাদের খাবার খোঁজার দক্ষতাকেও ব্যাহত করতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের ধান, সবজি, ফল উৎপাদনে।
পাখিদের দিশেহারা উড়ান
শুধু পোকামাকড় নয়, পাখিদের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষণা বলছে, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ পাখিদের “ম্যাগনেটিক কম্পাস” বা দিক নির্ণয়ের ক্ষমতা বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলে পরিযায়ী পাখির পথ ভুল হওয়া, বাসা বাঁধার অভ্যাসে পরিবর্তন, প্রজননে সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী বিকিরণ এলাকায় চড়ুইয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
চড়ুই পাখি কি কমে যাচ্ছে?
গাছপালা ও ইকোসিস্টেমে প্রভাব
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক দূষণ’ গোটা ইকোসিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্ভিদ, পোকা, প্রাণী—সবাই কোনও না কোনওভাবে এই তরঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মৌমাছি কমে যায়, পাখির সংখ্যা হ্রাস পায়, তাহলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে কি আতঙ্কের কারণ?
বিজ্ঞানী মহলের একাংশ বলছে, এই প্রভাব নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেক গবেষণাই প্রাথমিক স্তরে, এবং সব ক্ষেত্রেই একই ফল পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মতে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে ৫জি বিকিরণ মানুষের জন্য নিরাপদ, তবে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বাংলার বাস্তবতা
পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল, ধানক্ষেত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ—সব মিলিয়ে এই রাজ্য একটি সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম। এখানে—
কৃষি নির্ভরতা বেশি, পোকামাকড় ও পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ৷ ফলে নতুন প্রযুক্তির প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।
সামনে কী পথ?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: টাওয়ার স্থাপনে পরিবেশগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কৃষি ও বনাঞ্চলে বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বাড়ানো জরুরি৷
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ভারতের পথে ৫জি ও ৬জি এক অনিবার্য বাস্তবতা। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, দ্রুত ইন্টারনেটের দৌড়ে আমরা কি নিজেদের অজান্তেই হারাচ্ছি প্রকৃতির নীরব সহযোদ্ধাদের?